ফ্রি সেক্স কান্ট্রি এবং বাঙালি ধারণা !!

বেশ কয়েকদিন আগের কথা, জার্মানিতে অবস্থানরত আমার এক অতি ঘণিষ্ঠ বান্ধবী তার এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা আমাকে জানিয়েছিলো। মেয়েটি কে আমি যতদূর চিনি কিংবা ঘণিষ্ঠতার খাতিরে এটুকু জানি যে সে যথেষ্ট শান্তশিষ্ট দিলখোলা প্রকৃতির মানুষ। বিভিন্ন সমস্যার দরুন প্রায় বছর পাচেক হলো জার্মানিতে আছে। জার্মানিতে থাকা অবস্থায় একবার তার পরিচয় হয় এক বাঙালির সাথে। বয়সে লোকটি প্রায় তার বাপের বয়সী। কথা বলে জানতে পারে যে লোকটি জার্মানি এসেছে কোন একটা কাজে এবং লোকটি তার কাজে একটু সাহায্যের জন্য মেয়েটিকে একদিন দেখা করতে বলে। আর আমার বান্ধবিটি যেহেতু দিলখোলা মানুষ তাই নিজ দেশের মানুষকে একটু সাহায্য করতে দ্বিধা করে নি। যাহোক দেখা করতে যাওয়ার পর সে লক্ষ্য করে লোকটি কাজের কথা ফেলে নানা রকম বিলোদাপেল কথাবার্তাই বেশী টানছে এবং কথা বলার সময় মাঝে মাঝেই প্রকাশ্যে গায়ে স্পর্শ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু যেহেতু বাপের বয়সী মানুষ তাই বান্ধবীটি এগুলো অনেকটা খেয়ালে নেয় নি । এক পর্যায়ে ব্যাটা তার হাত ধরে ফেলে এবং কুপ্রস্তাব দিয়ে প্রকাশ্যেই জোর করতে শুরু করে। বারবার না করা সত্বেও মেয়েটি ছাড়াতে না পেরে ব্যাটার জায়গামত লাথি মেরে অনেকটা দৌড়ে পালিয়ে যায় । পরবর্তীতে নাকি এক সপ্তাহ সে বাসা থেকে ভয়ে বের হতে পারে নি। এদিকে নিজ দেশের মানুষের এমন কর্মকাণ্ড পুলিশকে জানানোটা লজ্জার ব্যাপার ভেবে কাউকে না বলেই নিজ মনে মাটি চাপা দিয়ে দিয়েছে। তবে পরবর্তীতে নাকি লোকটি পুনরায় ফোন করে ক্ষমা চেয়েছিলো এবং আরও বলেছে যে সে ভেবেছিলো এগুলো এদেশে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার কিংবা মেয়েটি যে এমন রিএ্যাক্ট করবে বুঝতে পারে নি।

?efg=eyJpIjoidCJ9&oh=4f6a2310dd057f480dbc2c00bfa0d14f&oe=58CB94DB” width=”400″ />

