বাংলাদেশে খুব সহজে মুসলমান হওয়ার উপায়সমূহ:


এইজাতীয় পশুগুলোই প্রকাশ্যে অস্ত্র-উঁচিয়ে সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে মন্দির ও হিন্দুসম্প্রদায়ের উপর হামলা করছে।

এই দেশে ধার্মিক-মুসলমানের সংখ্যা সত্যিই কম। আর নামধারীমুসলমানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর এদের সংখ্যাই দিন-দিন বানের জলের মতো বাড়ছে। আর এই নামধারী-মুসলমানগুলো ইসলাম, মানুষ, মানবতা ও মুসলমানের কোনো উপকার তো করছেই না—বরং এরা সদাসর্বদা দেশ ও জাতির সর্বনাশের অপচেষ্টায় লিপ্ত। আর এই অমানুষগুলো ইসলামধর্মের মোড়কে তাদের যাবতীয় শয়তানী ও বদমাইশীকে হালাল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
আল্লাহ-রাসুল ও ইসলামকে ভালোবেসে এই দেশে মুসলমান হয়েছে কয়জন? এর তুলনায় বেশিরভাগই পাকিস্তানকে ভালোবেসে সহজে মুসলমান হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে খুব সহজে মুসলমান হওয়া যায়। আসলে, এরা কেউই মুসলমান নয়। এরা মুসলমান-নামধারী-শয়তান। আর এরা ইসলামের শত্রু। এখানে, বাংলাদেশে খুব সহজে মুসলমান (নামধারী-মুসলমান) হওয়ার উপায়সমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১. মুসলমান হতে হলে প্রতিদিন হিন্দুদের ‘মালাউন’ ও ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলে গালিগালাজ করতে হবে। আর তা দিনে কমপক্ষে ৩০ বার!
২. প্রতিদিন হিন্দুদের মূর্তি ও মন্দির ভাঙ্গার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আর তা করতে না পারলে অন্তত মনে মনে মূর্তি ভাঙ্গার কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। আর জীবনে একবার হলেও হিন্দুদের মূর্তি, মন্দির কিংবা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের গির্জা, প্যাগোডা, মঠ, বৌদ্ধ-মন্দির ইত্যাদি ভাংচুর করতেই হবে।
৩. মাঝে-মাঝে ইসলামধর্মের অবমাননার অজুহাতে হিন্দুদের মূর্তি, মন্দির, বাড়িঘর ইত্যাদি ভাংচুর ও লুটপাট করতে হবে। আর এটাকে সওয়াবের কাজ মনে করতে হবে। [যেমন—১৯৭১ সালে শয়তানের জারজপুত্র-পাকবাহিনী ও তার দোসররা হিন্দুদের ঘরবাড়ি-লুটপাটকে জায়েজ, হালাল ভাবতো, এবং তা সওয়াবের কাজ বলে মনে করতো।]
৪. হিন্দুনারীদের ধর্ষণ করাকে সবসময় জায়েজ ভাবতে হবে। আর সবসময় হিন্দুনারীদের ধর্ষণ করার চেষ্টা করতে হবে। [যেমন—১৯৭১ সালে শয়তানের জারজপুত্র-পাকবাহিনী ও তার দোসররা হিন্দুসহ যেকোনো বাঙালি-নারীদের ধর্ষণ করাকে জায়েজ মনে করতো। আর তারা এটাকে পবিত্র ইসলামের দোহাই দিয়ে ‘মালে গনীমত’ বলে অভিহিত করেছিলো।]
৫. সবসময় ভারতের বিরোধিতা করতে হবে। আর দিনে কমপক্ষে ৪০বার ভারতকে গালি দিতে হবে।
৬. সবসময় মনে করতে হবে: ইসলাম মানে পাকিস্তান। আর মুসলমান মানে পাকিস্তান। তাই, চিরদিন হৃদয়ে পাকিস্তানকেই ধারণ করতে হবে।
৭. ক্রিকেট খেলার সময় জীবনে-মরণে সবসময় কায়মনোবাক্যে একমাত্র পাকিস্তানকে সাপোর্ট করতে হবে। আর পাকিস্তানের খেলা দেখাটাকেও ইবাদত মনে করতে হবে। আর পাকিস্তানের খেলা দেখা সবসময় জায়েজ! [আমাদের দেশের নামধারী-মুসলমানগুলো সবসময় তা-ই মনে করে থাকে।]
