গল্প: বাগান বাড়ি

কিটি মোল্লা একজন ঈমানদার ব্যক্তি। তিনি নিরক্ষর হলেও তার একমাত্র ছেলেটাকে একজন বড় মাপের আলেম বানিয়েছেন। তিনি প্রতিদিন সকাল বেলা ওঠে কোরআন তিলাওয়াত করে থাকেন। আজকাল শুধু তিলাওয়াত করে মনের মাঝে তেমন শান্তি পাননা। বইয়ের পাতায় অক্ষরগুলো কেমন অচেনা মনে হয়। ইস যদি অর্থসহ পড়তে পারতাম! ভাবে কিটি মোল্লা। অর্থসহ তিলাওয়াত করলে নাকি সওয়াবটাও বেশি হাসিল হয়। তিনি অর্থসহ কোরআন তিলাওয়াত করার জন্য একজন লোক রাখলেন যাতে করে মনের শান্তিটা পূরণ হয়।

কিটি মোল্লা বাড়ির শেষ মাথায় একটি বাগান বাড়ি তৈরী করেছেন। তিনি তার বৃদ্ধা বউটা রেখে বাগান বাড়িতে একাই থাকেন। অবশ্য বৃদ্ধার সেবাযত্ন করার জন্য দাসীবাদী রয়েছে। বেশ ভালই লাগে। বৃদ্ধ বয়সে রাতগুলো এত চমকাৎর যাবে ভাবতেই পারেননি কিটি মোল্লা। তার মাঝে মাঝে ভিশন আফসোস হয়। ইস যৌবনকালে যদি কোরআন হাদিস একটু ভালো করে পড়তো তাহলে আর আফসোস করার কিছু ছিলো না। অর্ধামিক মানুষগুলোর প্রতি কিটি মোল্লার করুণা হয়। তারা কত্ত বোকা! আল্লাহপাক আরাম আয়েশের জন্য কত্তব্যবস্থা করে রেখেছেন তা যদি প্রত্যেকে জানতো! মনদিয়ে যদি মাতৃভাষায় কোরআন হাদিস পড়তো! তাহলে কি আর এত কষ্ট থাকে?

কিটি মোল্লা বসে বসে সিগারেট ফুঁকছেন। মেজাজটা বেশ তিক্ষ্ম। তিনি কারো জন্য অপেক্ষা করছেন।
-“তোমার আসতে এত দেরী হলো কেন মারিয়া?”
-“বেগম সাহেবার শরীরটা ভালো না বেশি! তাই একটু দেরী হলো!”
-“তোমাকে একদিন বলেছি দেরি একদম সহ্য হয় না আমার!”
-“আর দেরি হবে না হুজুর!”
-‘যাও সরাব নিয়ে এসো। মনটা আজকে বড়ই চঞ্চল!”

কিটি মোল্লাকে চিন্তিত দেখাচ্ছে বেশ। লোকটা কি তাকে ভুলভাল কিছু পড়ে শোনালো? মনের খচখচানি দূর করার জন্য নিজের ছেলের কাছেই জিজ্ঞেস করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু এইসব বিষয় ছেলের সাথে আলাপ করবেন কিভাবে? আরে ধুর! আল্লাহ পাক যেখানে জায়েজ করে দিছে সেখানে আর লজ্জা কি? নিজেকে প্রবোধ দেয় কিটি মোল্লা।
-“বাবা! গোলাম রব্বানী?”
-“জি বাবা!”
-“আমার মনে গোলকধাধার সৃষ্টি হয়েছে। তা থেকে আমাকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তোমার সাহায্য দরকার।”
-“কি সাহায্য বাবা বলো?”
-“সূরা সূরা আল মা’আরিজ এর ২৯ এবং ৩০ নং আয়াতটা একটু তর্জমা করে আমাকে শোনাবে?”
-“২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে “এবং যারা তাদের যৌন-অঙ্গকে সংযত রাখে ” এবং ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে “কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না।”
-“ধন্যবাদ বাবা! আল্লাহ তোমার মনো বাঞ্চা পূরণ করুক!”

কিটি মোল্লা ভাবে, আল্লাহপাক কতই মহান! বিবি বুড়ি হয়া গেলেও তার জন্য দাসীর সু-ব্যবস্থা করে রেখেছেন। ঠোটের কোনে সুক্ষ্ম একটা হাসি ফুটে ওঠে কিটি মোল্লার। তিনি সিগারেট ধরিয়ে গুন গুন করতে করতে বাগান বাড়ির দিকে রওনা দেন।
-“মুন্নি বদনাম হুয়ি…!”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 6