আইএস, ইসলাম এবং ওহাবিজম

বিশ্বব্যাপি ইসলামিক সন্ত্রাসেরর উৎস
জানতে হলে আপনাকে ওহাবিজম
সম্পর্কে জানতে হবে।আইএস,আলকায়দ
া থেকে শুরু করে আমাদের দেশের
জেএমবির মত দলগুলোর মূল মতাদর্শ হল
ওহাবিজম।এই মতার্দশের প্রতিষ্ঠাতা
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওহাব।বিন ওহাব ১৭০৩
সালে নজদে জন্মগ্রহণ করেন।ওহাবী দর্শন
মুলত ইবনে তাইমিয়ার লেখা পুস্তক গুলো
দিয়ে প্রভাবিত।তবুও অনেকের মতে
ইবনে ওহাব ছোটবেলা থেকে
কাজ্জাবের মত যারা নিজেদের নবী
বলে দাবি করেছিল তাদের লেখা বই
পড়তেন।এর ফলে তিনি ধর্মের কট্টরপন্থায়
ঢুকে পড়েন।এজন্য তিনি মদিনা ও বসরা
থেকে বিতাড়িত হন।ইবনে ওহাব কুরআন ও
তরবারিতে বিশ্বাসী ছিলেন।তিনি
মনে করতেন, যারা ইসলামকে পুরোপুরি
অনুশীলন করেন না তাদের এবং
অমুসলিমদের হত্যা করা জায়েজ। তিনি
১৭৪৪ সালে মুহাম্মদ ইবনে সউদের সঙ্গে
মিলিত হন এবং সুসম্পর্ক গড়ে তুলেন।
পরবর্তীতে তারা একই সঙ্গে তাদের
মতবাদ অস্বীকারকারী মুসলীম ও
অমুসলিমদের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করেন।
এতে শিয়ারা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়
বলে অনেকে ওহাবী আন্দোলনকে
ইসলাম সংস্কার আন্দোলন হিসেবে
অবহিত করে।অনেকের দৃষ্টিতে এটি
বাতিল সন্ত্রাসী আন্দোলন হিসেবে
অবহিত করে।
সৌদি ওহাবিজমের সর্বশেষ স্বীকার
সিরিয়া এবং ইয়েমেন।গনতন্ত্রের
দাবিতে সিরিয়ায় মানুষ আসাদ
সরকারের বিরুদ্ধে গনআন্দোলন শুরু করে।
আসাদ সরকার আন্দোলন ভন্ডুল করতে দমন
নিপীড়নের আশ্রয় নেয় এবং আসাদ
বিরোধী এই মনোভাবকে
সৌদি,কাতার,তুরুষ্ক হাতিয়ার
হিসেবে শিয়া -সুন্নি বিরোধকে
উষ্কে দিতে থাকে।এর পরিপেক্ষিতে
২০১২ সালে সৌদি সরকার তাদের
গোয়েন্দা প্রধান বান্ডার বিন
সুলতানকে সিরিয়া প্রেয়ন করেন এবং
তার মুল কাজ ছিল সুন্নিগ্রুপগুলোকে
সুসংগঠিত করা।তিনি সুন্নি
জিহাদিদের আল কায়েদা সমর্থিত আল
নুসরাহ ফ্রন্টের ব্যানারে একত্র করেন
যাদের প্রধান টার্গেট ছিল আসাদ
সরকার এবং শিয়াদের হিজবুল্লাহ
বাহিনী।সৌদি,কাতার, তুরুষ্ক আল
কায়েদা ইন ইরাক,আল নুসরা ফ্রন্টকে
সিরিয়ায় বিদ্রোহী গোষ্টি হিসেবে
অস্ত্র এবং অর্থ যোগান দেয়।পরবর্তীতে
আল নুসরাহ থেকে একদল যোদ্ধা বের
হয়ে আইএস গঠন করে।আবু বকর আল বাগদাদী
এগ্রুপের প্রধান। বাগদাদীর নেতৃত্বে
আইএস ইরাক এবং সিরিয়ায় তাদের
অধিকৃত জায়গায় ইসলামিক রাষ্ট্র গঠন
করেন এবং সেখানে ওহাবিদের ন্যায়
কট্টর সরিয়া আইন চালু করে।ওহাবিজমের
মত তারাও তাদের বিরোধী
মুসলমানদের অমুসলিম মনে করে এবং
তাদের হত্যা করাকে জায়েজ মনে
করে।তারা সেখানে নারীদের জন্য
কট্টর পর্দানীতি,চুরির জন্য হাত কাটা,
শিরোদচ্ছেদ আইন চালু করে।
২০১৪ সালের জুন মাসে সৌদি আরবে এক
জরিপে দেখা যায় ৯২ % সৌদি
নাগরিক মনে করে আইএসের চালুকৃত
শরিয়া আইন ইসলামের সাথে
সংগতিপূর্ণ। এছাড়া জর্দানেও আইএসের
সমর্থনে তরুনদের পতাকা উড়ানোর ঘটনা
প্রমান করে আইএস ইসলামিক দল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 68 = 78