নারীর পোশাকে পরিবর্তন কেনো?

আমার অনেক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীর বিয়ে হয়ে গেছে। ফেসবুকের কল্যাণে তাদের দাম্পত্যজীবনের নাটকীয় ছবি দেখে উপভোগ করি। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, বিবাহের পর আমার বন্ধুদের পোশাকের কোন পরিবর্তন হয় নি। অর্থাৎ, বাঙালি ছেলেরা সাধারণত যে সকল পোশাক পরিধান করে থাকে, তারা তেমনই পোশাক পরছে। তাদের মাথায় টুপি নেই। কিংবা তারা জিন্স, টিশার্টের পরিবর্তে পাঞ্জাবি পায়জামা পরছে না। কিন্তু তাদের স্ত্রীদের পোশাকে ব্যাপক পরিমাণে পরিবর্তন এসেছে।

বাঙালি নারীরা সাধারণত যে সকল পোশাক পরে থাকে, বিবাহের পর তাদের শরীরে অতিরিক্ত পোশাক বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বিবাহিত বন্ধুদের স্ত্রীদের মাথায় গরুর মালার মত কী জানি দেখা যায়। অর্থাৎ তাদের স্ত্রীদের চুল আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করা যেতেই পারে। সম্ভবত বিদঘুটে পোশাকটির নাম হিজাব।

আবার, অনেকের স্ত্রীরা কালো-নীল-বিভিন্ন রঙের লম্বা পোশাকে বন্দি। অর্থাৎ বোরকা পরছে। এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে, বিবাহিত না হলে নারী কিছুটা হলেও স্বাধীন জীবন কাটাতে পারে কিন্তু, বিবাহের পর তার নিজস্ব স্বাধীনতার কোন মূল্য নেই। ধর্মান্ধের পরিবারে বেড়ে ওঠা একটি নারীর জীবন আরও ভিন্ন ও কষ্টকর।

বাঙালি নারীরাও কীভাবে এত ব্যক্তিত্বহীন হয়ে যাচ্ছে এটা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা যেতেই পারে। হিজাব ও বোরকা কোন সময়ই নারীর স্বাধীনতার অংশ নয়। কারণ এই কুৎসিত পোশাক নারী বাছাই করে না। পুরুষ জোরপূর্বক নির্ধারণ করে দেয়। এক্ষেত্রে নারীর কোন মতামত প্রাধান্য দেয়া হয় না।

যেখানে পুরুষের পোশাকের কোন পরিবর্তন হয় না, সেখানে নারীর পোশাকের পরিবর্তন হবে কেনো? হিজাব ও বোরকা ধর্ষণের প্রতীক। এটা নারীদের জন্য অপমানের। ধর্ম যদি পালন করতেই হয় তাহলে শুধু নারীর পোশাকের পরিবর্তন হবে কেনো? পুরুষের পোশাকের পরিবর্তন নয় কেনো? যে সম্প্রদায় নারীকে খাদ্যবস্তু হিসেবে নির্ণয় করে, তাদের কাছেই শুধু হিজাব ও বোরকা জনপ্রিয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 3