ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়াতে আমি খুশী। আমি খুশী, কারণ, ভন্ড সুশীলের চেয়ে স্পষ্ট ফ্যানাটিক ভালো।


ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় আমি খুশী। আমি খুশী, কারণ, ভন্ড সুশীলের চেয়ে স্পষ্ট ফ্যানাটিক ভালো।

ট্রাম্প সাহেব অনেক উক্তি করছেন যেগুলা শুনতে খারাপ লাগলেও তাই সত্য। উনি সাধারণ শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের মনের কথা পড়তে পারছেন। রাজনীতির বাইরে এসে সাধারণ মানুষের মত কথা বলছেন। কর্পোরেট ব্যাবসায়ী আর রাজনৈতিক এলিটদের কাচকলা দেখাইতে সক্ষম হইছেন, এইটাও গণতন্ত্রের বিজয়।


একটা উদাহরণ দিয়া শুরু করি, আমেরিকা সহ সভ্য সুশীল ভন্ড উন্নত দেশগুলার ভন্ডামির। বাংলাদেশী সেনারা সহ নানাদেশের সেনারা আফ্রিকার বিভিন্নদেশে জাতিসংঘ মিশনে যায়। এরা আসলে পাহারাদার। প্রতিটা দেশেই নানা গ্রুপরে আর্মস সাপ্লাই দেয় এইসব সভ্য দেশই, ওরা নিজেরা মারামারি করে আর নানা খনি, প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ থাকে এইসব সুশীল দেশের নানা কোম্পানীর কাছে। মাঝে মাঝেই আফ্রিকার জাতিসংঘ পরিচালিত এয়ারফিল্ডে নানা বিমান নামে কোন অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই, যদিও জাতিসংঘ এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের পূর্ব অনুমতি ছাড়া এইসব এয়ারফিল্ডে কোনো বিমান নামবার কথা না, কিন্তু এরা এটিসির তোয়াক্কা করে না। এরা অবতরন করে স্বগর্বে, এরপর বাক্সে, কন্টেইনারে কইরা জিনিসপত্র তোলা হয়, আর ওইসব নিয়া জানি কই উইড়া যায়। শতশত বছরের পুরানা গাছ কাটে, লরি ভইরা ওইসব গাছের গুড়ি যায় ফ্রান্সে, বেলজিয়ামে। মাশাল্লাহ, আর যাই হোক, আফ্রিকান দেশগুলার হাইওয়েগুলা ভালোই উন্নত, ইউরোপের মত। এমন ফ্রি কাঁচামালের জন্য কিছু জাতিসংঘ মিশন চালানোই যায়। ঠিক এই কারণেই বড় বড় খনিগুলার পাশে কিংবা খনিগুলা ঘোড়া যেই জাতিসংঘ কন্টিনজেন্ট থাকে, সেইগুলার সবই পশ্চিমা সভ্য উন্নত দেশগুলার। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, উরুগুয়ে, কেনিয়া, এইসব দেশের সেনারা হইলো এদের চারদিকে থাইকা নিরাপত্তারবিধানের জন্য। আফ্রিকানগুলা তো বর্বর এখনো, অশিক্ষিত, ওরা এইসব বুঝেও না। আবার এদের মাথাগুলারেও টাকা দিয়ে কিনে ফেলা।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় আমি খুশী। আমি খুশী, কারণ, ভন্ড সুশীলের চেয়ে স্পষ্ট শয়তান ভালো।

ট্রাম্প সাহেব অনেক উক্তি করছেন যেগুলা শুনতে খারাপ লাগলেও তাই সত্য। উনি সাধারণ শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের মনের কথা পড়তে পারছেন। রাজনীতির বাইরে এসে সাধারণ মানুষের মত কথা বলছেন। কর্পোরেট ব্যাবসায়ী আর রাজনৈতিক এলিটদের কাচকলা দেখাইতে সক্ষম হইছেন, এইটাও গণতন্ত্রের বিজয়।

উনি বলছিলেন সাদ্দাম হোসেন আর গাদ্দাফি থাকলে বিশ্বের অবস্থা এখন অন্যরকম হইতো। সত্যিই কিন্তু তাই। নানা জাতি আর গোত্র, দলে বিভক্ত ওই দুই দেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকার ছিল শয়তান, নৃশংস একনায়ক। ওইসব দেশ ভদ্র রাজনীতির জায়গা না। সাদ্দাম আর গাদ্দাফি পরবর্তী ইরাক আর লিবিয়ার অবস্থা আমরা সবাই জানি।

