ফেসবুক ব্যবহার যখন দন্ডনীয় অপরাধ


বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম হল ফেসবুক। ফেসবুকের কারণে অনেক দূরের মানুষকে, অনেক দিনের অদেখা মানুষকে যেমন কাছে পাওয়ার সুযোগ হই। তেমনি ফেসবুকের অপব্যবহার মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। যেমন, কারো সম্পর্কে ফেসবুকে অশোভন লেখালেখি, কারো অশ্লীল ছবি প্রকাশ এবং কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য যে কোন ধরনের পোস্ট আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। আসুন আমরা আইন সম্পর্কে জেনে নিই। উপরোক্ত ধরনের কাজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী “কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা স¤প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে অপরাধ”। কোন ব্যক্তি এই ধারার অপরাধে অভিযুক্ত হইলে সর্বোচ্চ ১৪ বছর এবং সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদন্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন। কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের মামলা থানায় দায়ের করতে হবে। বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং বিচারক হবেন দায়রাজজ বা অতিরিক্ত দায়রাজজ পদমর্যাদার একজন বিচারক। ৫৭ ধারার অপরাধ জামিন অযোগ্য এবং ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন। অনেক ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের পরে স্বামী/স্ত্রী একজন অপরজনের ছবি পোষ্ট করে অপরকে বিব্রত করে যা এই ধারার অপরাধ। তাছাড়া অনেক সময় উঠতি বয়সের ছেলেরা আবেগের বশে কোন মেয়েকে নিয়ে বাজে মন্তব্য প্রকাশ বা খারাপ ছবি তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করে, এটিও এই ধারায় দন্ডনীয় অপরাধ। সুতরাং কোন অবস্থাতেই ফেসবুকে কারো সম্পর্কে বাজে মন্তব্য বা কারো অশ্লীল ছবি প্রকাশ করবেন না, আইনের কাঠগড়ায় দাড়াবেন না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − = 3