ঈশ্বর বিষয়ক বিপ্রতীপ চিন্তা

বইঃ ঈশ্বর বিষয়ক বিপ্রতীপ চিন্তা
লেখকঃ কুমার চক্রবর্তি
প্রকাশকঃ শুদ্ধস্বর ২০০১
মূল্যঃ২৫০

@মানুষের সাথে বস্তুত অন্য প্রাণীর অভীপ্সামণ্ডিত পার্থক্য কী? যদি এর কোনো জীবনধাবিত উত্তর খুঁজি, তাহলে সম্ভাব্য উত্তর হতে পারে—ঈশ্বর। ঈশ্বরই মানুষ ও অন্য প্রাণীর মধ্যবর্তী নিস্তব্ধ হাহাকার মাঠ, এক দুজ্ঞেয় প্রান্তিক ভূমি যা একাধারে সত্য ও মিথ্যা, বাস্তব ও অলীক, জীবন ও মৃত্যুগামী ব্যুহ রচনা করে পরিণত হয়ে থাকে, বা যদি কোনো মিথ্যা অতিসন্ধানী সত্যে পরিণত হয়ে থাকে, তা হলো ঈশ্বর। ঈশ্বর এক সংস্কার এবং রীতিমাফিকতার দ্বন্দ্ব ও দ্যোতনা। মূলত এমন গ্রহণ-বর্জনের, কাছের-দূরের, আগমন-প্রস্থানের আর দ্বিতীয় কোনো সারবত্তা নেই ঈশ্বর ছাড়া। বিশাল অদৃশ্যকে মানুষ কল্পনা করে ঈশ্বরের মাধ্যমে, আবার পরম দৃশ্যমানতার মাঝেও সে খুঁজে পায় না অতিজীবিত সত্তার মাঙ্গলিক প্রতিধ্বনি। অতএব মানুষের জন্যে প্রকৃত দ্বিধা, দ্বন্দ্ব, সংবৃত্তি, উপলব্ধি ও বৈধর্ম্যের কারণ ঈশ্বর, ভ্রান্তি ও ভ্রান্তিহীনতার এক আধারসূত্র হলেন ঈশ্বর। আর এই বিবেচনায় ঈশ্বর এমন এক অধিকরণ যেখানে অন্যোন্যভাবে সাধানো আছে বাস্তব ও কল্পনার চরম সৌহার্দ্য ও স্ববিরোধ।

@ঈশ্বরচিন্তা ঈশ্বরবিষয়ক অস্তি ও নাস্তিবোধ—উভয়ই হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে এ চিন্তা সৃষ্টি করে দ্বন্দ্ব, দ্যোতনা ও অব্যবস্থাপনা যার থেকে মুক্তচিন্তার সূত্রপাত ঘটে। মুক্তচিন্তা ভিত্তি করে বাস্তবতা ও যৌক্তিক পরম্পরা, আর তাই বাস্তব-যুক্তিনিরপেক্ষ হেত্বাভাস, প্রথাবাহিত জ্ঞান, জনপ্রিয় প্রচল প্রচারণা, কুসংস্কার, ঐতিহ্য, গোড়ামি, কর্তৃত্বপরায়ণ নিয়ন্ত্রণবাদ–ইত্যাদি অধিরূঢ় সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও বিস্তার ঘটিয়েই এর আবির্ভাব হয়।

@বুদ্ধ বলছেন :
হে কালামাগণ (কেশপুত্ত গ্রামের বাসিন্দা), তোমাদের জন্যে করণীয় হলো—তোমরা কোনোকিছুতে নিশ্চিত হোয়ো না, সন্দেহ কোরো, এবং অনিশ্চয়তা প্রকাশ কোরো ; যা কিছু অস্পষ্ট ও সন্দেহজনক, তা থেকেই তোমাদের মনে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়। হে কালাম, অগ্রবর্তী হও । পুনঃপুন শোনা অর্জিতপথে যেয়ো না; যেয়ো না—প্রথা অথবা গুজব অথবা শাস্ত্র অথবা অনুমান অথবা স্বতঃসিদ্ধতা, অথবা সাধারণ দৃষ্টিগ্রাহ্য যুক্তি বা অনিরপেক্ষ খেয়ালি বিবেচনায়, অথবা অন্যের ভানকরা সামর্থ্যে, অথবা এই বিবেচনায় যে “সন্ন্যাসী আমাদের শিক্ষক।” কালামা যখন তোমরা জানবে : এগুলো খারাপ, এগুলো দোষণীয়, এগুলো জ্ঞানে নিন্দিত, যখন বুঝবে এগুলো ক্ষতিকর—তখন এগুলো ত্যাগ করবে।’

