ঈশ্বরের প্রয়োজনীয়তা

আহারে ঈশ্বর! তোমার জন্য বড় মায়া হয়। সম্প্রতি হাফিংটন পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে আমেরিকায় খ্রিস্টান ধর্ম বিশ্বাস পরিবর্তন এবং ধ্বসের মুখে। বাইবেলের বিপুল জনপ্রিয় একটা গসপেল আছে, “আমাকে মান্য করো, চারিদিকে পরিবর্তন ও ধ্বংস দেখতে পাচ্ছি, হে আমার প্রিয়জন, যারা আমাকে মান্য করবে না, সাথে থাকবে না তারা ঈশ্বরের কৃপা থেকে বঞ্চিত হবে। এমনকি যারা নিজেদের আধ্যাত্মিক হিসেবে দাবি করে কিন্তু ধর্মাচরণ করে না তারাও ঈশ্বরের কৃপা থেকে বঞ্চিত হবে”। গবেষণায় বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত দিয়ে দেখানো হচ্ছে কত সংখ্যায় খ্রিস্টানরা তাদের ধর্ম বিশ্বাস ছেড়ে দিচ্ছে। চার্চ এখন আর আগের মত সদস্য পাচ্ছে না। বয়স্ক বিশ্বাসী মানুষের মৃত্যু এবং বর্তমান সদস্যরা চার্চ ছেড়ে দেয়ায় এখন চার্চ বড় একাকি হয়ে পড়ছে। রবিবার ঈশ্বরের জন্য প্রার্থনার একটামাত্র দিনেও বিশ্বাসীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।

আহারে ঈশ্বর! তোমার জন্য বড় মায়া হয়। সম্প্রতি হাফিংটন পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে আমেরিকায় খ্রিস্টান ধর্ম বিশ্বাস পরিবর্তন এবং ধ্বসের মুখে। বাইবেলের বিপুল জনপ্রিয় একটা গসপেল আছে, “আমাকে মান্য করো, চারিদিকে পরিবর্তন ও ধ্বংস দেখতে পাচ্ছি, হে আমার প্রিয়জন, যারা আমাকে মান্য করবে না, সাথে থাকবে না তারা ঈশ্বরের কৃপা থেকে বঞ্চিত হবে। এমনকি যারা নিজেদের আধ্যাত্মিক হিসেবে দাবি করে কিন্তু ধর্মাচরণ করে না তারাও ঈশ্বরের কৃপা থেকে বঞ্চিত হবে”। গবেষণায় বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত দিয়ে দেখানো হচ্ছে কত সংখ্যায় খ্রিস্টানরা তাদের ধর্ম বিশ্বাস ছেড়ে দিচ্ছে। চার্চ এখন আর আগের মত সদস্য পাচ্ছে না। বয়স্ক বিশ্বাসী মানুষের মৃত্যু এবং বর্তমান সদস্যরা চার্চ ছেড়ে দেয়ায় এখন চার্চ বড় একাকি হয়ে পড়ছে। রবিবার ঈশ্বরের জন্য প্রার্থনার একটামাত্র দিনেও বিশ্বাসীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। যুব সমাজের মাঝে ‘কেউ নাই’ এমন চিন্তা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে প্রতিদিন। গির্জার অভিযোগ, রবিবার খ্রিস্টান ভাইভগ্নীগণ ঈশ্বরের জন্য একটু প্রার্থনা না করে যত্তসব দুনিয়ার কাজ করে বেড়াচ্ছে। গির্জা কর্তৃপক্ষ অতীব হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, এখন তাদের নতুন সদস্য তেমন বাড়ছে না, প্রার্থনাতেও উপস্থিতি কমে গেছে।

ধর্ম প্রচারকদের শ্রম ও প্রচেষ্টায় কল্যাণে খ্রিস্টান ধর্মের বিশ্বাস এখনও চলছে, তবে আগের সেই জোয়ার নাই। তারা এখন বাইবেলের সেই গসপেলগুলো প্রচার করছে যেগুলো বলছে, “ঈশ্বর বিশ্বাসীদের বলে দাও যারা বিশ্বাস আনে, তাদের জন্য আছে সৌভাগ্য ও সম্মান”। চার্চ প্রচার করছে বিশ্বজুড়ে যত মত তাদের সবার নৈতিক উদ্দেশ্য সৎ থাকা এবং ঈশ্বরের কাছে একই প্রত্যাশা।

