আমি মালাউন বলছি !!

সেই ছোটবেলার কথা,
এখনো মনে আছে গাঁথা।
ভুলব কি করে?
পত্রিকা খুললেই মনে পড়ে।

পাড়ার বন্ধুদের সাথে;
থাকতাম যখন খেলায় মেতে,
তখনও কিন্তু জানতাম না আমি,
ব্যবধান আছে তাদের সাথে।

ঝগড়াবিবাদে কথা কাটাকাটিতে
আমি গালি খেতাম ভিন্ন শব্দে।
জন্ম হতে আজ অবদি,
সেই গালি আমি অনেক শুনেছি।

স্কুলে টিফিনের পর,
একটা ক্লাসে ভিন্ন আমি-
অন্য এলাকার অন্যদের সাথে।
তারাও না-কি আমার মতো,
অভ্যস্ত সেই গালিতে।

মাঝে মাঝে স্কুল-এলাকার বন্ধুরা;
বেড়াতে আসত আমার বাড়িতে।
আমার দাদী ছিলো ভীষন কড়া,
ঢুকতে দিত না তার তাঁর ঘরে।
তবুও ওরা লুকিয়ে লুকিয়ে,
ঢুকত দাদীর তাঁর ঘরে।
আমিই দিতাম সুযোগ করে।
ওরা তাঁর বুক, বুকের স্তন,
নাভি, নাভির নিম্নাঙ্গ নিয়ে
বাজে কথা বলতো হেসে হেসে।
জিজ্ঞেস করতো-দশ হাতে
এই নারী কয়জনের সাথে?

ওদেরই কি দোষ?
বড়দেরও দেখেছি
যারা আমার প্রতিবেশী- বলতো
হু! দূর্গা মা! নাকি দূর্গা- মাগী।
তখন কি আর বুঝতাম আমি
কোনটাকে বলে ধর্মানুভূতি।

আস্তে আস্তে বড় হচ্ছি
কেমন যেন গুটিয়ে যাচ্ছি।
আমার বাবার মতো
মাথাটাকে নিচু করে।
আমার একটা বোন ছিল
ঐযে এলাকার বন্ধুরা
ওরা ডাকত মাল বলে।
মাঝে মাঝে তাকেও
শুনতে হতো ঐ গালিটা
থাকত সাথে মাগী শব্দটা।

একদিন তাকে ধরে নিয়ে যায়
ভার্সিটির গেইট থেকে।
ফিরে যখন পাই তখন আর নেই,
আছে শুধু তার রক্তাক্ত দেহ।
স্তনের মাংস কামড়ে নিয়েছে,
নিম্নাঙ্গ কেটেছে ব্লেড দিয়ে।
পেরে ওঠেনি মেয়েটা
তাদের ঐ দশটি হাতে।

সেই থেকে বাবা চুপসে গেছে
মায়ের কান্না সারাক্ষণ তাঁর ঘরে
বাবা যেন রাজি হয়-চলে
যাবো আমরা ওপারে ।
বাবা কেবল মাটি মাটি করে
মাটির দিকে তাকিয়ে থেকে।
আমি মনে মনে বলি,
এই মাটি আর সেই মাটী
আসলেই তফাৎটা কি ?
এখন না বুঝি,
এখানে ক্ষমতা তাদের তাঁর
ওপারে আমাদেরটার।

থেকে গেলো মাটির টানে
তাই মা আজো কাদে তাঁর ঘরে।
তারপর একদিন অন্ধকার রাতে
ধান-দাড়িপাল্লার হুজুরেরা
বাবাকে শোনায়- পঙ্গু করে দেয়ার কথা।
ভোট যদি যায় নৌকার পালে ।

নৌকার নেতা আসে না ঘরে,
ভোটতো যাবে নৌকারই তরে।
ঐযে ঐ গালিটা দিয়েই বলে
উপায় নাই তাদের, ভোট না দিয়ে।
আমরা নাকি ভোট-ব্যাংক তাদের,
একাউন্ট খোলা- শেখ মুজিবের।

বাবা মাটি মাটি করে,
মাটি হারালো। জমি জমা
অনেক খোয়া গেলো।ব্যবসা এখন
বন্ধ আছে। চান্দার কাছে হার মেনেছে।
বাবার কথা চাকরি করবি,
যতো পারবি আড়ালে থাকবি।
মাটির সাথে মিশে চলবি।

সেই থেকে আমার ছোট হওয়া,
মাটির সাথে মিশে যাওয়া।
গালি খেয়েও মিষ্টি হাসি;
ভাব করি এমন,
আমার আবার কিসের প্রতিবাদ;
আমি মালাউন।

ছোটবেলা থেকে এই গালিতে,
পরিচিত হয়েছি সবার কাছে।
তবুই মেনে নেয়নি মনে মনে।
আজ যখন রাষ্ট্রযন্ত্র
নীরব থেকে জানায়
এটাও তাদের মন্ত্র।
তখন আর চুপ থাকি না,
বুড়ো বাপের টুটি ধরি;
মালাউনের বাচ্চা!
মাটি মাটি করে বাল ফালালি
আর কবে তর শেখের বেটী?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 29 = 38