স্বৈরাচার নিপাত যাক, গনতন্ত্র মুক্তি পাক

উত্তাল ঢাকার রাজপথ। দাবি একটাই স্বৈরাচারী সরকারের পতন চাই। ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। সেদিন ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির এক মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এক টগবগে যুবক, নাম তার নূর হোসেন। তৎকালীন স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ঢাকার রাজপথে নেমেছিলেন খালি গায়ে এবং প্রতিবাদ হিসেবে বুকে পিঠে সাদা রঙে লিখিয়ে নেনঃ ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। মিছিলটি ঢাকা জিপিও-র সামনে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি আসলে স্বৈরশাসকের মদদপুষ্ট পুলিশবাহিনীর গুলিতে নূর হোসেন নিহিত হন। পরবর্তীতে এই হত্যাকান্ডের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বিরোধী দলগুলো ১১ ও ১২ই নভেম্বর সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ঘোষনা করে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, ফলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরোও ত্বরান্বিত হয়। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে গণতন্ত্র পুণ-প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসের পাতায় যোগ হয় শহীদ নূর হসেনের নাম।

১০ নভেম্বার ১৯৮৭

উত্তাল ঢাকার রাজপথ। দাবি একটাই স্বৈরাচারী সরকারের পতন চাই। ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। সেদিন ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির এক মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন এক টগবগে যুবক, নাম তার নূর হোসেন। তৎকালীন স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরশাদ সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ঢাকার রাজপথে নেমেছিলেন খালি গায়ে এবং প্রতিবাদ হিসেবে বুকে পিঠে সাদা রঙে লিখিয়ে নেনঃ ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। মিছিলটি ঢাকা জিপিও-র সামনে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি আসলে স্বৈরশাসকের মদদপুষ্ট পুলিশবাহিনীর গুলিতে নূর হোসেন নিহিত হন। পরবর্তীতে এই হত্যাকান্ডের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বিরোধী দলগুলো ১১ ও ১২ই নভেম্বর সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ঘোষনা করে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, ফলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরোও ত্বরান্বিত হয়। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে গণতন্ত্র পুণ-প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতিহাসের পাতায় যোগ হয় শহীদ নূর হসেনের নাম।

গণতন্ত্রের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস ও সম্মান এবং তার অসীম সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একটি স্মৃতিচারনে,
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ই নভেম্বরের স্মৃতিচারন করে বলেন,
“সেদিন আমরা যখন মিছিল শুরু করছিলাম তখন নূর হোসেন আমার পাশে দাড়িয়ে ছিল। আমি তাকে কাছে ডাকলাম এবং বললাম তার গায়ের এই লেখাগুলোর কারনে তাকে পুলিশ গুলি করবে। তখন সে তার মাথা আমার গাড়ির জানালার কাছে এনে বলল, “আপা আপনি আমাকে দোয়া করুন, আমি গণতন্ত্র রক্ষায় আমার জীবন দিতে প্রস্তুত।”

পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর আমলে নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার নামে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতি বছরের ১০ই নভেম্বর বাংলাদেশে নূর হোসেন দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এছাড়া তিনি যে স্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন, তার নামানুসারে সেই জিরো পয়েন্টের নামকরন করা হয়েছে নূর হোসেন স্কয়ার। ১০ই নভেম্বর তার মৃত্যুর কিছু সময় পূর্বে তোলা তার গায়ে লেখাযুক্ত আন্দোলনরত অবস্থার ছবিটি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নূর হোসেনের মৃত্যুর ২৯ বছর পার হল। আজ তৎকালীন স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের সাথে তখনকার স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকারিরা জোট বেঁধে সরকার গঠন করে। যে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবিতে নূর হোসেন নিজের প্রাণের বলিদান করল সেই দাবিই আজ সংবিধান বিরোধী হিসেবে পরিগণিত হয়।

নূর হোসেনরা বার বার আসে না, তবে যতবারই আসে ততবারই ক্ষমতালোভী রাজনীতিবিদদের দ্বারা ব্যবহৃত হয়। মাঝে দিয়ে নূর হোসেনদের জীবন যায়। বিনিমিয়ে দু’চারটে দিবস আসে। যা শুধুমাত্র সেমিনার কিংবা টক-শোতেই সীমাবদ্ধ থাকে। প্রকৃত মুক্তি মানুষ কোনদিনই পায় না। তবুও মানুষ বার বার বলে যায় কিংবা বলতে বাধ্য হয়, ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ ।।

তথ্যসূত্র- ইউকিপিডিয়া

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 86 = 88