@মুক্তচিন্তক শব্দটির আত্মপ্রকাশ ঘটে সতেরোশো শতাব্দীর শেষপ্রান্তে ইংল্যান্ডে যা মূলত চার্চ ও বাইবেল-এর আক্ষরিক ও স্থূল ব্যাখ্যার বিপরীতে অবস্থান নেয়। তবে ১৬৯৭ অব্দে জন লককে লেখা উইলিয়াম মলিন্যাক্স-এর বহুল আলোচিত ও প্রচারিত পত্রে, এবং আরও বিস্তৃতভাবে ১৭১৩ অব্দে অ্যান্থনি কলিন্‌স-এর লেখা ডিসকোর্স অব ফ্রি-থিঙ্কিং-এ এই মুক্তিচিন্তার বিন্যস্ত রূপটি পাঠ আকারে আবির্ভূত হয়। ফরাসি-দেশে ধারণাটি প্রথম প্রকাশিত হয় যখন দ্যনি দিদেরো ও জ্যা ল রদ দ’ আলেমব্যের এবং ভলত্যের ১৭৬৫ অব্দে তাদের এনসাইক্লোপিডিয়ায় লিভপসে নামে একটি রচনা অন্তর্ভুক্ত করেন যা ছিল তীব্রভাবে নাস্তিক্যবাদী। জার্মানিতে, ১৩শ শতাব্দীতে, “ব্রেথান অব দ্য ফ্রি স্পিরিট” নামে একটি চার্চ-গোষ্ঠী অখ্রিস্টীয় ও নাস্তিক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ১৪শ শতাব্দীতে এই আন্দোলন ও মতবাদ সম্পূর্ণভাবে দমন করা হয় আর অভাবেই মধ্যযুগের নাস্তিক্যবাদ আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। এরপর ১৮১৫-১৮৪৮-এর মধ্যে সেখানে আবারও দেখা দিতে থাকে কিছু চার্চ-বিরোধী আন্দোলন : ১৮৪৪-এ ইউহানেস রঙ্গ ও রবার্ট ব্রম-এর প্রভাবে দেখা দেয় মানবাধিকার, সহনশীলতা ও মানববিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলো, এবং এ-আলোকে তারা ১৮৫৯ অব্দে প্রতিষ্ঠা করেন বুল্ড ফ্রাইরেলিগিয়্যোগার গেমাইডেন ডয়চলান্ডস সংগঠন যা এখনও অস্তিত্বশীল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৮১ অব্দে ফ্রাঙ্কফোটে মাইন ও লুডভিগ বু্যখনার প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন নাস্তিকদের সংগঠন ডয়শন ফ্রাইডেংকারবুন্ড। ১৮৮২ অব্দে হামবুর্গে গঠিত হয় সোশাল-ডেমোক্রেটিক সংগঠন ফ্রাইডেংকারগেজেনশাফট।

কিন্তু সবচেয়ে সুসংগঠিত ও সুস্থিত ধারবাহিক ঘটনা এবং নিদর্শনটি ঘটে ১৮৮১ অব্দে ইংল্যান্ডে যখন মানবতাবাদী জি ডব্লিউ ফুট প্রতিষ্ঠা করেন অসাম্প্রদায়িক মুক্তচিন্তাবিষয়ক প্রথম পত্রিকা দ্য ফ্রি-থিংকার যা এ বিষয়ক পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ও জীবিত প্রকাশনা, এবং কিছুদিন আগে পত্রিকাটি পালন করেছে তার ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। পত্রিকাটি প্রথম থেকেই গ্রহণ করেছিল চরম নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মবিরোধী অবস্থান। প্রথম সংখ্যায়—যা বেরিয়েছিল মে, ১৮৮১ অব্দে–পত্রিকার উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় সম্পর্কে সম্পাদক যা বলেছেন তা কাজ করে বিস্ফোরকের :

দ্য ফ্রি-থিংকার একটি খ্রিস্টান-বিরোধী মতপ্রকাশের মাধ্যম, অতএব অবশ্যই তা প্রধানত আক্রমণাত্মক। সাধারণত কুসংস্কার, আর বিশেষত খ্রিস্টীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তা অবিরাম যুদ্ধরত। পবিত্র বলে প্রকাশিত সত্যবাক্য হিসেবে বাইবেল-এর দাবির বিরুদ্ধে বিজ্ঞানের সম্পদ, পাণ্ডিত্য, দর্শন এবং নৈতিকতাকে তা সর্বোচ্চ ব্যবহার করে থাকে।”
@মুক্তচিন্তার এক অনস্বীকার্য উপাদান হলো সংশয় ও সন্দেহ। কবি শেলি ১১ জুন ১৮১২ অব্দে লেখা চিঠিতে এ-বিষয়ে সুন্দর সন্দেহের কথা বলেন যা তার নাস্তিকতাকে বুঝতে সহায়ক :
বালকমনেই আমার সন্দেহের উদ্রেক হয়। খ্রিস্টীয়বাদ আবির্ভূত হয়েছে গ্রিক ও রোমের প্রতিভাবানদের জ্ঞান ও গুণাবলির নির্যাস থেকে, সক্রেতিস ও সিসেরো ধ্বংস হবে আর আধুনিক ইংল্যান্ডের হীন-পশ্চাৎগামীরা পরজীবন লাভ করবে, কীভাবে?”

