আধুনিকায়নের উদ্যোগ

এক সময় বাংলাদেশের এক নম্বর অর্থকরী ফসল ছিল পাট আর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্পখাত ছিল জুট মিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে রাষ্ট্রীয় শিল্পখাতের অন্যতম লোকসানী প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে জুট মিল। কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পরপরই পাট পণ্যের স্বর্ণালী অতীতের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকলের লোকসান ঠেকাতে মিলগুলোর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অত্যন্ত সময়োপযোগী এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চায়না টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করপোরেশন ফর ফরেন ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশনের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে সরকার, কোম্পানীটি প্রাথমিক কাজও শুরু করেছে। পাটশিল্পের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে মিলগুলোর পুরনো যন্ত্রপাতি পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর নিমিত্তে এই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলের ব্যালেন্সিং, মর্ডানাইজেশন, পুনর্বাসন এবং এক্সপানসন (বিএমআরই) নামের এই প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলগুলিতে বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ৬০ থেকে ৭০ বছরের পুরনো হওয়ায় বর্তমানে মিলগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। নতুন ও আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন করা হলে এসব কারখানারই উৎপাদন ক্ষমতা শতভাগে উন্নীত করা সম্ভব। সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী পাটজাত পণ্যের চাহিদা যে হারে বাড়ছে তাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে পাট পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। শুধু তাই নয়, দেশের অভ্যন্তরেও পাটের তৈরি জিনিসপত্রের ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬ পাটকলের মধ্যে ২৩টি সরাসরি উৎপাদনে রয়েছে। বিএমআরই সম্পন্ন হলে সার্বিকভাবে পাটকলগুলোর উৎপাদন আরও বাড়বে। দেশে বর্তমানে দামি গাড়ির ড্যাশ বোর্ড, জানালা-দরজার পর্দা, আসবাবপত্রে ব্যবহার্য সামগ্রী, ওয়ালম্যাট, ঘর সাজানোর সামগ্রী, লিনেন ক্লথ, জুট জিও টেক্সটাইল, গাড়ির সিট কভার ও ভাসকোসের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ছে। এ ছাড়া ইউরোপ-আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও পাটের তৈরি উন্নত জিনিসপত্রের চাহিদা প্রতিনিয়তই বাড়ছে, যা রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। এ কারণেই পাটকলগুলোতে বিএমআরআই সম্পন্ন হলে পাটশিল্প পুনরুজ্জীবিত হয়ে মজবুত হবে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত, অবহেলিত পাটচাষীরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় দেশের দারিদ্র্য বিমোচনেও রাখবে ইতিবাচক ভূমিকা। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে জাতির জনকের হত্যার পর থেকে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি আর কুশাসনে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটগুলো লোকসানের আবর্তে চলে যায়। বর্তমানে এ খাতে বার্ষিক লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০০ কোটি টাকা, যা জাতীয় বাজেটের উপর প্রতিনিয়ত এক ধরনের নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করছে। অব্যাহত এ লোকসান ঠেকাতে পাটকলগুলোকে আধুনিকায়নে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের গৃহিত সময়োপযোগী এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে অচিরেই দেশে পাটের সুদিন ফিরে আসবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

50 − 45 =