স্যাটায়ার- রূপান্তর

পূর্ব কথাঃ
দেবদূত ঘটাহপের ডাকে চিন্তায় ছেদ পড়ে ইশ্বরের।
ইশ্বর তখন সমাজের কোন আপেক্ষিকতার কারণে ভাতের সাথে চা মিশিয়ে খাওয়া হয় না! এটা নিয়ে ভাবছিলেন।
-ঘটাহপ (দেবদূত)! কিছুকি বললে?
-আজ্ঞে ঠিক ধরেছেন প্রভু।
-কি সমস্যা?
-এক ছোকরা বড্ড জ্বালাতন করছে!
-পাঠিয়ে দাও আমার কাছে।
-যথা আজ্ঞা প্রভু।
*
-কি হে ছোকরা! শরীর মন ভালো? কথাটা বলেই হাসিমুখে ইশ্বর আমার দিকে তাঁকালেন।
ইশ্বরকে যেমনটা ভেবে রেখেছিলাম তার বিন্দুমাত্র মিল খুঁজে পেলাম না।
-অাপনি মিথ্যুক! আপনার সাথে কথা বলতে ঘেন্না হচ্ছে!
কিছুটা রাগ্বত স্বরে বলে উঠলাম। ইশ্বর নড়েচড়ে বসলেন। তার মুখটা উচ্ছসিত লাগছিল খুব।
-তোমার কথায় মজা পাচ্ছি! নাম কি হে তোমার?
-বাপমায় সুলাইমান ডাকতো! গফ আদর করে ডাকতো সুলু!
-গফ কি জিনিস?
-বুঝবেন না! আপনি কেন মিথ্যাচার করেন আগে এইটা বলেন?
-তোমার অভিযোগ পরিস্কার করে বলো, হাতে সময় কম।
-আপনি বলেছিলেন, নামায বেহেশতের চাবি! জ্ঞান হওয়ার পর থেকে এক ওয়াক্ত নামাযও কাজ্বা করি নাই! নামায পড়তে পড়তে আমার কপালে কালো কসড়া পড়ে গেছে। (হাত দিয়ে কপালের কালো দাগটা দেখাইলাম)। এরপর গতকাল দুপুরে পেটপুরে খেয়ে একটু খানি ঘুমিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঁঠে দেখি আযরাঈল তার কার্য সম্পাদন করে ফেলেছে। ভাবলাম, রোজার দিনে রোজা না রাইখা খাওয়ার অপরাধ হিসেবে আমাকে ইশ্বর শাস্তি দিয়েছেন! আমার কাছে তো বেহেশতের চাবি আছেই, যখন খুশি বেহেশতে চইলা যামু! ওমা এখানে এসে দেখি বেহেশত, দোযখ কোনটাই নাই! সব ফকফকা!
-তুমি যেগুলা বললে, আমি এগুলা বলেছি?
-আলবৎ বলেছেন! একবার নয় বার বার বলেছেন!
-হাঃ হাঃ কোথায় পাইছো এইসব?
-ক্যান আপনি কোরআনে এগুলো বলেন নাই?
-কোরআন আবার কি?
-বাহ! বাঃ বাঃ আপনাকে যতই দেখছি ততই অবাক হচ্ছি! নিজে গ্রন্থ লিখলেন, দূত দ্বারা আমাদের কাছে পৌছে দিলেন, আবার নিজেই অস্বিকার করছেন?
-শোন ছোকরা! আমি কোন কোন দূতও পাঠাই নাই, কোন গ্রন্থও পাঠাই নাই।
-তাহলে এগুলা যারা প্রচার করেছে, অামাদের ধোঁকা দিয়েছে, আপনার নামে ভয় দেখিয়ে, লোভ দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাছিল করেছে তাদেরকে কেন বাঁধা দিলেন না?
-বাধাঁ দেই নি? এত সুন্দর একটা মস্তিষ্ক দিয়েছি, তার মধ্যে বিবেক দিয়েছি, বিচার-বুদ্ধির ক্ষমতা দিয়েছি! এগুলোই দিয়েছি কি ঘোড়ার ঘাস কাটতে? ইশ্বর হঠাৎ রেগে উঠলেন। তারপর কাউকে নির্দেশ দিলেন,
-ঘটাহপ? ছোকরাটাকে আবার দুনিয়ায় পাঠাও গাঁধার রূপে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 3