@বিপ্রতীপচিন্তার একটি চরম ও প্রান্তিক অবস্থা হলো নাস্তিকতা। ব্যক্তিগতভাবে যে-কেউ থাকতে পারেন ঈশ্বরহীন বা গ্রন্থহীন, কিন্তু এদের অনেকেই হয়ে উঠতে পারেন ঈশ্বরবিরোধী বা অ্যান্টি-গড। প্রাচীন গ্রিসে বিশেষণ “atheos” বোঝাত “ঈশ্বরহীন” বা “দেবতাহীন” কিন্তু ৫ম শতাব্দীতে শব্দটির অর্থ আরও ধারালো হয় এবং তা বোঝাতে থাকে “ঈশ্বরে অবিশ্বাস” | এই atheos থেকেই উদ্ভব ঘটে atheistic শব্দটির ।

@
ব্র্যাডলাফ বলেছেন :
প্রত্যেক বিশ্বাসীই আবশ্যকীয়ভাবে স্বীকার করবেন যে, যদি একজন ঈশ্বর থেকে থাকেন, তিনি অবশ্যই তার অস্তিত্ববিষয়ে সকল মানুষকে বিশ্বাস উৎপাদন করেন… যদি তিনি তা না করেন
বিশ্বাসী অবশ্যই একমত হবেন যে, যদি ঈশ্বর থেকে থাকেন তাহলে তিনি ইচ্ছা করবেন যেন সকল মানুষ তার অস্তিত্ব ও গুণ বিষয়ে চেতনাপ্রাপ্ত হয়… কিন্তু যেহেতু অনেকেরই আছে ঈশ্বর বিষয়ে সংশয়, ভিন্নমত, এবং অবিশ্বাস, তাতে বোঝা যায় যে ঈশ্বর নেই, অথবা তিনি নন সর্বৈব মঙ্গলময়।”

@১৭৩৪ অব্দে প্রকাশিত লন্ডন ম্যাগাজিন-এর একটি জনপ্রিয় রচনায় লেখা হয়েছে :
নিজেদের চিন্তা করে তাদের অধিকাংশই তাদের অলসতার জন্যেই এরকম ভেবে বসে, কারণ তারা এ ব্যাপারে সময় ও যুক্তি দেয় না নিজেদের, তারা যে এরকম তার কারণ তাদের ভাবের চাপল্য, চিন্তার ফলাফল নয় এই নাস্তিকতা ।”
@ক্যারেন আর্মস্ট্রং লিখেছেন :
ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে, নাস্তিক শব্দটি একান্তভাবেই ছিল তার্কিকদের বিষয়… জন উইংফিল্ড তার রচনা এথেইজম ক্লোজড অ্যান্ড ওপেন অ্যানাটোমাইজ (১৬৩৪)-এ দাবি করেছেন : “কপটেরাই নাস্তিক; আজেবাজে দুষ্টরাই প্রকাশ্য নাস্তিক; নিঃশঙ্ক, উদ্ধত ও গর্বিত সীমালজানকারীরাই নাস্তিক; যে সংশোধিত ও শিক্ষিত হয় না সে-ই নাস্তিক।” … “নাস্তিক” শব্দটিই ছিল অবমাননাকর।”

@কান্ট আত্মার অমরত্বে বিশ্বাসী ছিলেন এবং তার মতে ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও আত্মার অমরত্বই হলো “প্র্যাকটিক্যাল রিজন”-এর স্বতঃসিদ্ধ, এবং এ ছাড়া, তার ধারণায়, নৈতিকজীবন অসম্ভব।

@ইচ্ছেমতো নিজের স্বার্থে প্রয়োগ করবে। দস্তয়েভস্কির উপন্যাস ব্রাদার্স কারামাজোভ-এর চরিত্র ইভান কারামাজোভও এই নৈতিক ভিত্তির দ্বারা তাড়িত হয়েছিলেন আর বিস্ময়াচ্ছন্নভাবে বলেছিলেন যে, ঈশ্বর না থাকলে সবকিছুই অনুমোদিত। অর্থাৎ ঈশ্বর না থাকলে মানুষের কোনো নৈতিকতার বেড়ি থাকে না, মানুষ তখন স্বেচ্ছাচার কাজে লিপ্ত হয়ে উঠতেই পারে। ঈশ্বরবিশ্বাসীদের এসব ধারণাগুলোর সারমর্ম হচ্ছে এরূপ: ধর্মই নৈতিকতার মৌলিক ভিত্তি, নৈতিকতার নিশ্চয়তা রয়েছে ধর্মেই, নৈতিকতার সংরক্ষণে ধর্মই একমাত্র উপায়।

