আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৪

বিভক্তি ও শাসন (Divide and Rule)

দলত্যাগকারীদের জন্য পরকালে কঠিন শাস্তির হুমকি দিলেও , মোহাম্মককে তার অনুসারীদের জীবিকার উপায় খুঁজতে হয়েছিলো । এই সমস্যার সমাধানের সে তার অনুসারীদের মক্কার বাণিজ্য কাফেলাগুলোকে লুটের আদেশ দেয় । সে দাবী করে মক্কাবাসীরা যেহেতু তাদেরকে নিজ বাসভূমি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে সেহেতু তাদের কাফেলা লুট করাতে দোষের কিছু নেই ।

“যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম। যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে অন্যায়ভাবে বহিস্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ।” (কোরান ২২: ৩৯-৪০)

ইত্যবসরে সে তার অনুসারীদের কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উৎসাহিত করতে অনেক আয়াত নাযেল করে ।

“হে নবী, আপনি মুসলমানগণকে উৎসাহিত করুন জেহাদের জন্য। তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন দৃঢ়পদ ব্যক্তি থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর মোকাবেলায়। আর যদি তোমাদের মধ্যে থাকে একশ লোক, তবে জয়ী হবে হাজার কাফেরের উপর থেকে তার কারণ ওরা জ্ঞানহীন।” (কোরান ৮ : ৬৫)

মোহাম্মদ এসব আক্রমণকে আজকের দুনিয়ায় যাকে ভিক্টিম কার্ড বলা হয় , সে কৌশলে জায়েজ করার চেষ্টা করে । মোহাম্মদের অনুসারীরাও বর্তমানেও তাই করছে । সে দাবী করে কাফিররা যমুসলিমদের নির্যাতন করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে । সত্য হচ্ছে যে, মোহাম্মদ নিজেই এইসব আক্রমণের শুরু করে , মক্কার বাণিজ্য কাফেলাগুলোকে আক্রমণ এবং হত্যার মাধ্যমে। তার কথা শুনার এবং তার আদেশ পালন করে আক্রমণ করার মত যথেষ্ঠ সংখ্যক অনুসারী পাওয়ামাত্রই সে এসব শুরু করে ।

এখানে গোঁজামিল স্পষ্ট । একদিকে মোহাম্মদ তার অনুসারীদের নির্দেশ দিচ্ছে মক্কা ছেড়ে যাবার জন্য এবং যারা যেতে চায় না তাদেরকে ইহকালে হত্যা আর পরকালে কঠিন দোযখের হুমকি দিচ্ছে , আবার অন্যদিকে দাবী করছে কাফিররা তাদের মক্কা থেকে তাড়িয়েছে, এবং তার অনুসারীদের উপর যুদ্ধ ‘চাপিয়ে দেয়া হয়েছে’।

আজকের দুনিয়ার মুসলিমরাও ঠিক এই কাজ করে থাকে । তারা অমুসলিমদের নির্যাতন করছে, তাদের সবসময় সন্ত্রাসের মধ্যে রাখছে , সংখ্যালঘুদের উপর পরিকল্পিত অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে আবার অন্যদিকে দাবী করছে তারা নিজেরাই আসলে নির্যাতিত গোষ্ঠী । এই মিথ্যা নির্যাতিত অবস্থার দাবী দিয়ে তারা তাদের নির্যাতনের শিকার গোষ্ঠীর উপর নিজেদের হামলাকে জায়েজ করার চেষ্টা করে ।

আরবি একটি প্রবচন আছে এরকম, ‘Darabani, wa baka; Sabaqani, wa’shtaka’ । বাংলা অর্থ মোটামুটি এরকম, ‘সে আমাকে আঘাত করলো তারপর নিজেই কান্না শুরু করলো, আর আগে আগে গিয়ে সবাইকে বলে বেড়াচ্ছে আমি নাকি তাকে মেরেছি’ । মোহাম্মদের কার্যপদ্ধতি এই প্রবচনের সাথে হুবহু মিলে যায় । তার অনুসারীরা এই একই নোংরা খেলা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে । এই কৌশল মোহাম্মদের জন্য অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে আসে । সে ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাইকে, পিতার বিরুদ্ধে পুত্রকে লেলিয়ে দিয়ে, গোত্র-গোত্রে তৈরী করা সন্ধি ভেঙে সামাজিক শৃংখলাকে তছনছ করে দেয় । এই কৌশল দিয়ে সে শেষ পর্যন্ত পুরো আরব উপদ্বীপকে নিজের শাসনের অধীনে নিয়ে আসে ।

এমন মনে করার কোন কারণ নেই যে আরবরা জন্মগতভাবেই নির্বোধ । ইসলামে দীক্ষা নেয়ার পর পাশ্চাত্যের লোকজনও এই একই আচরণ শুরু করে , যা চৌদ্দশ বছর আগের আরবরা করেছিলো । জন ওয়াকার লিন্ড (John Walker Lindh) ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে আফগানিস্তানে চলে যায় আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য । জোসেফ কোহেন (Joseph Cohen) ছিলো কট্টর অর্থোডক্স ইহুদি আর আজ সে বলে বেড়ায় ইসরায়েলিদের এমনকি তাদের শিশুদেরও হত্যা করা বৈধ । (টীকা-৩৫) । বিবিসির সাংবাদিক Yvonne Ridley যে ২০০১ সালে গোপনে আফগানিস্তানে প্রবেশ করে এবং পরে তালিবানদের হাতে ধরা পরে এবং বন্দী জীবনের এক পর্যায়ে ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়, সে এখন তার নিজের দেশকে মনে করে পৃথিবীর তৃতীয় সর্বাধিক ঘৃণীত দেশ (আমেরিকা এবং ইসরায়েলের পরে) । সে এখন আত্নঘাতী বোমা হামলাকে সমর্থণ করে । কুখ্যাত সন্ত্রাসী Musab al-Zarqawi ,যে ইরাকে এক ধ্বংসাত্নক অভিযানে হাজার হাজার ইরাকিকে হত্যা করে এবং জর্ডানের এক বিয়েবাড়ীতে বোমা হামলা চালিয়ে ৬০ জনকে হত্যা এবং ১১৫ জনকে আহত করে , তার দৃষ্টিতে একজন হিরো । বেসলানের স্কুলে গণহত্যা এবং মস্কোর থিয়েটার জিম্মি সংকটের মূল পরিকল্পণাকারী চেচেন সন্ত্রাসী Shamil Basayev তার দৃষ্টিতে এক শহীদ যার জন্য জান্নাতে সুনির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ আছে । ইসলাম একটি কাল্ট । কাল্টগুলো সাধারণ মানুষকে জোম্বি এবং পশুতে পরিণত করে ।

জান্নাতের পুরষ্কারের সুসংবাদ

কোরানের বেশকিছু আয়াতে মুসলিমদের নির্দোষ জনগোষ্ঠীর উপর হামলা চালিয়ে লুট করতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবির জন্য । “আল্লাহ তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা লাভ করবে” (কোরান ৪৮ : ২০) । যেসব অনুসারীরা এইসব কাজ করে নিজেদের ভিতর বিবেকের দংশণে ভুগতো, তাদের বিবেককে প্রশমনের জন্য মোহাম্মদ তার আল্লার মুখ থেকে আয়াত নিয়ে আসে, “গণিমতের মাল যা পাওয়া যায় তা ভোগ করো, এগুলো উত্তম এবং বৈধ” (কোরান ৮ : ৬৯, আরো দেখা যেতে পারে কোরান ৮ : ৭৪) 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৪

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 59 = 61