যাহোক লোকটির এমন কর্মকাণ্ড তার চরিত্রহীনতা ছাড়াও আরেকটি ব্যাপার পরিষ্কার করে যে ফ্রি সেক্স কান্ট্রির সম্পর্কে ভুল ধারণা বা সঠিক জ্ঞানের অভাব। যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় অনুশাসনে চলতে থাকা অন্ধ মানুষগুলো ফ্রি সেক্স কান্ট্রি বলতে প্রথমেই যেটা বোঝে তা হলো এমন একটি দেশ যেখানে চাইলেই যে কারো সাথে অবাধে কোনরূপ শর্ত বা অর্থ ছাড়াই যৌনতায় লিপ্ত হওয়া যায়। কিংবা পথে ঘাটে যেখানে খুশি সেখানেই যে কোন মেয়ের গায়ে হাত দেয়া যায় কিংবা অবাধে যৌনসম্পর্কের প্রস্তাব দেয়া যায়। এছাড়া ঐসব দেশে যেহেতু শরীয়া আইনের মতো তেমন কোন ধর্মীয় অনুশাসন চলে না সুতরাং নারীরা যৌনতায় যাওয়ার সম্মতি নিয়েই বসে থাকে। যার ফলাফল স্বরূপ প্রায়ই এমন বহু ঘটনা ওঠে আসে যে বাইরের দেশগুলোতে গিয়ে এদেশের মানুষ নারী উত্যক্ত করার দায়ে শাস্তি ভোগ করছে। সচরাচর বাংলাদেশের মৌলবাদী ধর্মান্ধ ব্যক্তিবর্গের মাঝে একটা ব্যাপার খুবই লক্ষণীয় যে মুখে যতোই ফ্রি সেক্স কান্ট্রিগুলোর মানুষজনকে গালাগাল করে গুষ্টি উদ্ধার করুক না কেন, দেশের বাইরে যাওয়ার সময় কিন্তু ঠিকই ফ্রি সেক্স কান্ট্রিই বাছাই করে, তা অবশ্য করবে নাই বা কেন। ছোট পোশাকে ঘুড়ে বেড়ানো অমুসলিম গণিমতের মাল একটু ভোগ করলে কী এমন ক্ষতি ! তাছাড়া ফ্রি সেক্স কান্ট্রিতে গিয়ে এসব কাজকর্ম করলে তো আর ধর্মের জাত যায় না বাপু ! বুঝলেন কী যে যতই কাটমোল্লা হোক,গরম খেলে বুদ্ধিনাশ হয়ই ! তখন সবই জায়েজ। যা হোক আজ ফ্রি সেক্স কী এবং ফ্রি সেক্স কান্ট্রি নিয়ে কিছু খোলামেলা আলোচনা করবো।

চলুন প্রথমেই জেনে নেয়া যাক ফ্রি সেক্স তথা সেক্সুয়ালি সার্টিসফাইড ১২টি দেশের নাম |
১- সুইজারল্যান্ড
২-স্পেন
৩-ইতালি
৪-ব্রাজিল
৫-গ্রিস
৬-নেদারল্যান্ড
৭-ম্যাক্সিকো
৮-ইন্ডিয়া
৯-অস্ট্রেলিয়া
১০-নিগেরিয়া
১১-জার্মানি
১২-চায়না

“ফ্রি” এবং “সেক্স” ইংরেজি শব্দ দুটির মানে বুঝতে আমাদের মূলত যে কারণে ভূল হয় তা হলো ফ্রি শব্দটি দিয়ে আমরা বাঙালিরা বুঝি এমন কিছু যা কোনরূপ মূল্য ছাড়াই লাভ করা যায়। আর সেক্স শব্দটি দিয়ে বুঝি যৌনতা যা বাঙালি মুখে চ-বর্গীয় কিছু নামেই বেশী পরিচিত। কিন্তু আসলে ফ্রি সেক্স কান্ট্রির “ফ্রি” শব্দটি দিয়ে বিনে পয়সার ফ্রি বোঝানো হয় নি। আভিধানিক অর্থানুযায়ী ফ্রি শব্দটি দিয়ে এখানে বোঝায় মুক্ত কিংবা স্বাধীন। সুতরাং বলা যায় যে দেশের নাগরিকরা তাদের যৌনাধিকার নিয়ে মুক্ত বা স্বাধীন অর্থাৎ যৌনতার ক্ষেত্রে দুজনের সম্মতি থাকলে কিংবা তারা একই লিঙ্গের হলেও তাতে রাষ্ট্র বা অন্য কোন ব্যক্তির এ ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা থাকবে না, সেসব দেশকে বলা হয় ফ্রি সেক্স কান্ট্রি, সুতরাং আপনি বিবাহিত কী অবিবাহিত, আপনি সমকামী কিনা, আপনি কার সাথে যৌন সম্পর্ক করবেন সেটা আপনার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।