@কান্ট যে-ঈশ্বরভিত্তিক নৈতিকতার কথা বলেছেন তা দুর্বল ও সংকীর্ণ। কান্ট তার ক্রিটিক অব পিওর রিজন-এ ঈশ্বরঅস্তিত্ব বিষয়ে প্রথাগত প্রমাণগুলোর অসারতা দেখিয়েছিলেন এবং এ সংক্রান্ত এক অসীম সত্তার ব্যাপারে যৌক্তিক প্রয়োজনের কথা স্বীকার করেছিলেন, কিন্তু এই প্রয়োজন অস্তিত্বকে প্রমাণ করে না। কান্টের এ জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে খুঁজে পাওয়া যায় না তার নৈতিকতাবিষয়ক যুক্তিগুলোতে। কান্ট আসলে ঈশ্বর সম্পর্কে এক বিশুদ্ধ প্রয়োজন বা অভাবকে অনুভব করেছিলেন যার সাথে মিল আছে ভলত্যেরের বিখ্যাত উক্তির ; “ঈশ্বর যদি না-ও থাকত, তাহলে আমরাই তাকে আবিষ্কার করতাম।”

@কারও মতে, প্রাণিহত্যা মহাপাপ, কারও মতে তা অনুমোদিত। জরাথুস্ট্রীয় মতে পোকামাকড় মারা উচিত আবার জৈনমতে এই কাজকে পরিত্যাগ করার চেষ্টা করতে হবে ।

@যুক্তিবাদীদের কাছ থেকে ধর্মীয় নৈতিকতার বিরুদ্ধে আরও যে-তিনটি অভিযোগ পাওয়া যায় তা হলো : অকার্যকরতা, নমনীয়তা ও অসম্ভবপরতা।

@কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, নিরীশ্বরবাদীরা বিশ্বাসীদের জন্যে কোনো হুমকি নয় বরং বিশ্বাসীরাই নাস্তিকদের জন্যে হুমকি হিসেবে দেখা দেয়। বস্তুতপক্ষে, নীতি-নৈতিকতা, মানবিকতা, পরপ্রযত্ন অভিলাষ ঈশ্বরবিশ্বাসনির্ভর নয়, তা নির্ভর করে মানবিকতার নান্দনিক উপলব্ধি, অন্যদের শুভত্বের প্রতি আত্মচেতনা এবং জগতের ইহকালীনতার বিষয়ে ধনাতক ও অর্থময় ভাবনার উপর।
গবেষকদের অনেকের মতে নাস্তিকতার বিষয়ে অনৈতিকতাজনিত অপর ভ্রান্তিটি হলো, নাস্তিকতাবাদ ও নৈরাজ্যবাদকে একাকার করে দেখা।

@ইসলামীয় সংস্কৃতিতেও এর নজির মিলে। “ইসতেহাদ” বা যুক্তিবাদের প্রসার থেকে অনেক স্বাধীন চিন্তাপ্রস্থানের উদ্ভব ইসলামেও হয়েছে যা অনেক সময় গোড়া ধর্মীয় মতবাদের সাথে সংঘর্ষ সৃষ্টি করেছে। কর্দোভীয় দার্শনিক-চিন্তাবিদ ইবনে রুশদ (১১২৬-৯৮) যৌক্তিক চিন্তার অন্যতম উদগাতা ছিলেন। উদার ও আলোকিত সুলতান আবু ইউসুফ যখন তাকে আকাশের স্বরূপ ও প্রকৃতি সম্বন্ধে প্রশ্ন করেন তখন এই দার্শনিক প্রাথমিকভাবে উত্তর প্রদান থেকে বিরত থাকেন, কিন্তু সুলতান যখন আবারও জিজ্ঞাসা করলেন : “এটা কি কোনো পদার্থ যা শাশ্বতকাল ধরে আছে অথবা আর কি কোনো আরম্ভ আছে?” তখন তিনি সুলতানকে ব্যাখ্যা করলেন কেন ধর্মীয় গোড়ামি অপেক্ষা যৌক্তিক পদ্ধতি শ্রেষ্ঠ ও কাজিহ্মত।

@এর দুই শতাব্দী আগের ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭), যিনি পাশ্চাত্যে খ্যাতিমান ছিলেন “আভিসিনা” নামে, শরীরের পুনরুত্থান বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং এর কারণেই ১২১০ ও ১২১৫ অব্দে দুটি ডিক্রি জারির মাধ্যমে তার রচনা নিষিদ্ধ করা হয় সরবোন-এ; ১৫ বছর পর সদাশয় পোপ গ্রেগরি (৯ম) এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন। ৯ম শতাব্দীর বাগদাদের নাস্তিক ইবন রাওয়ানদি তার রচিত গ্রন্থে কিছু মৌলিক বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মুতাজিলা সম্প্রদায়ের একজন রাওয়ানদি “প্রকাশিত বাক্য” বা প্রকাশিত গ্রন্থ সম্বন্ধে তার সন্দেহের কথা বলেছিলেন।

