মুক্তির সন্ধান।

জগতে মানুষের ভাল করতে যাওয়া ও সহজ কথা নয়, অষ্টেপৃষ্ঠে এক মরন ফাঁদে জড়িয়ে থাকা মানুষদের মুক্ত করতে চেষ্টা করাও ভয়ানক বিপদ জনক, সুযোগ পেলে তারায় আবার মরন ছোবল বসায়।

গ্যাংগ্রিন আক্রান্তরা জানেনা কি মরন ব্যাধিতে তাদের পেয়ে বসেছে। অভিজ্ঞ ডাক্তার নির্মম ভাবে শরীরের সেই পচা অংশটুকু কেটে ফেলেন বলে ডাক্তার সেই রোগীর প্রতি নির্দয় নয়, সে তাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য নির্মম হস্তে ছুরি চালান না। ডাক্তারের অবিচল নির্বিকার চুরি চালানোর উদ্দেশ্য নিশ্চয় মহৎ, যে জানে সে শ্রদ্ধায় অবনত হয়।

বর্তমান জগতের আদিম, অবিকশিত, পচা গ্যাংগ্রিন আক্রান্ত অংশটুকুর নাম ধর্ম। এই আদিম পচা গ্যাংগ্রিন পৃথিবীর যে অংশে প্রবল সেখানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিক্ষা, সংস্কৃতি আর বেড়ে উঠতে পারেনি। সত্যি সে সব মানব সভ্যতার এক পচা রোগাক্রান্ত অঞ্চল।

এখন সময় এসেছে সভ্যতার সে পচা অংশটুকু কেটে ফেলবার, তা সে যতই নির্মম হস্তে হোক। এতে করে জগতের মঙ্গলই হবে, অমঙ্গল নয়।

একটা জায়গায় গিয়ে অনেকেই বুঝবার ভ্রান্তি ঘটে ধর্ম আর ধার্মিক নিয়ে; আমরা জগতের ধর্ম অপসারণ করতে চাই, ধার্মিক নয়। ধার্মিক মানুষ সাধারণত এই দুয়ের পার্থক্য করতে পারেন না। রোগ আর রুগী যেমন এক নয়, পাপ এবং পাপীর পার্থক্য আমরা সবায় বুঝি, তেমনি ধর্ম আর ধার্মিকের পার্থক্যও আমাদের বুঝতে হবে। মানুষকে ঘৃণা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের জীবনের সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িয়ে থাকা ধার্মিক মানুষদের আমরা ঘৃণা করতে পারিনা। বরং সেই ধর্মকেই ঘৃণা করা উচিৎ যা মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে, ঘৃণা করতে শেখায়। ভিন্নধর্মী বলে যে আমার পাশের বাড়ির প্রতিবেশীকও দূর করে রাখে। ধর্ম যেখানে প্রবল সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি সেখানে হাস্যকর শব্দ।

শ্যাম আর কুল দুই একসাথে রাখা যায়না। তেমনি ধার্মিক এবং আধুনিক মানুষ এই দুই একসাথে হয়না, একটি হতে হলে অন্যটির সাথে ঠিক ততটুকুই কম্প্রোমাইজ করতে হয়। যে কারণে এযুগের ধার্মিক মানুষ মানেই এক বিভ্রান্ত জনগোষ্ঠী, তারা কতক ধরে, কতক ছেড়ে আধুনিক জীবন ও ধর্ম পালন করেন। মানুষের উন্নত চিন্তা চেতনা, চেষ্টা, পরিশ্রমের ফসল তারা দ্বিধা জড়তায় গ্রহণও করতে পারেনা, আবার ছেড়েও দিতে পারেনা। যেমন প্রথম দিকে তারা রেডিও টেলিভিশনের ব্যবহার হারাম মনে করত, এখনও তারা দ্বিধা জড়তায় তা ব্যবহার করে।

তেমনি হাজারটা উদাহরণের একটি হল ব্যাংকিং সিস্টেম, এটি তারা হারাম মনে করে, তারা বুঝতে পারেনা এটি মানুষের উন্নততর বুদ্ধি ভিত্তিক অর্থনৈতিক লেনদেন ব্যবস্থা। টাকা জমিয়ে যদি ঘরের সিন্দুকে বোঝায় করে রাখা যেত তাহলে কারুই কোন লাভ হতনা, উপরন্তু চুরি যাওয়া, নষ্ট হওয়া, খোয়া যাওয়ার ভয় থাকত। ব্যাংকিং সিস্টেমের ফলে অর্থ যেমন নিরাপদ থাকে, তেমনি এই অব্যবহৃত অর্থ অন্য কেউ ব্যবহার করে নিজে লাভবান হন, ব্যাংককেও লাভবান করেন, জমানতদারো লাভবান হন। অথচ একই কৌশল ভিন্ন নামে ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংক ওয়ালারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে নির্বোধেরা তা হালাল মনে করে।

আধুনিক সভ্যতায় এমন অজস্র অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান মানুষের মঙ্গল করে চলেছে যা আদিম নির্বোধ মানুষের অন্ধ কাল্পনিক ধর্মের সাথে যায়না। এ যুগে পুরোপুরি ধর্ম মেনে জংগলে গিয়েও বসবাস সম্ভব নয়। সুতরাং “ধর্মানুভূতি” এ যুগের বহুল প্রচলিত সবচেয়ে বাজে কথা। এটা ব্যবহার করে দেশে দেশে সংখ্যা গুরুরা শুধু মাত্র সংখ্যা লঘুদের নিষ্পেষণ করতে পারবে আর কিছু নয়। এক দেশের প্রবল অনুভূতি অন্য দেশে তা মূল্যহীন, যেমন বাংলাদেশের ধর্ম অনুভূতি ভারতে মূল্যহীন আবার ভারতের গরু অনুভূতি সারা দুনিয়ায় তা অকার্যকর।

সুতরাং এইসব ফালতু অনুভূতি যতই ঘঁসে ঘঁসে এর স্পর্শকাতরতা ভোঁতা করা যাবে, কিংবা এই জাতীয় অনুভূতির মূল্যায়ন লাথি দিয়ে তাড়ানো যাবে ততই জগতের মঙ্গল, মানুষের মুক্তি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 3 =