ফ্রি সেক্স কান্ট্রিগুলোতে মূলত যৌনতার ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের নিজ ইচ্ছের গুরুত্ব দেয়া হয়। তবে তার মানে এই নয় যে আপনি যাকে খুশি তাকে ভোগ করতে পারবেন কিংবা যার খুশি তার গায়ে হাত দিতে পারবেন। বরং এসকল দেশে ধর্ষণ কিংবা ইভটিজিং এর ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা আরও বেশী কঠিন। এই যেমন ধরুন জার্মানির কথায় আসি। জার্মান আইন ২০১৬ এর সর্বশেষ সংস্করণ অনুযায়ী যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সঙ্গীনী “না” করা সত্বেও যৌন সঙ্গম করলে তা ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে ধর্ষক যদি ধর্ষিতাকে কোনরূপ আঘাত না করে শুধু মেডিসিন দিয়ে অজ্ঞান করেও ধর্ষণ করে , তবুও ধর্ষক আইনের আওতায় পড়বে। তাছাড়া এ আইনের আর একটি ভালো দিক আছে। যেমন মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে এক ধরণের ধর্ষণের কোন শাস্তি হয় না, তা হলো স্বামী কতৃক ধর্ষণ। ধর্ষণের সংগানুসারে সঙ্গীর অনিচ্ছা সত্বেও যৌনকর্মে লিপ্ত হলেই তা ধর্ষণের আওতায় পড়বে। অথচ মুসলিম দেশগুলোতে এমন ধর্ষণের শীকার নারীগুলো প্রতিনিয়ত তাদের যন্ত্রনাকে সহ্য করে যায়। তথাকথিত নানা পবিত্র কিতাবের বাণীগুলোর কারণে বিচার তো দূর বরং প্রতিবাদ করতে গেলে আরও লাঞ্ছনার শীকার হতে হয়। কিন্তু বেশীরভাগ ফ্রি সেক্স কান্ট্রিগুলোতে দেখা যায় এসব ধর্ষণের ক্ষেত্রেও বরাবরের মতোই শাস্তি পেতে হয়। ধর্ষক সে স্বামীই হোক কিংবা পরপুরুষ , আইন সবার জন্যই সমান। এছাড়া যৌনসম্পর্ক করার জন্য বয়সও নির্ধারণ করে দেয়া আছে। আপনি যদি সেই বয়সের থেকে অনুর্ধ্ব কারও সাথে সম্পর্ক করেন, তবে আপনাকে আইনের আওতায় পড়তে হবে। এছাড়া আপনি কোন অপরিচিতার গায়ে হাত দিলে কিংবা সরাসরি অসাধু কোন প্রস্তাব দিলে যদি এজন্য সে অসস্থিবোধ করেন। তবে এই ব্যাপারে পুলিশের কাছে জানালে আপনাকে ইভটিজিং এর দায়ে আটক হতে হবে। আর একটা ব্যাপার আমরা নিশ্চই জানি যে এসকল দেশের পুলিশ তাদের দায়িত্বের প্রতি যথেষ্ট সচেতন। সুতরাং সামান্য আইন ভেঙেও আপনার পার পাওয়ার কোন উপায় নেই।

আরেকটা ব্যাপার সচরাচর ফ্রি সেক্স কান্ট্রি সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্যে শোনা যায় যে এসকল দেশগুলোতে নাকি পাবলিক প্লেসেই যৌনতায় লিপ্ত হওয়া যায়। ব্যাপারটা বরাবরের মতোই বোঝার ভুল। বেশীরভাগ ফ্রি সেক্স কান্ট্রিতে পোশাক স্বাধীনতা আছে ঠিকই অর্থাৎ আপনি ছোট পোশাক পড়বেন নাকি উলঙ্গ হয়ে ঘুরবেন সেটা আপনার ব্যাপার কিন্তু এর মানে এই নয় যে আপনি রাস্তাঘাটে যেখানে খুশি সেখানেই যৌনতায় লিপ্ত হতে পারবেন। বরং এমন কর্মকাণ্ড পাবলিক প্লেসে করলে আপনাকে আটক হতে হবে। যৌনতার ব্যাপারে সবথেকে খোলামেলা দেশ স্পেনে যদিও পাবলিক প্লেসে যৌনতার কথা শোনা যায় তবু সেখানেও আইন আছে যে নির্দিষ্ট জায়গা অর্থাৎ ঘন জঙ্গল কিংবা পার্কে চাইলে যৌনতায় লিপ্ত হওয়া যাবে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা আছে অর্থাৎ যে সময়টাতে এসকল জায়গায় অপ্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ শিশুরা আসতে পারে সেই সময়ে এমন কিছু করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। এখন ঘন জঙ্গল বা পার্কের কথাটা লিখতে গিয়েই আরেকটা কথা মনে পড়ে গেলো। বাংলাদেশে যদিও যৌনতার ব্যাপারে এমন অবাধ করা কোন আইন নেই কিংবা সময় নির্ধারণ করা নেই, তবু কিন্তু দিব্যি ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চন্দিমা উদ্যানের মতো দেশের শত শত জায়গায় দিনের আলো পোহাতেই অবাধ যৌনতা শুরু হয়। হ্যা একটা ব্যাপার কী, এমন লাইসেন্স করা যৌনতার জন্য সময় নির্ধারণ করা থাকলে অন্তত অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা যখন তখন পার্কে ঢুকে এমন কর্মকাণ্ড দেখে বিপাকে পড়তো না। তবু যত খারাপ বিলেতিদের আইন , এদেশর সবাই বড্ড সাধু।