@এ সময়ের আরেকজন হলেন আবু আল-আলা আল-মারি (৯৭৩-১০৫৮), যিনি ছিলেন কবি ও দার্শনিক। চার বছর বয়সে বসন্তরোগে অন্ধ হয়ে যাওয়া মারি ছিলেন নৈরাশ্যবাদী ও সংশয়বাদী যিনি মনে করতেন পৃথিবী “হয় আলোকিত বজ্জাত অথবা ধর্মীয় বোকাদের”

@তিনি লিখেছিলেন একটি রুবাইয়াৎ-এ :
ধর্ম কী? এক কুমারী রাখে চোখ বন্ধ করে যেন কেউ তাকে না দ্যাখে
শুনেছি যত মতের কথা এ জীবনে করিনি বিন্দুবিসর্গও বিশ্বাস মনে মনে।”

@পরিপ্রেক্ষিতে ও প্রতিচিন্তায় আল কোরআন-এ প্রত্যাদেশ খুঁজে পাওয়া যায় :
তারা বলে : “এ-ই জীবনে আর কোনো কিছু নেই। আমরা মরি আর বাচি; কেউই না শুধু সময়/কাল আমাদের ধ্বংস করে।” নিশ্চয়ই এবিষয়ে তাদের জ্ঞান নেই। তারা শুধু অনুমানসর্বস্ব। আর যখন আমাদের প্রত্যাদেশসমূহ প্রাঞ্জলভাব সহকারে তাদের পাঠ করে শোনানো হয় তখনো তারা কুতর্ক করে ; “যদি তোমার কথা ঠিক হয়, তাহলে আমাদের পিতাদের আমাদের নিকট ফিরিয়ে আন ।” বল : নিশ্চয়ই আল্লাহ, যে তোমাদের জীবন দেন এবং তারপর মৃত্যু ঘটান… [৪৫ : ২৪৬

@প্রাচীন আরব-কবি বলছেন :
ঝলসানো মাংস, উজ্জ্বল জ্বালাময় মদিরা
দ্রুতগামী উটের জাহাজে ছোটা আর নিশ্চিতই
যদিও তা ফাপা প্রশস্ততাময়
ভাস্কর্য-সদৃশ শ্বেতরমণী যা রাখে পদচিহ্ন
আর বীণার ঝংকার শোনা—
এ-ই জীবনের আনন্দ। যেহেতু মানুষ
সময়ের শিকার। আর সময়
ধেয়ে চলে ॥৭৭

আল কোরআন-এ অবিশ্বাসী বা কাফেরদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে খুব কঠোর উক্তি। বলা হয়েছে :
এর উচ্চতম জীবনযাত্রার মান ছিল স্পষ্টতই তার মানবিক শক্তি, সম্পদ ও উদ্যোগের ফসল যা-ছিল দেবতাদের প্রতি বড়ো ধরনের ঋণের কৃতজ্ঞতাপ্রকাশ। সপ্তম শতাব্দীর শেষের দিকের আয়োনীয় কবি মাইমনারমাস-এর (Mimnermus) কবিতা এই চৈতন্যকে যথাযথভাবে প্রকাশ করেছিল। তার কাছে মনে হয়েছিল যে, যদি দেবতারা থেকে থাকেন তবে মানব-বিষয়ে হস্তক্ষেপ ছাড়াও তাদের অনেককিছু করার কাজ থাকা উচিত। “দেবতাদের কাছ থেকে আমরা ভালো বা খারাপ—কিছুই জানতে পারি না।” কবি অন্তর্নিবিষ্ট হয়েছেন মানবজীবন বিষয়ে শুধু। তিনি স্তুতি করেছেন ক্ষণস্থায়ী সুখ ও আনন্দের এবং একত্রিত গোলাপদের যতদিন তারা স্থায়ী হয়, শোক প্রকাশ করেছেন দ্রুত অতিক্রান্ত যৌবনের এবং বৃদ্ধাবস্থার কষ্ট ও দুর্বলতার জন্যে। একই সময়ের ও সমাজের এই দার্শনিক দৃশ্যমান প্রকৃতিবিশ্বের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিলেন, এবং তার গোপন রহস্যের বিপরীতে নিজ মানবিক ধীশক্তিকে খাপ খাইয়েছিলেন। উভয়ই একই বস্তুগত সংস্কৃতি এবং ইহজাগতিক চৈতন্যের বৌদ্ধিক ফসল *