উনি আইএস কে বোম মাইরা উড়াইয়া দেয়ার কথা বলছেন। আমার ধারণা উনি সেইটাও করবেন। হিলারির মত একদিকে অস্ত্র সাপ্লাই দিয়া আরেকদিকে ড্রোন এটাকের নাটক কন্টিনিউ করবেন না। সবচেয়ে ভালো হবে সিরিয়ার জন্য। সিরিয়াতে বাশার আল আসাদ সাদ্দাম কিংবা গাদ্দাফির মত চরিত্র। নানা বর্ণে, গোত্রে বিভক্ত সিরিয়ার শান্তির একমাত্র উপায় কঠিন স্বৈরশাসন। হাজার হাজার লোক ভুক্তভোগী হবে হয়তো, কিন্তু লাখ লাখ মারা যাবে না। কোটি কোটি মানুষ উদবাস্তু হওয়ার চলমান প্রক্রিয়া বন্ধ হবে।

রাশিয়ার সাথে বন্ধ্বুত্বের ঘোষণা দিছেন উনি, পুতিনও আজকে বক্তব্য দিছেন। বিশ্বের জন্য এইটা ভালো হবে। চাপে পড়বে চীন। চীন একটা অনৈতিক মানসিকতার দেশ হিসেবে বাড়ন্ত। তাদের সস্তা আর ভাইরাসের মত পণ্য সংক্রমণ বন্ধ করা উচিত। দুনিয়াতে, বিশেষ কইরা তৃতীয় বিশ্বের সরকারের নানা স্তর কেনাকাটায় দূর্নীতি, ভুয়া ইনভয়েস, স্টেট টু স্টেট লোন এবং কন্ট্রাক্টের নামে বিশাল পুকুরচুরির সংস্কৃতি ছড়াইয়া দেয়া সমাজতন্ত্রের ধ্বজ্জাধারী প্রকট পুজিবাদী রাষ্ট্র চীনের একটূ আঘাত লাগা জরুরী।

ট্রাম্প বলছেন ন্যাটোর দেশগুলাকে নিরাপত্তা পাইলে হইলে খরচ করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলাকে নিজেদের সমস্যার জন্য টাকা ঢালতে হবে যদি মার্কিন সাহায্য চায়। এবং উনি এইটা কইরাই ছাড়বেন মন হয়। সৌদিদের শিক্ষা হওয়া দরকার সবচেয়ে বেশি। শালারা ধর্মের নামে, সুন্নী নাকি সালাফি আদর্শের জন্য সব ধরনের অবিচার করতেছে নানা জায়গায়। ইয়েমেনে নির্বিচারে বোমা মারতেছে, ফসল, খামার পর্যন্ত নষ্ট করতেছে। জেদ্দার রকেটকে মক্কায় হামলা বইলা সহানুভূতি নিতেছে।। এই ভন্ড দেশের পতন আবশ্যক। আশা করি ট্রাম্প যদি সত্যিকারের সাধারণ মানুষের প্রেসিডেন্ট হন, তাইলে এইসব বেজন্মা আরবদের লাত্থাইয়া সোজা করবেন। ইসরাইলও এতজন ফিলিস্তিনি মারে নাই, আরবরা নিজেরা নিজেরা মারামারি কইরা নিজেদের মারছে। লাখ লাখ শিয়া, লাখ লাখ সুন্নী, কুর্দি এদের ভন্ড রাজনীতির শিকার।

ট্রাম্প ইসরাইলকে সমর্থন দিবে একচোখা, এইটা হিলারী ওবামাও দিয়া আসছেন, মুখে যত ইহুদী আর ফিলিস্তিনীদের জন্য দুই রাষ্ট্র নীতির কথা বলেন না কেন। এইদিক দিয়াও তো ট্রাম্পই ভালো, মনে যা আছে তাই বলছেন। বছরের পর বছর মুলা ঝুলাইয়া রাখবার ভং ধরেন নাই। ট্রাম্প হ্যতো তাই করবেন আগের সবাই যা কইরা গেছে। ইসরায়েল সবার আগে সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্রগুলা পাবে। ইসরাইলের এখনই ফিফথ জেনারেশন ফাইটার এয়ারক্রাফট আছে, সবাই জানে পারমানবিক অস্ত্রও আছে। আর যেহেতু ইসরাইলের এইগুলা আছে, তাই মধ্যপ্রাচ্যের আরব মাথামোটাগুলা আমেরিকার কাছ থাইকাই অস্ত্র কিনবে। কিন্তু এদের ফিফথ জেনারেশন তো দুরের কথা, ইসরাইএর ধারেকাছে সক্ষমতার জিনিস দেয়া হবে না। এদের দিবে এফ-১৬, এফ-১৫ এইসব, তাই সম্পূর্ণ এভিওনিক্স যোগ করবে না। বিক্রিও হবে অনেক উচ্চমূল্যে। আমাদের গর্ধব আরব ভাইয়েরা পারেও। অবশ্যই পারে, কিন্তু ওইটা নিজেরা নিজেরা লাগালাগি করতে। ইসরাইলের একটা কেশ স্পর্শ করবার সক্ষমতা আরবদের আমেরিকা হইতে দিবে না।

