বিনিয়োগের সুবাতাস

এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষ্ময়কর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে রুপকল্প-২০২১ এর স্বপ্ন পূরণে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তার দূরদর্শী পরিকল্পনা প্রসূত নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে দীর্ঘদিন যাবত দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইতোপূর্বে দেশে উপযুক্ত জমি, অবকাঠামো, জ্বালানি-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সুযোগের ঘাটতি থাকায় বিদেশি বিনিয়োগ আসার হার আশানুরুপ ছিলো না। গত কয়েক বছরের পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রক্রিয়া আর নিরলস প্রচেষ্টায় সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তনে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই আসার ক্ষেত্রে এখন গতির সঞ্চার সৃষ্টি হয়েছে। গত অর্থবছরে দেশে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশের ছোট্ট ভূখণ্ডে ১৬ কোটি মানুষ, কৃষিতে এত মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। তাই প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের হার নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার দ্রুত শিল্পায়নে সহায়ক নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছে। বিগত কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যাপক কর্মসূচি- পদ্মা সেতু, চার লেন সড়ক নির্মাণসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যমান দুই সমুদ্রবন্দর উন্নয়নের পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়া, ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা শিল্পায়নের জন্য খুবই জরুরি। এই কারণে দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি উদ্যোক্তারাও বর্তমানে এ দেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হচ্ছেন। সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতি নিরসনের পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা-সহযোগিতা ও সক্ষমতার মান উন্নয়নে নানা সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গৃহিত এ সকল ইতিবাচক পদক্ষেপে ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ব্যবসায়ীরাই বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রদর্শন করছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে পরিকল্পিত, আন্তরিক ও গতিশীল ভূমিকা পালন করে এখন বিনিয়োগে আগ্রহী দেশ/প্রতিষ্ঠান সমূহের এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শিল্পায়নে গতি ত্বরান্বিত করতে হবে। বিবেচনায় রাখতে হবে, ভারত কিংবা চীনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। দেশে ঐ সকল দেশের বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় তা ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। সম্প্রতি টাটাসহ ভারতের ১০টি শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিনিধিদলের ঢাকায় আগমন বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ, যা বাংলাদেশের শিল্পায়নের পথে অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টায় দেশে বর্তমানে বিনিয়োগের যে সুবাতাস বইছে তাতে পাল তুলে এগিয়ে দেশ উপনীত হবে সমৃদ্ধির কাঙ্খিত বন্দরে, অর্জিত হবে রুপকল্প-২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা, বাস্তবায়িত হবে জাতির জনকের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “বিনিয়োগের সুবাতাস

  1. সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও
    সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও নানা উদ্যোগের ফলে সকল বাধা বিপিত্তি পেরিয়ে দেশে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে তাই দেশে আজ বিনিয়োগের সুবাতাস বইছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 2 =