বাংলাদেশ পুলিশ ও জার্মান পুলিশ

বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য সংখ্যা ১,৪১,১২৩ জন। প্রায় ১,২০৪ জন সাধারণ জনগণের জন্য একজন পুলিশ নিয়োজিত। অপর দিকে জার্মান পুলিশের সদস্য সংখ্যা ৪০,০০০। তার মানে প্রতি ২,০০০ সাধারণ জনগণের জন্য একজন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত।
জার্মান পুলিশের নাম শুনলেই প্যান্ট ভিজে যায় কিন্তু আমাদের দেশের পুলিশের নাম শুনলে কি হয় তা সবাই জানে। জার্মান পুলিশেও কিন্তু সাইকেলবাহী সদস্য রয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশে অনেক অলিখিত সোর্স রয়েছে যারা পুলিশ কে তথ্য দিয়ে থাকে। কিন্তু ঐ সোর্সদের দাপটে সাধারণ জনগণের জীবন অতিস্ট। আপনি পুলিশের কাছে সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও টাকা দিতে হবে আবার তা উঠাতে গেলেও তাদের টাকা দিতে হবে। আর মামলা করলে দৌড়াতে দৌড়াতে পায়ের জুতা ক্ষয় হয়ে যাবে। তাই পুলিশের নাম শুনলে আমরা ভয় পাই, কারন তাদের ডাকলেই শুরু হয় টাকা ঢালার খেলা। এমন কি মরা লাশ নিয়েও তারা ঘুষ বানিজ্য করে থাকে।
আমাদের রক্তে মিশে গেছে দুর্নীতি তাই প্রয়োজন ভ্যাকসিন।

আমাদের দেশেও কিন্তু আইন আছে কিন্তু তার প্রয়োগ নাই। ফখরুদ্দিন যখন ক্ষমতায় ছিল সে কিন্তু নতুন আইন তৈরি করেন নাই, শুধু আইনের প্রয়োগটা সঠিকভাবে করেছিলেন। আর তাতেই প্রশাসন সব নিয়মানুবর্তিতার মূর্তিতে রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছিল। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, খাস জমি উদ্ধার সহ সবই সম্ভব হয়েছিল সে সময়। ঘুষ খাওয়া তো দূরের কথা ঘুষের নাম বলাও সরকারী অফিসগুলাতে নিষেধ ছিল। অথচ ইদানিং দেখা যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তারা টেবিলের উপর প্রকাশ্যে থুথু লাগিয়ে গুনে গুনে ঘুষ নিচ্ছে।

তাহলে কি আমাদের পুলিশ আর কখনোই ভালো করা যাবে না। আমার উত্তর হচ্ছে অবশ্যই ভালো করা যাবে। আমাদের স্কুলের এক ম্যাডাম একটা গল্প নিয়মিতই বলতেন। এক রাজার নাকি এক বানর ছিল। রাজা প্রতিদিন বানর টিকে সকাল বিকাল দুই বেলা পেটাত। তাই দেখে রাজ্যসভার মন্ত্রী রাজাকে জিজ্ঞেস করলেন কেনো তিনি বানরটিকে দুই বেলা পেটান। তার পরের দিন রাজা বানরটিকে পেটালেন না। আর ফলাফল বানরটি আস্তে আস্তে বাঁদরামি শুরু করলো। এখানে লাফায়, ওখানে লাফায় আবার লাফ দিয়ে রাজার ঘাড়ে উঠে পরে। তখন রাজা মন্ত্রীদের বললেন বানর কে প্রশ্রয় দিলে মাথায় উঠবেই তাই শাসন করে রাখতে হয়।

জার্মান তথা সমগ্র ইউরোপীয় পুলিশ অনিয়ম করতে পারে না কারন তারা আইন কে শ্রদ্ধা করে এবং অনিয়ম করলে তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দুই বছর আগে জার্মানিতে এক চোরকে পুলিশ প্রকাশ্যে শারীরিক আঘাত করেছিল আর সে জন্য ঐ পুলিশ সদস্যের বিচার হয়েছিল এবং চাকরী থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হয়েছিল।

কয়েকদিন আগে ঢাকা সিটি মেয়র আনিসুল হক বললেন বললেন কেউ ঘুষ চাইলে রেকর্ড করে রাখতে, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি জনাব মেয়র কে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু রেকর্ড না হয় করলাম কিন্তু অভিযোগ টা করবো কোথায়? সর্ষের মদ্ধে ভূত থাকলে ভূত তারাবো কি করে?

এলাকার পাতি নেতারাও পুলিশ কে নিজেদের পার্সোনাল কর্মচারী মনে করে। গত সপ্তাহে তো আওয়ামীলীগ নেতার থাপ্পরে এক পুলিশ সদস্যের কানের পর্দাই ফেটে গেলো। আমার তো মনে হয় শুধু ঐ পুলিশের কানের পর্দাই ফাটে নাই, ফেটেছে সমগ্র পুলিশের কানের পর্দা। অথচ ঐ নেতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ তো নিতে দেখলাম না। জার্মান পুলিশ কে দেখলাম সরকার দলীয় হোক আর বিরোধী অপরাধী হলে তাকে দুই জন পুলিশেই গ্রেফতার করে নিয়ে আসে যেটা আমাদের পুলিশ স্বপ্নেও ভাবতে পারে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বাংলাদেশ পুলিশ ও জার্মান পুলিশ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2