৮. পবিত্র কুরআনকে সারাজীবন শুধু রাজনীতি, নিজেদের ব্যবসা, আর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কাজে ব্যবহার করতে হবে। [আমাদের দেশের একশ্রেণীর শয়তান এখন ‘মুসলমান সেজে’ ঠিক এই অপকর্মগুলোই করছে। আর এরা পবিত্র কুরআনকে প্রকারন্তরে অবমাননাই করছে। আর এরা সবসময় পবিত্র কুরআনের অপব্যাখ্যাই করছে।]
৯. মুসলমান হতে হলে জীবনে-মরণে সবসময় পাকিস্তানের প্রতি অবিচল-বিশ্বাস ও চির-আনুগত্য বজায় রাখতে হবে। [বাংলাদেশের নামধারীমুসলমানগুলো সারাজীবন এই কাজটিই করছে।]
১০. নারীধর্ষণকে সবসময় ‘জায়েজ’ ও ‘হালাল’ মনে করতে হবে। [১৯৭১ সালে মুসলমাননামধারী শয়তানের জারজপুত্র পাকিস্তানীরা বাঙালি-জাতির বিরুদ্ধে এই শয়তানীফতোয়া জারী করেছিলো।]
১১. মুসলমানিত্ব থাকবে শুধু মুখে-মুখে। আর ভিতরে-ভিতরে সবসময় মদ, জুয়া, পরস্ত্রীহরণ, ব্যভিচার, সুদ, ঘুষ ইত্যাদি জায়েজ মনে করতে হবে, আর তা সারাজীবন চালিয়ে যেতে হবে। আর এইটাকে নিজের জন্য হালাল-জ্ঞান করতে হবে। [ ১৯৭১ সালে শয়তানের জারজপুত্র পাকবাহিনী ছিল মদ্যপায়ী, পরস্ত্রীহরণকারী, মানুষহত্যাকারী আর ব্যভিচারী। আর বাংলার নামধারীমুসলমানশ্রেণীটি আজও সেই শয়তানশ্রেণীটিরই অনুসারী।]
১২. নিজের স্বার্থে মানুষহত্যাকে (স্বধর্মী বা অন্য ধর্মাবলম্বীকে হত্যা করাকে) সবসময় জায়েজ মনে করতে হবে। আর একটু সুযোগ পেলেই মানুষহত্যা করতে হবে। [আজকের দিনে একশ্রেণীর জানোয়ার অহেতুক মানুষহত্যাকে ধর্মজ্ঞান করছে।]
১৩. গঠনমূলক সমালোচনা না করে জীবনে-মরণে সবসময় ভারত ও রাশিয়ার বিরোধিতা করতে হবে। আর সবসময় তাদের পিছনে লেগে থাকতে হবে। আর সবসময় পাকিস্তানের প্রশংসা করতে হবে।
১৪. পবিত্র ইসলামকে শুধু নিজের ও নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে। [সেই ইংরেজআমল আর সেই পাকিস্তানআমল থেকেই এই নামধারীমুসলমান নামক শয়তানশ্রেণীটি এই অপকর্মই করে যাচ্ছে। এদের কেউই এখনও পর্যন্ত মুসলমান হয়নি।]
১৫. একটু সুযোগ পেলেই হিন্দুধর্মাবলম্বীসহ যেকোনো সংখ্যালঘুসম্প্রদায়ের জায়গাজমি, ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি দখল করে নিতে হবে। আর এটিকে সবসময় জায়েজ মনে করতে হবে।
১৬. জীবনে-মরণে সবসময় অপকর্ম করেই যেতে হবে। আর এর থেকে বাঁচার জন্য আওয়ামীলীগ অথবা বিএনপি-জামায়াতের মতো কোনো রাজনৈতিক সংগঠনে আশ্রয় নিতে হবে। [আর এভাবে বেঁচে থাকতে হবে। আর ধর্মের নামে এভাবে শয়তানী করে যেতে হবে।]


বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ধর্মের নামে আর মুসলমানের নামে এক সন্ত্রাসের জনপদ।



এখন অস্ত্রহাতে নিলেই একশ্রেণীর পশু নিজেকে মুসলমান ভাবে! মুসলমানিত্ব কি এতোই সহজ?

[বি.দ্র. যারা সত্যিকারের মুসলমান, আর মহান আল্লাহ-রাসুল, ইসলাম, মানুষ আর মানবতার দিশারী তারা এই লেখার আওতার বাইরে।]

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৩/১১/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 1