বিচার চাই না আমি চাই একটু বাঁচার নিরাপত্তা

?oh=b6e1031cc0d6dfcb1eb7c46afce3eb80&oe=58D1E89A” width=”512″ />

সারা দেশে চলছে বৃষ্টি । এই থেমে যাচ্ছে এই আবার বেড়ে যাচ্ছে । মনে হয় এই বুঝি শিতের আগমনি বার্তা । তাই কেউ কেউ খুসি আনন্দ করছে বিশেষ করে নব দম্পতীরা এই মৌসুমটা খুব পছন্দ করে। আবার কেউ কেউ ডিম বা বেগুন ভাজি দিয়ে খিচুড়ির আয়োজনে ব্যাস্ত সময় পার করছেন ।

কিন্তু আমার কেন যেন সুখ নেই । নেই কোন হাসি । চেষ্টা করেও হাসতে পারছি না । এমন কি নিজের একান্ত প্রিয়জনের সাথেও ভালো করে বাক্য বিনিময় করছি না । তাই ও অভিমান করেছে । অভিমান কেন করবে না । যেখানে প্রতিদিন ৫ বার কথা বলি সেখানে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত ভালো করে ১ বারও কথা বলি নি ।

কিন্তু কি করে কথা বেড় হবে । যখন হৃদয়ে পুলক আনার চেষ্টা করি তখনি বার বার স্রিতিচারণ হয় ব্রাম্মনবারিয়ার নাসির নগরের সেই পৈশাচিক নির্যাতনের কথা। ভেসে ওঠে শত শত মায়ের আর্তনাদ মাখা কান্না ।
কম বেসি সবারি ভালো লাগে রিম ঝিম বৃষ্টি । বিশেষ করে আমার বেস লাগে যখন রিম ঝিম বৃষ্টি হয় । ভালো লাগে শুনতে বৃষ্টির ফোটা টিনে পরার শব্দ । আমি টিনের ছাউনি দেয়া ঘরে থাকি । যখন বৃষ্টি হয় তখন ভাবি একটু প্রিয় জনের সাথে কথা বলি । কিন্তু কেন যেন সেই ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেছি গতকাল থেকে । ভাবি নাসির নগরে অনেক বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে পাষাণরা । আজ যারা গৃহ হারা তাদের কি অবস্থা । আমার তখন কান্না পায় যখন কানে ভেসে ওঠে ছোট ছোট শিশুর মা মা বলে চিৎকার ।

একবার ভাবুন এখন তাদের অবস্থা কি ? যাদের ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে এই বৃষ্টির ভেতর তাদের অবস্থান এখন কোথায় ?
ভাবতে অবাক লাগে যখন রামুতে আক্রমন হল তখন তাৎক্ষনিক ভাবে কি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রি , সাবেক শিল্প মন্ত্রী দিলিপ বরুয়া সেই রাতেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিল ।
সঙ্গে সঙ্গে মতায়েন হয়েছিল বিজিবি, পুলিশ র‍্যাব ।
কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় কেন টনক নরেনি সরকারের ।
এখানে কিসের ছিল এতো দিধা ?
নাকি এক বিরাট রহেস্য
যে রহেস্যের বেড়া জালে বার বার বাধা খেয়েছে আমার দেশের হাজার হাজার সংখ্যালঘু পরিবার ।
আমি বঙ্গবন্ধুকে খুব ভালবাসি । তার একটা কথা আমার বার বার মনে পরে । কথাটি আমাকে শুনিয়েছিলেন মাইন উদ্দিন খান বাদল । বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমার দেশের প্রতিটা নাগরিক নির্মল চিত্তে , নিশ্চিন্তে ও নির্ভয়ে যার যার ধর্ম পালন করবে আনন্দের সাথে । কিন্তু আজ উনি নেই উনি থাকলে হয়তো এরকম দেখতে হত না । নেই বলে মনে করি বঙ্গবন্ধু ও আজ সংখ্যালঘু । আমি সরকারকে বলব হিন্দুরা মন্দিরে পূজা দিবে আর বাইরে পুলিশ পাহারা দিবে সেই পূজা কখনো হয় না । হয় সাম্প্রদায়িকতা প্রকাশ । আপনি একবার ভেবে দেখুন এটাকি আপনার বাবার স্বপ্ন ? এটা কি অসাম্প্রদায়িকতা প্রকাশ ?

এটা হল নিয়ম রক্ষা । তাই বলব দয়াকরে এই নিয়ম রক্ষা খেলা বন্ধ করুন ।
আপনি জানেন এদেশের হিন্দুরা আপনাকে ভোট এমনিও দিবে ওমনি ও দিবে । তাই বলে এই সরলতার সুজগ নিবেন না ।
আমি জানি আপনি খুব বিচক্ষণ বেক্তি । আপনি সব খবর রাখেন ।
আপনি ৪র্থ শ্রেনি পড়া শিশুর চিঠির উত্তর দিতে পারেন আর আমার দেশের অসহায় হিন্দু ভোটারদের কান্নার কথা জানেন না ?
আপনি মিরাজের ঘর বানিয়ে দেয়ার জন্য টাকা দিতে পারেন
আর সসহায় মানুষের ভাঙ্গা ঘর জোরা লাগানোর কথা বলতে পারেন না ?

পরিশেষে একটা কথা বলি ,
আপনি বোধয় জানেন এদেশে হিন্দুর বা সংখ্যালঘুর পরিমান দিন দিন কমে যাচ্ছে । এরকম অত্যাচার থাকলে যতটুক আছে তাও থাকবে না ।
একটা সময় অস্তিত্ব সংকটে পরবে সংখ্যালঘুরা । তখন আপনি বলতে পারবেন এদেশে ১০০% মুসলিম এর দেশ । কিন্তু তখন শান্তি পাবেন না । আপনি একবার চতুর্দিকে তাকিয়ে দেখুন পরিপূর্ণ মুসলিম দেশ গুলো আজ কেমন আছে । তাই আপনার কাছে বিনিত অনুরধ রেখে বললাম দয়া করে আমার দেশের নিরিহ সংখ্যালঘুদের বাচার ব্যাবস্থা করে দিন । আমি বিচার চাই না । কারন এর পরিপূর্ণ বিচার আপনি করতে পারবেন না । কারন এরকম অতীতে বহুবার ঘটেছে । আর যদি করতে জাবেন তখন এই ধর্মের বেড়াজালে আটকা পরবেন ।
তাই আমি বিচার চাই না আমি চাই একটু বাঁচার নিরাপত্তা ।
ধন্যবাদ
টিটপ হালদার

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 15 = 19