তাহলে কেমন করে বিশ্বাসের দেয়াল থেকে খসে পড়ছে প্রতিশ্রুতির ইট? কেমন করে ঈশ্বর প্রেম বিবর্ণ হয়ে পড়ে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেলহা গেছে বিশ্বাসের মাঝে ক্ষুদ্রতা আছে। বিশ্বাসী মানুষ নিজেদের অটুট বিশ্বাস নিয়ে নিজেদের মাঝে কলহ ছাড়া বৈশ্বিক যুক্তিপূর্ণ আচরণ করতে পারে না। ধর্মের বেড়াজাল তাকে বাধা দেয়, সেখানে বিবেকবোধ শক্তিশালী ভুমিকা রাখতে পারে না। মজার বিষয় হলো বিশ্বাসী মানুষ সীমাবদ্ধতাতেই মুক্তির স্বাদ খোঁজে এবং খুঁজেও পায়। বিশ্বাসের আর একটা নেতিবাচক দিক হলো- বিশ্বাস মানুষকে কঠোর করে, অনেক সময় পাশের জনের সাথেও মানবিক আচরণ করতে শেখায় না, ক্ষেত্রবিশেষে বাধা দেয় এমনকি খুন করতেও দ্বিধা করে না এ কারনেও অনেকে ধর্ম ছেড়ে দেয়। বিবেকবান মানুষের জন্য ধর্ম ছেড়ে দেয়ার আরও অনেক কারন আছে যেমন, ধর্ম আন্তঃসংস্কৃতি বিয়ে অনুমোদন দেয় না, ধর্ম নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতায়নে বাধা সৃষ্টি করে, ধর্ম প্রকৃতপক্ষে সামগ্রিকভাবে অমানবিক এবং বিদ্বেষ তৈরি করে। মনে করি খ্রিস্টধর্ম শ্রেষ্ঠ, অন্যদিকে বাংলাদেশের হাইবিসকাস জেলার হেলেন্থিয়াস উপজেলার কসমস গ্রামে হরিদাস ঈশ্বরাংশ কুসংস্কারাচ্ছন্ন। সে ছাগলকে জবা ফুল খাইয়ে, বাবলা গাছে বেধে রাখে আর মন্ত্র উচ্চারণ করে, “ধর ছাগলা পাতা, পাতা খেয়ে স্বর্গে যা”। এখন হরিদাস ঈশ্বরাংশকে যদি বলা তোমার ধর্ম মিথ্যা, খ্রিস্টধর্ম সত্য এবং শ্রেষ্ঠ। এটা গ্রহণ করো। তাহলে একই ঘটনাকে আমরা দুইটা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পাব। এক হরিদাসের মনের অবস্থা আর দ্বিতীয়ত খ্রিস্টের সর্বগ্রাসী মনোভাব। ধর্মের এমন রাক্ষসী আচরণের জন্যও অনেকে ধর্মকে শুভ বিদায় জানিয়ে দেয়।

সবার প্রতি ভালোবাসা এবং সহমর্মিতার জন্য উনিশ শতকে খ্রিস্টধর্ম বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তখন ঈশ্বরের শক্তি অনেক বেড়ে গেল আর ফলবান বৃক্ষের মত উদার হয়ে গেল। ইহুদি থেকে শুরু করে সমাজের সকল শ্রেনির মানুষই খ্রিস্টধর্মে অবাধ প্রবেশ করতে পারত। গৃহীত হতো সাদরে। সকলের প্রতি উদার ভালোবাসা সাধারণ কাছে অনন্য সাধারণ হয়ে দেখা দিল। আহ! কি সাম্য!! এর কারন কী জানেন? কারন হলো, চার্চের প্রায় সব কাজ করত গরীব অসহায় মানুষ। এই হ্যাভ নট মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নাই বলেই বিশ্বাস ও ভালবাসার অসাধারণ ক্ষমতা আছে। ঈশ্বরই হয়ত অলক্ষ্যে গরীবদের ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছেন(!!) তখনকার সময়ে বহুমুখী, বিচিত্র সংস্কৃতি ও ধর্ম চর্চার মধ্যে খ্রিস্টধর্ম ও বিশ্বাসীগণ ছিলেন অনেক আকর্ষণীয়।

এই গবেষণা খ্রিস্টধর্মের নেতিবাচক দিক বেরিয়ে বিশ্বাসের পুনঃজাগরণের আশাবাদ ব্যক্ত করে উপসংহারে পৌঁছেছে। হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র মানুষের হাতে সমাজ পরিবর্তনের চাবিকাঠি। সভ্যতা আদি থেকে আজ পর্যন্ত তারাই সমাজটাকে নাড়িয়ে দিয়েছেন, বদলেছেন খোলে নলচে। ধরে নিই তাদের সংখ্যা হবে ১০ শতাংশ। সমাজের কিছু লোক আছে যারা সমাজ পরিবর্তনের সারথিদের সাথে থাকে, এদের পরিমাণ হবে হয়ত ২০ শতাংশ। বাকি ৭০ শতাংশের উপরই নির্ভর করে সবকিছু। তারা শ্রমদাসের মত অমানবিক পরিশ্রম করে যা আসলে আধুনিক দাসত্ব। ইঁদুর মারার কলের মত আটকে পড়া এদের অবস্থা যা নিকট ভবিষ্যতে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এই শ্রেণির হাতে কোন ক্ষমতা নেই, উপযুক্ত শিক্ষা নেই, আশা নেই এবং ক্ষমতার রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার মত আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা নেই। এমনকি সিদ্ধান্ত নেয়ার মত ক্ষমতাও এদের থাকে না। ধর্ম হয়ত বেঁচে থাকবে এই ৭০ শতাংশ মানুষের মাঝে। কারন নিজেদের ভাগ্যকে অভিশাপ দেয়ার জন্য এবং একই সাথে কষ্টের উপর সান্ত্বনার মলমের মত মুক্তির জন্য একজন ঈশ্বর তাদের খুব দরকার।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ঈশ্বরের প্রয়োজনীয়তা

  1. ঈশ্বর আর খ্রিষ্টান ধর্ম নিয়েই
    ঈশ্বর আর খ্রিষ্টান ধর্ম নিয়েই শুধু লিখলে লেখাটা অসম্পূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।একই শিরোনামে পৃথিবী তে বিরাজমান আরো অনেক ঈশ্বর নিয়ে আরো লেখা লেখকের কাছে সিরিজ হিসেবে চাওয়া অযৌক্তিক হবে কি?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 + = 77