আপনি ধার্মিক হতে চান খুব ভালো কথা। কিন্তু আদিম শূয়োর হবেন না

সারাজীবন ঘুষ খেতে-খেতে যার ক্বলব পুড়ে-পুড়ে একেবারে খাক—আর সে যদি কোনোরকমে একবার মাথায় টুপি দিতে পারে, আর তা সযত্নে কিছুদিন ধরে রাখতে পারে—তাহলে, সে একচান্সে মুসলমান! এই দেশে মুসলমান হওয়া কত সহজ! পৃথিবীর যাবতীয় অকাম-কুকাম আর মানুষহত্যা থেকে শুরু করে প্রতিনিয়ত খুন-ধর্ষণ-ব্যভিচার-গণধর্ষণ-হিন্দুনারীধর্ষণ ইত্যাদি করেও রাতারাতি মুসলমান হওয়ার এমন সুযোগ পাকিস্তান আর বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথায় আছে? কোথায় আছে? জানি, কারও জানা নাই।

মুসলমান হওয়া, হিন্দু হওয়া, খ্রিস্টান হওয়া, বৌদ্ধ হওয়া, শিখ হওয়া ইত্যাদি হওয়া প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত ও একান্ত অধিকার। আর রাষ্ট্রে বসবাসকারী যেকোনো নাগরিকের যেকোনো ধর্ম বেছে নেওয়ার বিরাট ও সমান অধিকার রয়েছে। নাগরিকরা তাদের পছন্দমতো ধর্ম নির্বাচন করবে এবং তা খুশিমনে পালন করবে। আর তাদের ধর্মপালনের অধিকার নিশ্চিত করার দায়দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের। মূলত প্রত্যেক নাগরিকের স্ব-স্ব ধর্মপালনের অধিকারসমুন্নত রাখাই রাষ্ট্রের ধর্ম। আর আধুনিকরাষ্ট্র কোনোভাবেই তার উপর অর্পিত এই গুরুদায়িত্ব অবহেলা করতে পারে না।

নাগরিকরা এখন ধর্মপালন করবে কীভাবে? রাষ্ট্রের ধর্ম কি রাষ্ট্র আজ যথাযথভাবে পালন করছে? আর রাষ্ট্র কি নিরপেক্ষভাবে তার উপর অর্পিত এই গুরুদায়িত্ব বা গুরুধর্মপালন করতে পারছে? অবশ্যই না। রাষ্ট্র সব নাগরিককে সমানভাবে ধর্মপালনের অধিকার নিশ্চিত করতে পারছে না। এই ব্যর্থতা আজ রাষ্ট্রের না রাষ্ট্রের কর্ণধার সরকারের? আর কেনই-বা এই ব্যর্থতা? আর কেনই-বা এর কোনো সমাধান নাই?

বছরের-পর-বছর ধরে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুসম্প্রদায় তথা হিন্দুধর্মাবলম্বীরা ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে, আর এখনও হচ্ছে। আর হয়তো ভবিষ্যতেও হতে থাকবে। কারণ, এব্যাপারে রাষ্ট্রকে কখনও কঠোর হতে দেখা যায়নি। কিন্তু কেন? আর এর জবাব আজ কে দিবে?

বাংলাদেশকে মুসলিম-প্রধান দেশ বলা হয়। আর এখানে নাকি মুসলমানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু কার্যকলাপে তো মনে হয় না যে, এদেশে কোনো মুসলমান আছে! আর মুসলমান থাকলে প্রতিবছর রুটিন-ওয়ার্কের মতো করে সংগঠিত হয়ে নিয়মিত হিন্দুসম্প্রদায়ের উপর এতো হামলা হতো না। মুসলমান কখনও অন্যের ধর্মে হামলা করতে পারে না। আর মুসলমান কখনও অন্যের ধর্মপালনে বাধাসৃষ্টি করতে পারে না।

মুসলমানের ধর্ম কী? হিন্দুর উপর আক্রমণ করা নাকি হিন্দুর সঙ্গে সদ্ভাব-বজায় রেখে সবসময় সদ্ব্যবহার করা? কোনটি সঠিক? অনেক নরপশু আজ ধর্মের সংজ্ঞাই জানে না। আর সে হুজুগে পড়ে মাথায় একখানা টুপি, গায়ে আলখাল্লা চাপিয়ে, আর মুখে কিছু দাড়ি রেখে নিজের মুসলমানিত্বপ্রকাশ করছে। কিন্তু ইসলামের মূলস্তম্ভ কুরআন-হাদিসের কোথায় লেখা আছে—মাত্র এই তিনটি চিহ্ন দিয়ে যে-কারও মুসলমানিত্বপ্রকাশ পাবে? নিজের বানানো শয়তানীফিরকা এখন অনেকের কাছে ধর্ম। আর সত্যিকারের ধর্ম এখন যেন নির্বাসিত। ধর্ম না-বুঝে পালনকারীরা আজ তাইতো সবখানে হিংস্র-শূয়রের মতো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। আর তাদের বিষাক্ত-নখরাঘাতে জাতির অস্তিত্ব আজ ছিন্নভিন্ন হতে চলেছে।