এর সাথে যদি আরও কিছু আমরা বলতে চাই তাহলে তাকে বলব, প্রথাগত ধর্ম ও পুরাণের আংশিক যুক্তাভ্যাসকরণ যা শুরু হয়েছিল থিয়োগনীয় (Theogonies) লেখকদের দ্বারা যাদের প্রধান ছিলেন হেসিয়োদ (HeSiod); এবং তা ছিল পুরোনো পৌরাণিক লেখক, যেমন হোমার, এবং নতুন দার্শনিকদের মধ্যকার এক গুরুত্বপূর্ণ উত্তরণ পর্যায় যখন প্রথাগত ঐতিহ্যসম্পন্ন ধর্ম ও নতুন দর্শনের সম্পর্ক এবং বিরোধ অতীব নিবিড়ভাবে পুনর্মুল্যায়িত হতে শুরু করে।

@প্রচলিত আছে যে, খ্রি.পূ. ৫৮৫ অব্দে যে-সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, থালেস তার অর্জিত বিদ্যার দ্বারা সেই সম্পর্কে নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। ব্যাবিলনীয়রা সে-সময়ে জানতেন স্বগীয় *RSTIGo (Heavenly bodies) গতিবিধি–গ্রিকরা যাদের বলতেন স্বগীয় ব্যক্তিবর্গ (Divine persons), SIRi এই জ্যোতির্বিদ্যার দ্বারাই থালেস সনাতনী চিন্তার বাইরে এসে প্রাকৃতিক শক্তি ও তার নিয়মের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করতে সক্ষম হন। এভাবেই মিলেশীয় চিন্তকেরা প্রশ্নশীলতা ও যৌক্তিক অনুমানের উপর ভিত্তি করে এক স্বতঃস্ফূর্ত বস্তুবাদের সূচনা করেন, আর এ পথে ও পদ্ধতিতে তারা অস্বীকার করেন প্রচলিত ধর্মব্যাখ্যাগুলোকে। প্রাকৃতিক ঘটনাসমূহ যে অতিপ্রাকৃতিক কোনো স্বগীয় শক্তির অভীপ্সার ফল নয়—এই সন্দেহের জন্মদাতা তারা, এবং তারা সে-সময়ের পৌরাণিক লেখকদের চেয়ে ভিন্ন এক্ষেত্রে তাদের ভিন্ন দৃষ্টিকোণের কারণে। এরই রূপ আমরা দেখি থালেসের প্রাকৃতিক পরিবর্তন ও ভিন্নতাবিষয়ক প্রশ্নশীলতায় যার ফলাফল হিসেবে তিনি বলেছিলেন, জলই হচ্ছে জগতের মূল সত্তা। এখানেও ধারণা করা হয় যে, পুর-প্রকৌশলী থালেস নদীর একাংশের জল অন্যদিকে চালিত করার বিদ্যা জানতেন যার ফলে নদীর সত্যিকার জলপ্রবাহ কমে যেত আর সৈন্যরা নদী অতিক্রম করতে পারত সহজে ।

@বারট্রান্ড রাসেলও বলেছেন, সবকিছুই জল থেকে উৎপন্ন—থালেসের এই বক্তব্য বৈজ্ঞানিক প্রকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্য ।” রাসেল এর সমর্থনে আরও
বলেছেন :
বিশ বছর আগে ধরা হতো সবকিছুই হাইড্রোজেন থেকে সৃষ্ট যা জলের দুই-তৃতীয়াংশ। গ্রিকরা তত্ত্বপ্রকল্প বিষয়ে ছিল অনেকটা
তত্ত্বপ্রকল্পগুলো প্রায়োগিকভাবে পরীক্ষা করে দেখতে প্রস্তুত ছিলেন।”

@ড্রাখমান তার এথেইজম ইন প্যাগান অ্যান্টিকুইটি সন্দর্ভে এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তিনি এ সংক্রান্ত দার্শনিকদের একটি তালিকা দিয়েছেন যাদেরকে পরবর্তী প্রজন্ম atheoi বা ঈশ্বরবিরোধিতার অপরাধে অভিযুক্ত করেছিল। এদের মধ্যে জেনোফানেস ও আনাক্সিগোরাস-এর বিরুদ্ধে ঈশ্বর বা দেবতাদের প্রতি অবজ্ঞার, এবং আপোলোনিয়ার দিওজেনেস, রেগিয়ামের হিপ্পো, প্রোতাগোরাস, প্রোদিকাস, ক্রিতিয়াস এবং মেলোসের দিয়াগোরাস—সবাইকে নাস্তিকতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। প্রাচীন ধর্মগুলোর বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে তিনি আয়োনীয় ঈশ্বরত্বের একটি আধুনিক রূপরেখা উপস্থাপনের চেষ্টা করেন এই বলে যে—
এক দেবতা অন্য সব দেবতা ও মানুষ হতে শ্রেষ্ঠতম; তার আকার বা চিন্তা কখনোই মৃত্যুমুখে পতিত হয় না। তিনি সামগ্রিকভাবে দেখেন, শোনেন এবং উপলব্ধি করেন। সবসময়ই তিনি একস্থানে স্থির থাকেন, মোটেও নড়াচড়া করেন না চারিদিকে, বিভিন্ন সময়ে এদিক-সেদিক যাওয়া তাকে মূলত কোনো সুবিধা দেয় না; কিন্তু কোনোরকম পরিশ্রম ছাড়াই তিনি তার মনের প্রেরণা বা তাড়না দ্বারা সবকিছুকে শিহরিত করেন।”

