মাছের রাজা ইলিশ হতে পারে বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ

ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের কাছে রোল মডেল। অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ইলিশ। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। এছাড়া ২৫ লাখ মানুষ পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে ইলিশ মাছের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। জামদানির পর বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশকে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ফলে ইলিশ বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পাবে। ইলিশের উপর বাংলাদেশের একক মালিকানা স্বত্ব তৈরি হবে। ভারত, মিয়ানমারসহ কয়েকটি দেশের উপকূলে ইলিশ পাওয়া গেলেও স্বাদে-গন্ধে বাংলাদেশের ইলিশ অতুলনীয়। যে কারণে বাংলাদেশের ইলিশের সুখ্যাতি বিশ্বজুড়ে। জাটকা সংরক্ষণ, অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা এবং ইলিশ প্রজনন-সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৪ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। অথচ ২০০২-০৩ অর্থবছরে মাত্র ১ লাখ ৯১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছিল। আগামী অর্থবছরে ইলিশের উত্পাদন ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের নানা পদক্ষেপ ও দেশের মানুষের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। ইলিশ মাছ সংরক্ষণেও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ‘ওয়ার্ল্ড ফিশ’-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ইলিশের ৬০ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ভারতে ২০ শতাংশ, মিয়ানমারে ১৫ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ৫ শতাংশ ইলিশ ধরা পড়ে।এমনকি হাতেগোনা যে কয়েকটি দেশে সামান্য পরিমাণে ইলিশ পাওয়া যায় সেসব দেশেও বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হলে ইলিশের ওপর বাংলাদেশের একক মালিকানা স্বত্ব তৈরি হবে। এতে বিশ্বব্যাপী এই পণ্যের চাহিদা বাড়বে। বাড়বে পণ্যের দাম। এছাড়া জিআই পণ্যকে ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগও পাওয়া যাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 35 = 40