আরেকটা ব্যাপার না বললেই ন। ফ্রি সেক্স কান্ট্রিগুলোতে যে সচরাচর প্রকাশ্যে চুম্বনের দৃশ্য নিয়ে আমরা কথা তুলি সে ব্যাপারে বলবো বাংলাদেশে কী প্রেমিক-প্রেমিকার মাঝে এমন কিছু থাকে না? হ্যা থাকে তবে তা হয় পার্কের কোণে কিংবা মানব নাম যুক্ত বিভিন্ন ফ্লাটে। আসলে বাঙালি সব কাজই একটু আড়ালে আবদালে করতে পছন্দ করে। হ্যা এখন আপনি ভদ্দলোকের বেশ ধরে বলবেন এসব কর্ম লোকচক্ষুর আড়ালে থাকাই ভালো। কিন্তু লোক চক্ষুর আড়ালে থাকাতে কি হচ্ছে তা কী একবারও ভেবে দেখেছেন ! ব্যাপর গুলো যত প্রাইভেট হচ্ছে ততই মানুষের আগ্রহ বাড়ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে ভিডিও ক্যালেঙ্কারি। ফলাফল দুই একটা চুমু চুমাদির নামে স্ক্যান্ডেল তৈরি হয়ে নষ্ট হচ্ছে একদল তরুণীর জীবন। তারা লাঞ্ছিত হচ্ছে সমাজের কাছে, পুরুষের কিন্তু কিছুই হয় না, একটা ব্যাপার মানতেই হবে যে বাংলাদেশে আট মিনিট কিংবা আঠাশ মিনিট যাই বের হয়, ফলাফল স্বরূপ পুরুষ পায় সক্ষমতার বাহবা আর নারীর উপর পড়ে ব্যেশ্যাবৃত্তিক সিল। অথচ ফ্রি সেক্স কান্ট্রিগুলোতে গিয়ে আপনি আপনার সঙ্গিকে প্রকাশ্যে চুম্বন করলেও তারা কিন্তু এর ভিডিও বের করে একজনের স্বাভাবিক জীবনে হতাশার ছায়া এনে দিবে না কিংবা আপনার মতো হা করে তাকিয়ে নানা এক্সপ্রেশন দিয়ে বলবে না ছিহঃ !! আর হ্যা আপনি যদি বলেন এমন কর্মকাণ্ড করলে এদেশের অপ্রাপ্তবয়স্করা গোল্লায় যাবে, তবে বলবো পর্ণ সাইটের একটা ক্লিকের আঠোরো প্লাস সতর্কতা যেমন এসব দেখা থেকে তাদের বিরত রাখতে পারে না তেমনি এব্যাপারগুলো পার্কের কোণে করলেও তাদের আকাঙ্খার বিনাশ ঘটাতে পারবে না। যে দেশে নিউজ পোর্টালের নামে প্রতিনিয়ত চটি এবং পর্ণভিডিও ব্যাবসা করা হয় সেদেশে অন্তত প্রকাশ্যে চুমু চুমাদি কোন ক্ষতি করতে পারে বলে মনে হয় না।

যাহোক ব্যাপারগুলো বুঝে থাকলে আশা করি পরবর্তীতে ফ্রি সেক্স কান্ট্রির সম্পর্কে আমাদের ধারণা টা পাল্টাতে সক্ষম হবো। ফ্রি সেক্স কান্ট্রি বলতেই যার তার গায়ে হাত দেয়া বা নিজ ইচ্ছে কারও উপর চাপিয়ে দিয়ে ভোগ করা যাবে না। মনে রাখতে হবে মানবের আইন সর্বত্রই সমান …

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

80 − = 75