@মিস্টিকেরা মনে করেন, বাহ্যিক জগৎ এক সন্দেহের জগৎ, এখানে নেই পরমের পবিত্রতা; চেতনের জগৎ এক অন্ধ জগৎ—মানুষের জন্যে প্রয়োজন ইন্দ্রিয়-লুপ্ত চেতনের জগৎ যার মাধ্যমে পরমসত্তার স্পর্শ পাওয়া যায়।

@অধিকার-ঘনিষ্ঠ বাস্তবে মিস্টিকদের “মুক্ত আত্মা’ বসবাস করে না। শিল্পে যাকে বলা হয় real reality, সেই বাস্তবতাতেই মিস্টিক স্বস্তি পান। ব্লেক-এর ভাষায় :
When the soul slept in beams of light God appears, and God is light.
@মরমিয়াবাদের দার্শনিক ভিত্তিকে দুভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমটি, শাশ্বত প্রবহণ বা ঈশ্বর থেকে সর্বোভূত VJ3 (Emanation theory) দ্বিতীয়টি, সর্বেশ্বরবাদী (Immanance theory) Öğ & 53 off ধর্মতত্ত্বেরও অন্যতম বিবেচনা। প্রথমটির আদি সঞ্চালকদের মধ্যে দিয়োনেসিস, দান্তে, কাবালিস্টরা উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি জীবাত্মা এক অনন্তময় প্রবাহের অংশ; এই শাশ্বত অভিমুখী যাত্রা পরমাতার উদ্দেশে। হাফিজ বলেছেন, “নৌকায় উঠেছি। হে অনুকূল বাতাস! প্রবাহিত হও । যেন আমি আমার প্রিয়-সখার সন্দর্শন পাই ।” এ এক অন্তহীন অনুধ্যায়ী অভিযাত্রা। সেন্ট টমাস একুইনাসও বলেছেন—যেহেতু মানুষের সকল পরিপূর্ণতা ঈশ্বর থেকে আসে, যিনি পরম ও স্বয়ম্ভ, মানুষ তাই ধাপে ধাপে ঈশ্বরের প্রজ্ঞানে অনুপ্রবিষ্ট হয়; শাশ্বত আলোকরশ্মিতে মানুষ স্নাত হয়। এই অর্থে আত্মার এই মিলনের আকাঙ্ক্ষা এক উর্ধ্বমুখী ভ্রমণ যা অনেক অন্তর্বর্তী স্তরকে অতিক্রম করে অবশেষে পরমের সঙ্গে মিলিত হয়। এই পরিশুদ্ধি এবং আলোকনের দ্বারা মহামিলন ঘটে। সেন্ট অগাস্তিন তাই বলেন, “আমরা আমাদের হৃদয়ে রক্ষিত তোমার পথে আরোহণ করি।” কঠ উপনিষদের ১০১ স্তোত্রটিতে আমরা এরূপ একটা প্রত্যয়কে প্রত্যক্ষ করি যা সার্বভৌম ঈশ্বরোদ্ভূত লীলাবস্থাকে প্রকাশ করে: “দীপ্যমান তাহার অনুগত হইয়াই এই সকল দীপ্তি পাইতেছে, তাহারই দীপ্তিতে সকলে দীপ্যমান।” দান্তের কম্মেদিয়াতেও দেখা যায়, শুরুতেই
দিয়ে যেতে যেতে পথে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম: অনতিপরেই ঘুম ভেঙে দেখলাম এক
বাউলদের মরমি সাধনাকেই তিনি বলেছেন শাশ্বত মানবধর্ম এবং একেই বলেছেন স্বাভাবিক |
রিলিজিয়ন অফ ম্যান-এ এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন—
Wandering village singers belonging to a popular sect of Bengal called Bauls. Who have no images, temples, scriptures or ceromonials. Who declare in their songs the divinity of Man and expresses for him an intense felling of love. Coming from men who are unsophisticated living a simple life in obscurity it gives us a clue to the inner meaning of all religions.