উনি বলছেন মেক্সিকোর সীমান্তে দেয়াল দিয়া ওদের থাইকাই টাকা আদায় করবেন ওই দেয়াল নির্মান খরচের। দেয়াল দিক আর নাই দিক, সীমান্তে কড়াকড়ী করলেও কি সেইটা আমেরিকার জন্য ভালো হবে না? ড্রাগস আর নানা ক্রিমিনাল, খুচরা কাজের লোক সাপ্লাই দেয়া ছাড়া হিস্পানিক অভিবাসীদের বড় অবদান নাই আমার জানামতে। আমেরিকার কামলা শ্রেণির অভিবাসীর দরকার নাই। তারা দুনিয়ার মেধা নিজেদের দিকে টানে আর সেইটাতে অটল থাকাই যথেষ্ঠ। শুনতে রেসিস্ট মনে হইলেও আমেরিকার দুঃখ আসলে এই হিস্পানিক আর নিগ্রোরাই, যাদের শিক্ষা কম। সচেতনতা কম। তারা বুঝে না উচিত কোনটা। বার্ণি স্যান্ডার্সরে বাদ দিয়া হিলারীরে বাইছা নেয়া ডেওক্রেটদের জন্য ছিল বিরাট ভুল। ওরা হয়তো ট্রাম্প কিংবা রিপাবলিকানদেরও অতটা ভয় পায়নাই, যতটা হালকা বামপন্থী স্যান্ডার্সরে পাইছে। আর ঈমানদার মুসলমানদের কথা কি কমু? ইহুদি শুইনা ওরা মনে হয় এমনিই বার্ণিরে ত্যাগ করছিল। কিন্তু প্যালেস্টাইনের জন্যও বার্ণিই সবচেয়ে ভালো হইতো। কিন্তু যারা সমাজের ভালো চায়, সমাজের মাথারা তারে মাইনা নেয়না, সমাজের সাধারণ মানুষেরা সাধারণত তাদের চিনতে পারে না। বার্ণিরে আমেরিকা হারাইলো, এইটা দুনিয়ার জন্যই একটা ক্ষতি। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে থাকা দরকার ছিল সবচেয়ে মানবিক কোন ব্যক্তির।

ট্রাম্প আরও বলছেন মুসলিমদের আমেরিকায় অভিবাসন বন্ধ করবেন, নজরদারীতে রাখবেন। সঠিক কাজই হবে সেইটা। নিজেদের কাছে শুনতে খারাপ লাগলেও সত্য এইটাই যে সন্ত্রাসবাদের চরিত্রগুলা এই সময়ে এই ধর্ম থাইকাই মাথাচাড়া দিয়া উঠতেছে। তাই উনি যদি রিস্ক মিনিমাইজ করতে চান, ক্ষতি কি? উনি অন্তত হিলারীর মত হবেন না, যারা অভিবাসীদের রস চিপা খাবে, তাদের সামনে মুলা ঝুলাইয়া রাখবে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করবে না। এই হিলারী বেটিই আইএস এর পিছনের নাটের গুরু, আইএসের মেইন স্পন্সর, তা সবারই জানা। ওবামাও আসলে তাই, উনার রাষ্ট্র কি করে তা উনি জানতেন, সবই উনার অনুমোদিত। একদিকে তিনি মানবিক, আবার দুনিয়ার নানা প্রান্তে আমেরিকার অমানবিক কাজ উনি বন্ধ করেন নাই। আমি আবারও বলবো, ভন্ড সুশীলের চেয়ে স্পষ্ট শয়তান ভালো।

যাইহোক, অনেক কথা লিখলাম। আমি বার্ণি হারবার পর ট্রাম্পের সমর্থক। ট্রাম্পের চপেটাঘাত আমেরিকার রাজনৈতিক আর কর্পোরেট এলিটদের ব্যাপকভাবে দরকার ছিল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়াতে আমি খুশী। আমি খুশী, কারণ, ভন্ড সুশীলের চেয়ে স্পষ্ট ফ্যানাটিক ভালো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − = 11