সূরা আনয়াম ১০৮ নম্বর আয়াত

কিছুদিন আগে নাসিরনগরে হিন্দুদের উপর মুসলিমদের সহীহ হামলা হওয়ার পর থেকে ফেবুতে মডারেট ছাগুদের ওয়াল,বিভিন্ন কেল্লা-ফেল্লা-মুন্না মার্কা পেজ গুলাতে সূরা আনয়ামের ১০৮ নম্বর আয়াত ঝড়ের গতিতে পোস্ট দিতেছে এবং প্রমান করার চেষ্টা করতেছে এর সাথে ইসলামের কোন লিংক নাই। ইসলমে প্রচুর অথেনটিক হাদিস এবং কুরানের আয়াত আছে যাতে একথা পরিষ্কার যে মুর্তী ভাংগা ফরজ সকল মুসলমানের জন্য। কিন্তু,এখন এসব মডারেট গুলা তা ফেবুতে কিংবা নিজেদের মুখেও আনবেন না। এসব আয়াত তারা সংরক্ষন করেন হিন্দুদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য। যেমন হিন্দুদের দূর্গাপূজার সময় মূর্তিপূজা বিরোধী পোস্টে ফেবুর পাতা ভরে যায়। কিন্তু,প্রশ্ন হল এখন কোথায় গেলো সেসব আয়াত-হাদিস। এখন সব বন্ধ, শুধু পোস্ট হবে সূরা আনয়াম এর ১০৮ নম্বর আয়াত। আসুন প্রথমে দেখে নেওয়া যাক কি আছে এই আয়াতে,

“হে মুমিনগন,এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের পূজা করে তোমরা তাদের কে গালাগালি করও না। তাহলে তারা অজ্ঞনতাবসত আল্লাহকে গালাগালি দিতে শুরু করবে। ”

আয়াতটা আরও বড় কিন্তু আয়াতের এটুকুই সব যায়গায় ব্যবহার করা হয়। তাফসিরে যাওয়ার আগে, আপনারা আয়াতটা একটু ভাল করে পড়লেই বুঝবেন যে, এখানে আল্লাহ গালি-গালাজ দেওয়া-কে খারাপ বলেন নাই বা ইহা যে ভাল কাজ নয় সেটাও বলেন নাই। তিনি জাস্ট নিজেকে গালির হাত থেকে সেভ করার জন্য গালি দিতে মানা করেছেন। এই আয়াত সম্পর্কে তাফসির-ই-ইবনে কাসির এ বলা হয়েছে,
“আল্লাহ তায়ালা নিজে মুহাম্মদ এবং তার অনুসারীদের বলেছেন যে, তারা যেন অন্য দেব দেবীদের ভাল-মন্দ বলা থেকে বিরত থাকে। ইহা বলার কারন হচ্ছে যদি মুশরিকরা পাল্টা আল্লাহকে গালি দেয় তার জন্য। হযরত কাতাদ হতে বর্নিত যে,মুসলমানরা দেবি গুলাকে গালি দিত, কটুউক্তি করতো। তার জবাবে মুশরিকরাও আল্লাহ তায়ালাকে ভাল-মন্দ বলতো। এরপর এক পর্যায় মুশরিকদের একদল আবু তালেবের কাছে যায় এবং অনুরোধ করেন,আপনি মুহাম্মদকে মানা করেন তিনি যেন আমাদের দেব-দেবীকে গালগালাজ করা থেকে বিরত থাকে। নতুবা আমরা মুহাম্মদকে হত্যা করতে বাধ্য হব। এরপর, আবু তালেব মুহাম্মদ কে ডাকেন, এবং তাকে নিষেধ করেন তাদের দেবদেবিকে গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে। কিন্ত,মুহাম্মদ তা না শুনে, আবু জেহেল কে বলল, “বলুন আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই” একথা শুনে আবু জাহেল আরও ক্ষেপে যায় এবং বলেন আপনি আমাদের দেবতাকে ভাল-মন্দ বলা থেকে বিরত থাকুন নতুবা আমরাও আপনার আল্লাহকে ভাল-মন্দ বলতে বাধ্য হবো। এজন্যই আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করে। সুতরাং, তাদের দেবদেবীকে গালি দেওয়ার যৌক্তিকতা থাকলেও এই অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে তা থেকে বিরত থাকা উচিত।
(তাফসিরে ইবনে কাসির খন্ড-৮,পৃ-১৪৩-১৪৫)

উপরের তাফসির দেখে কিছু জিনিস পরিষ্কার যে মুহাম্মদের উপর মক্কা বাসিরা খুব-ই সহনশীল ছিলেন এবং মুহাম্মদের প্রচার নিয়েও কখনও হাসি-ঠাট্টা করতেন না যতক্ষন না মুহাম্মদ ইহা শুরু করে ছিলেন। মক্কার মুশরিকরা এতটাই সহনশীল ছিল যে, তারা নিজেরা মুহাম্মদের ক্ষতি না করে আবু তালেবের কাছে অনুরোধ করেছেন তাকে বিরত থাকার জন্য।। মুহাম্মদের গালি-গালাজ সহ্য করতে না পেরে তারও অবশেষে বাধ্য হয়েছে মুহাম্মদের মতবাদ কে ভাল-মন্দ বলতে। এই আয়াত যখন নাযিল হয় তখন মুহাম্মদের অনুসারীর পরিমাণ খুব কম ছিল যার ফলে মুহাম্মদ বাধ্য হয়ে সাময়িক রফা করে যে তারা গালি গালাজ করবে না। এই,আয়াতের তাফসিরে পরিষ্কার ভাবে লেখা যে মুশরিকদের দেব-দেবীদের গালি দিতে হবে এটাই যৌক্তিক কিন্ত,বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী মন্দ কথা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তার মানে গালি দেওয়া বৈধ কিন্তু তা অবস্থা বুঝে। তাই, মডারেট ছাগুদের কাছে অনুরোধ এই আয়াত নিয়ে আপনাদের এবং মুহাম্মদের উদারতা প্রকাশ করার কিছুই নেই।

পুনশ্চঃ”শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 26 = 34