আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৫

পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক অনেক মুসলিম ধ্বংসযজ্ঞের উৎস এই আয়াত এবং আর কাছাকাছি অর্থের আয়াতসমূহ । তৈমুর লং (১৩৩৬-১৪০৫) ছিলো এক বর্বর এবং নৃশংস শাসক যে ডাকাতির মাধ্যমে নিজের এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলো । তার আত্নজীবনিমূলক বই The History of My Expeditions anaginst India এ সে লিখে,

“আমার হিন্দুস্তানে আসা এবং এতসব কঠোর পরিশ্রম ও কষ্ট করার মূল উদ্দেশ্য ছিলো দুটি । প্রথমটি হচ্ছে ইসলামের শত্রু কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে পরকালের দুনিয়ার জন্য পাথেয় সংগ্রহ । দ্বিতীয় উদ্দেশ্যটি দুনিয়াবি, ইসলামের পথের সৈনিকরা যাতে কাফেরদের সম্পদ লুটপাট করে নিজেদের জীবিকার ব্যাবস্থা করতে পারে । আল্লাহর রাস্তায় যারা যুদ্ধ করে তাদের জন্য যুদ্ধলব্ধ লুটের মাল নিজের মায়ের দুধের মতই হালাল, এই সম্পদ ভোগ করা বৈধ এবং উত্তম কাজ ।”

মোহাম্মদের যে সত্তর বা আশিজন অনুসারী তার সাথে হিজরত করে, যদি ধরেও নিই যে তাদেরকে মক্কাবাসী তাড়িয়ে দিয়েছে , তাতেও কি মক্কার বাণিজ্য কাফেলার উপর হামলা বৈধ হয়ে যায় ? বাণিজ্য কাফেলাতে কেবল যারা মুসলিমদের তাড়িয়ে দিয়েছিলো তাদের জিনিসপত্রই ছিলো এমন ভাবার কোন কারণ নাই । কেউ যদি কোন শহরে নির্যাতনের শিকার হয়, ঐ শহরের যেকোন লোকের উপর প্রতিশোধ নেয়া কি তাতে বৈধ হয়ে যায় ? মুসলিমরা যখন বোমা হামলা করে নিরপরাধ লোকজনকে হত্যা করে তখন তারা একই যুক্তি দেখায় । তারা যদি মনে করে কোন একটা দেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে তার প্রতিক্রিয়া তারা সেদেশের যেকোন লোকের উপর আক্রমণ করাকে বৈধ বলে মনে করে । মুসলিমদের যেসব আচরণ আজকের দুনিয়ায় উদ্ভট মনে হয় তার সবকিছুরই উত্তর পাওয়া যাবে মোহাম্মদ যা করেছিলো তা বিবেচনা করলে ।

কোরানের সূরা ২২ এর আয়াত ৩৯ এ আল্লাহ মুসলিমদের যুদ্ধের অনুমতি দেন । ওসামা বিন লাদেন আমেরিকার উদ্দেশ্য লেখা এক চিঠি শুরু করেছিলো ঠিক এই আয়াতটি দিয়েই । এতসব দেখেও কি বলা যায় যে ইসলামিক সন্ত্রাসের সাথে ইসলামের কোন সম্পর্ক নাই ?

সহিংসতার উস্কানি

মদীনাতে মক্কা থেকে হিজরত করে আসা লোকের সংখ্যা ছিলো খুবই নগণ্য । সফলতার সাথে লুটপাট এবং ডাকাতির জন্য মদীনার নতুন ধর্মান্তরিত আনসারদের (সাহায্যকারী) সাহায্য মোহাম্মদের জন্য
দরকারী ছিলো । কিন্তু মদীনার লোকজন বাণিজ্য কাফেলা লুট করা বা যুদ্ধ করার জন্য ইসলামে যোগ দেয়নি । আল্লাহতে বিশ্বাস এক কথা আর ডাকাতি, লুটপাট , মানুষ খুন করা এগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার । মোহাম্মদের আগে আরবদের মধ্যে ধর্মীয় যুদ্ধের ধারণা ছিলো না । এমনকি আজকের দুনিয়াতেও অনেক অনেক মুসলিম আছে যারা আল্লাহতে ঠিকই বিশ্বাস করে কিন্তু ধর্মের জন্য যুদ্ধ এবং খুনাখুনিতে জড়াতে চায় না । এইধরণের লোকজনকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার জন্য মোহাম্মদ আল্লাহর মুখ থেকে আয়াত নিয়ে আসে যে,

“তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না। “ (কোরান ২: ২১৬)

মোহাম্মদের চেষ্টাতে খুব শীঘ্রই সফলতা আসে । গণিমতের মাল এবং পরকালের পুরষ্কারের লোভে মদীনার মুসলিমরা দ্রুতই ডাকাতি এবং লুটপাটে যোগ দেয় । মোহাম্মদের সৈন্যদল বড় হতে শুরু করলে আর তার উচ্চাকাংখা জাগতে শুরু করলে এই ডাকাতরা নিজেদের প্রাতিষ্ঠানীক পর্যায়ে উন্নীত করার কথা ভাবা শুরু করে । মোহাম্মদ তার অনুসারীদের কেবল আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ ঘোষণা করার উৎসাহ নয় বরং এসব যুদ্ধের খরচের ভার বহন করার জন্যও চাপ দিতে থাকে ।

“আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন। “ (কোরান ২ : ১৯৫)

এখানে খেয়াল করে দেখা যাক মোহাম্মদ কিভাবে ‘অনুগ্রহ’ করাকে লুটপাট, সন্ত্রাস এবং খুনের সাথে সম্পৃক্ত করেছে । এই বিকৃত নৈতিকতা দিয়েই মুসলিমরা নিজেদের বিবেকের বিচারের বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘অবস্থা বুঝে ব্যাবস্থা’ ধরণের সমাজবিরোধী নীতির আশ্রয় নেই । যেই নীতিই তার আবিষ্কার করুক না কেন সেটা সবসময়ই তাদের নিজেদের পক্ষে রায় দেয় । যেই অবস্থাতে মুসলিমদের উপকার হয় সেটাকে ধরা হচ্ছে ভালো । মোহাম্মদের যুদ্ধে সাহায্য করা এবং ইসলামের জন্য সন্ত্রাস ও লুটপাট করাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায় বলে মোহাম্মদে তার অনুসারীদের বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয় ।

আজকের দুনিয়ায় যেসব মুসলিম সরাসরি জিহাদে যেতে পারে না , তারা নিজেদের সম্পদ ‘দান’ করে । এই ‘দানের’ টাকায় হাসপাতাল, এতিমখানা, স্কুল, বৃদ্ধাশ্রম এসব গড়ে উঠে না । বরং এই টাকা ব্যাবহার হয় ইসলামের প্রসারে, মাদ্রাসা তৈরীতে, সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণে ও জিহাদের অর্থায়নে । ইসলামী দানের টাকা কেবলমাত্র ঐসবক্ষেত্রেই গরীবদের সাহায্যে ব্যায় হয় যখন সেই গরীবদের রাজনৈতিক কাজে লাগানো যায় । এর একটা ভালো উদাহরণ হচ্ছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে যে বিপুল পরিমাণ টাকা লেবাননের হিজবুল্লাহর পিছনে ব্যায় করে । ইরানের সাধারণ জনগন তীব্র দারিদ্রের মধ্যে বাস করে । অল্পকিছু সৌভাগ্যবান যাদের চাকুরি আছে তাদের গড়পড়তা মাসিক আয় মাত্র ১০০ আমেরিকান ডলারের মত । খাদ্য, বাসস্থান, চাকুরির প্রয়োজন তাদের অনেক বেশী । তাহলে কেন তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে লেবানিজদের দান করা ? কারণ হচ্ছে লেবানিজদের কাছে ইসলামকে লোভনীয় করে তাদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যাবহার করা । যুদ্ধের জন্য যখন যথেষ্ঠ পরিমাণ অর্থের যোগান হত না তখন মুহাম্মদ তার অনুসারীদের হুমকি দিতো,

“তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কিসে বাধা দেয়, যখন আল্লাহই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উত্তরাধিকারী? তোমাদের মধ্যে যে মক্কা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে, সে সমান নয়। এরূপ লোকদের মর্যদা বড় তাদের অপেক্ষা, যার পরে ব্যয় করেছে ও জেহাদ করেছে। তবে আল্লাহ উভয়কে কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। “(কোরান ৫৭:১০)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৫

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 3