এই ধর্মের নামে ফিতনা-ফাসাদ-সৃষ্টির রেওয়াজ শুরু হয়েছে শয়তানের জারজপুত্র এজিদের আমল থেকে। সেই সর্বপ্রথম ইসলামের ভিতরে ফিতনা-ফাসাদ-ফিরকা ইত্যাদির সৃষ্টি করেছিলো। পরবর্তীকালে তার উত্তরসূরীরা আজও সেই ধারা অনুসরণ করে মূল ইসলামের মূলস্তম্ভে আঘাত করছে। আর এদেরই অপপ্রচার, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, মিথ্যা, আজেবাজে, মনগড়া, আবোলতাবোল, আলতুফালতু ও শয়তানী কথাবার্তাই এখন অনেকের কাছে ধর্ম।

এই দেশে ধার্মিক কতজন? এদের সংখ্যা সবসময়ই কম। কিন্তু ধর্মকে পুঁজি করে আর ইসলামের ক্ষতি করে অধর্মপালনকারী-অধার্মিকরাই এখন ইসলামের ভিতরে ঢুকে পড়ছে। এদের ভিড়ে সত্যিকারের ধার্মিকের অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। আর এই সুযোগে অধার্মিকগুলো সাধারণ পশুদের বশ করে দেশের ভিতরে আবার মোল্লাতান্ত্রিক ব্যভিচারী-সমাজব্যবস্থা-কায়েমের স্বপ্ন দেখছে। আর এই পশুদের আগ্রাসনেই দেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়মিত হিন্দুসম্প্রদায়ের উপর হামলা হচ্ছে। আর দেশের আরও বিভিন্নস্থানে এরই ধারাবাহিকতায় চলছে হিন্দুনির্যাতন। এসবই পরিকল্পিত। রাষ্ট্র এখনও সেইসব শয়তানকে কঠোরহস্তে দমন করেনি। তাই, এদের স্পর্ধার সীমারেখা ভীষণভাবে বেড়ে গেছে।

এখানে, একটি কথা আজ স্পষ্টভাবে বলতে চাচ্ছি: আপনি ধার্মিক হতে চাচ্ছেন, এটি খুব ভালো কথা। কিন্তু ধর্মের নামে অভিনয় করবেন না। আর বুঝেশুনে আপনার ধর্মপালন করবেন। জেনেশুনে নিজের ধর্মপালন করুন। আর নিজের ধর্ম পড়ে জেনে নিন কোথায় লেখা আছে নিজের ধর্মপালন করে আবার অন্যের ধর্মের উপরে আঘাত করতে হবে? আর দুনিয়ার কোন ধর্মগ্রন্থে লেখা আছে অন্যের ধর্মে আঘাত করতে হবে?

ধর্ম মানে মানুষ হওয়া। আর প্রতিনিয়ত মনু্ষ্যত্বের জাগরণ। আর ধর্ম মেনেই ধার্মিক হতে হয়। তাই, আপনি ধার্মিক হবেন খুব ভালো কথা। এতো আনন্দের কথা। আপনি আজ থেকে ধার্মিক হন। আর ধার্মিক মানে অন্যের ধর্মকে সবসময় শ্রদ্ধা করা। যদি এটি আপনি মানতে না পারেন—তাহলে, ধর্ম থেকে আপনি বেরিয়ে যান। কারণ, আপনার মতো শয়তানের আমাদের ধর্মে কোনো প্রয়োজন নাই। আপনি ইসলামের নাম-ভাঙ্গিয়ে নিজেকে আর ধর্মের মোড়ল ভাববেন না। আর ইসলামের দোহাই দিয়ে দেশের সংখ্যালঘুসম্প্রদায়ের উপর হামলা-নির্যাতন করবেন না। আপনি আগে মানুষ হন। তারপর ধার্মিক হওয়ার চেষ্টা করুন। কিন্তু ধার্মিক হতে গিয়ে বিপথগামী হয়ে ধর্মের নামে সংঘাতসৃষ্টি করে আদিমশূয়রের মতো অন্য ধর্মের মানুষের উপর কখনও ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। কারণ, এটি ধর্ম নয়। এটি সম্পূর্ণ শয়তানী। আর শয়তানগুলো পবিত্র ইসলামধর্ম থেকে বেরিয়ে যাক আজ-এক্ষুনি।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১০/১১/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “আপনি ধার্মিক হতে চান খুব ভালো কথা। কিন্তু আদিম শূয়োর হবেন না

  1. আপনি যে উপদেশ দিয়েছেন তা
    আপনি যে উপদেশ দিয়েছেন তা দেশের শান্তির জন্য সঠিক। কিন্তু সাথে সেথে আপনি বলেছেন, ‘নিজের ধর্ম পড়ে জেনে নিন কোথায় লেখা আছে নিজের ধর্ম পালন করে আবার অন্যের ধর্মে আঘাত করতে হবে’ – এখন আপনাকে একটা প্রশ্ন করা আবশ্যক বলে মনে করছি; আপনি কি ধর্ম বুঝে পড়ে এ কথাগুলো বলেছেন?
    একটা কথা প্রায় শুনে থাকি সেটা হলো, কেউ যদি ধর্ম সম্পর্কে (বিশেষ করে ইসলাম) মোটামুটি ভাল করে জেনে থাকে তবে তার কাছে দুটি পথ খোলা থাকবে – মনুষ্যত্ব তার মধ্যে থাকলে সে ধর্ম থেকে বেরিয়ে আসবে নয় তো সে উগ্র মুছলমান জঙ্গী হবে। এর বাইরে যারা আছেন তারা না জেনে মুসলমান, মডারেট মুছলমান।।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 57 = 59