স্যাটায়ার: স্বর্গ আর নরকের সন্ধিস্থল


১।
গচা মিয়া গাছের গুড়িতে বসে আকাশের দিকে তাঁকিয়ে ছিল।
এমন সময় তার পেছনে ইশ্বর হাত রাখেন।
-“বৎস! আকাশের দিকে চক্ষু নিক্ষেপন করিয়া কি খুজিতেসো?”
-“তারা খুজিতেসি!”
-“দিনের বেলায় তারা কোথায় পাইবে বৎস?”
-“কেন দিনের বেলায় তারাগুলো কি আপনার পশ্চাৎদেশে প্রবেশ করায়া থাকেন?” গচা মিয়ার কথায় স্পঠ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
-“কি ব্যাপার বৎস! তোমাকে আজ বড়ই উত্তেজিত মনে হইতেসে?”
-“ঠিক ধরিয়াসেন! আমি আজ বড়ই চঞ্চল হয়ে উঠেছি কপোতীর আশায়! মিলবে কি দু-চারটে?
-“দু-চারটে? একটাতে হইবে না?”
-“হইবে! তবে!”
-“তবে কি বৎস?”
-“পরকালের বাচ্য চিন্তা করিয়া মনটা বড়ই উদ্বেলিত হইয়া উঠিয়াসে!”
-“কি চিন্তা?”
-“আমি আপনার প্যায়ারের বান্দা এটা নিশ্চই অস্বিকার করিবেন না?”
-“না বৎস! তোমাকে আমি এরআগে কয়েকবার সেটা অবগত করিয়াসি!”
-“তাহা হইলে নিজেকে আমি স্বর্গের শ্রেষ্ঠতম আসনে চক্ষুজ্ঞান করিতেই পারি?”
-“তা পারো বটে!”
-“তাহা হইলে শপ্তদশাধিক কপোতী বরাদ্দ হইয়াসে আমার সমিপণে?
-“তাহা হইয়াসে!”
-“এতগুলো কপোতীকে সামলানোর চিন্তায় আমার ঘুম চলিয়া গিয়াসে!”
-“আমি করিতে পারি বৎস?”
-“কয়টা কপোতীর ব্যবস্থা করিয়া দিন!”
-“সেটাতো সম্ভবপর হইতেসে না বৎস! তুমি অবগত হইবে যে, গত কয়েক শতকে আমার দৈব শক্তি ক্রমশই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাইয়াসে!” কথাটা বলেই ইশ্বর বোঁধকরি হাসিলেন।
-“নিজের অক্ষমতাটা দাঁত কেলিয়ে বলিতেসেন আপনার তো নূন্যতম লজ্জাবোধও হ্রাস পাইয়াসে দেখিতেসি!”
-হে হে হে! এর লজ্জা কি? যখন মানব সম্প্রদায় লজ্জাস্থান নিয়া আচড়া আচড়ি করিয়া থাকে তখনও আমি সুপ্রসন্ননয়নে উহাদিগের কর্মকান্ড দেখিয়া মজা নিয়া থাকি! নিজেকে বেশ রসিক ভাবিতে মনের কোনটা আন্দোলিত হইয়া উঠে!”
-“ন্যাপসার ছাউ!”
-“কিছু কি বলিলে বৎস?”
-“সেকি! আজকাল গালিগালাজও বুঝিতে পারিতেসেন না নাকি? অ্যালকোহল সেবন করিয়া আসিছেন নাকি জনাব?”
-“তা করিয়াসিলাম। তবে কয়েক পেগে কি আর মাতাল হওয়া যায় বলো? কয়েক পেগের ব্যবস্থা করা যায় নাকি বৎস! মাতলামো আমার জন্মগত স্বভাব!?”
-“সে আপনার মর্জি জনাব! চলুন যাওয়া যাক!”

২।
কিছুক্ষণ পর।
-“এ আমায় কোথায় নিয়ে আসিলে বৎস?”
-“নরক আর স্বর্গের সন্ধিস্থল!”
-“এমন কোন স্থান তো আমি তৈয়ার করি নাই বৎস?”
-“চলুন ভিতরে প্রবেশ করিলেই বুঝিতে পারিবেন!”
-“একি! এতো গণিকালয়!”
-“আঁতকে উঠিলেন জনাব?”
-“আমাকে এরূপস্থলে আনিবার হেতু কি?”
-“আপনিতো মাতাল হইতে ইচ্ছা পোষণ করিয়াসিলেন জনাব?”
-“তাহা করিয়াসিলাম বটে!”
-“নরম বক্ষযুগল আর প্রস্ফুটিত গোলাপের ন্যায় অধরের চেয়ে মাতাল হওয়ার সরেস উপকরণ আর দুটি পাইবেন না জনাব!”
-“ছি ছি! তোমার এত অধঃপতন! নরকেও তোমার ঠাই হবে না এই বলে দিলুম!”
-“এ আপনি কি বলিতেসেন জনাব? শুধু শুধু কেন নরকের ভয় দিচ্ছেন। যতদূর জানি আপনার স্বর্গের তুলনায় এত নস্যি!”
-“ঠিক ঠিক বলতো বৎস! তুমি আমাকে কি জন্যে আনিয়াসো এই কুরুক্ষেত্রে? এখন তো লজ্জায় আমার চোখ মুদিয়া আসিতেসে!”
-“এ আর এমনকি! আপনার স্বর্গের চিত্র অনুভবে কল্পনায় রূপায়িত করিয়া যে আমার ঘুম লোপ পাইয়াসে তাহা বোঝাইতেই আপনাকে এইখানে উপনিত করিয়াসি!”
-“ভণিতা না করিয়া সরাসরি বলিয়া ফেল বৎস!”
-“তাহার আগে বলুন যে আপনি এখানে এসে আঁতকে উঠিলেন কেন?”
-“এখানে আসিলে যেকোন ভদ্দরলোকের আঁতকে উঠাটাই স্বাভাবিক নয় কি?”
-“হেতুটা কি?”
-“তুমি তো অবুঝ নও বৎস! চারিপাশে এত সঙ্গমের ফুলঝুড়ি বিব্রতকর, অস্বস্তিকর ও লজ্জাজনক তাহা সুজন ব্যক্তি মাত্রই উপলদ্ধি করিবে!”
-“ঠিক বলিয়াসেন জনাব! আমার চেষ্টা সফল হইয়াসে!”
-“কি রকম?”
-“আপনি সেদিন জানিবার প্রয়াশ করিয়াসিলেন না? আমি কেন স্বর্গে যেতে চাহি না? আপনাকে সেদিন বলিলে বুঝিতে পারিতেন না! এখন আর আপনি অস্বিকার করিতে পারিবেন না যে স্বর্গ হচ্ছে গণিকালয়ের হালাল ভার্সন! আর ভদ্দরলোক মাত্রই সেখানে বিব্রতবোধ করিবে! নিজেকে আমার তাহাই মনে হয় জনাব!”

ছবি: ইন্টারনেট

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 1