@দান্তে এবং সেন্ট জন-এ মিস্টিক্যাল কবিতার দেখা পাওয়া যায়। দান্তের কম্মেদিয়া-তে এক সন্নদ্ধ মরমি অধিগমন উদ্ভাসিত, যেখানে মানবাত্মা ঈশ্বরের অভিদর্শনে যাত্রামুখর, পরিশেষে যা এই মুহুর্তের অভিদর্শনে পূর্ণতা পায় যখন সচকিত আত্মা পরম সত্তায় মিশে যায়। এ এক অনির্বচনীয় প্রাপ্তি। সেন্ট জনের
Noche Oscura-ও দান্তের কম্মেদিয়া-র মতোই এক ভ্রমণ, এক নিশ্চিত
পৌছানোর আহ্বান কৃষ্ণরজনিতে যে ভ্রমণ সম্ভব:
আহ রাত্রি, আমাকে চালিত করে! আহ রাত্রি যা ভোর হতেও সুন্দর! আহ রাত্রি যা প্রেমকে প্রিয়তমের সাথে মিলিত করে, প্রেম পরম প্রেমে পরিণত হয়!
অবশেষে আসে সেই পরম ক্ষণ যখন—
Oh my flowered breast, that was kept intact for him alone. He there remained sleeping…

@ঈশ উপনিষদের প্রথম শ্লোকের দ্বিতীয় চরণেও ভোগ নিবৃত্তির কথা বলা আছে : “তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথা মা গৃধঃ কস্যস্বিদনম”—“ত্যাগের সহিত ভোগ করিবে; কাহারও ধনে লোভ করিও না।”

@মিলেশীয় দার্শনিক আনাক্সিমেন্দার খ্রি. পূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে প্রাণী হতে মানুষের বিবর্তনের বিষয়ে অনুমান করেন এবং দেখেন যে, মাছের গঠন মানুষের অনুরূপ। তিনি বলেন, মানুষের আবির্ভাব হয় প্রাণী থেকে এবং জীবনের শুরু হয় সমুদ্র অথবা আঠালো পদার্থ হতে। পিথাগোরাসের অনুবর্তী লোকজন তাই প্রাণীদের মাংস খেত না কারণ তারাও বিশ্বাস করতে যে, মানুষ ও প্রাণী পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। আফ্রিকার অনেক উপজাতিও এ-ধারণা পোষণ করত। অ্যানক্সিমেন্ডার ও ডারউইনের মধ্যবর্তী সময়ে জীববিজ্ঞানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো অষ্টাদশ শতাব্দীতে সুইডিস বিজ্ঞানী কার্ল ভন লিন্‌চ (Karl von Lince)-এর প্রজাতি বিভক্তি; তিনি দুই মিলিয়ন জীবিত প্রাণী-উদ্ভিদ-কীটপতঙ্গকে (৮ লাখ উদ্ভিদ, ৮ লাখ কীটপতঙ্গ, ৪ লাখ প্রাণী) প্রজাতিতে বিভক্ত করেন। এর আগে রবার্ট বয়েলের পদার্থের অবস্থা নির্ণয় এবং ডালটনের পরমাণুর ভিন্নতা আবিষ্কার ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

@মৃত্যু তাই :
স্মৃতি আর আশা হতে মুক্ত,
সীমাহীন, বিমূর্ত, অনেকাংশেই ভবিষ্যৎ,
মৃত ব্যক্তি নয় কোনো এক মৃতলোক
তা হলো মৃত্যু।
মৃত ব্যক্তি, কোথাও নয় একজন কেউ,
শুধু বিচ্ছেদ আর অনুপস্থিতি ছাড়া কোনো কিছু নয়।
মৃত্যুর জন্যে অনুতাপ বোরহেস)
তাহলে আর কী স্মরণস্তম্ভ ! ঈশ্বরের অবহেলা আর অনুপস্থিতির মতো, মৃত্যুর উপর জমে থাকে শুধু হৃদয়ের ভারী দীর্ঘশ্বাস, পৃথিবীর মনস্তাপ আর আর প্রকৃতির অসীম খেয়ালের অধিরূঢ় মনস্তত্ত্ব। জলেই লেখা যায় নাম, কোনো স্তম্ভে নয়; শুধু এক প্রবল চলে যাওয়ার কম্পিত ছায়ার বিস্মাপণ। আর জীবন অন্তহীনভাবে ঝেড়ে ফেলছে এমন কিছু যা মৃত্যুকে কামনা করে। জীবন তাই ঝরে পড়া, একবারের মতো ভাবনাবিন্দুর পরপারে :
Oh! Come with old khayam and leave the wise To talk one thing is certain that life flies; One thing is certain the rest is lies The slower that once has blown for ever dies. |Omor Kliayam|
ঈশ্বরলিযয়. 1.19 ||. : };

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 4 =