সাওতালদের ত্রাণ প্রত্যাখ্যান, সরকারী লালটূ কর্মকর্তার বক্তব্য এবং আজকের অপার্থিব সুপারমুন

?jadewits_media_id=703701″ width=”512″ />
নিম্নস্তরের প্রাণী, যেমন গুইসাপ, সজারু, ইঁদুর, বেঁজি ইত্যাদি ইত্যাদি নাকি সাওতালদের খুবই প্রিয়। সরকার তাদের দিতে গেল চাল, ডাল, তেল, আলু এইসব। ভুল পদক্ষেপ! সাওতালদের প্রিয় খাদ্যের পসরা নিয়া গেলে তারা লোভ সামলাইতে পারতো না হয়তো। কিন্তু এই ত্রাণ নিতে অস্বীকার করা সরকার এবং প্রশাসনের মুখের উপর চপেটাঘাত। এর মাধ্যমে তারা এই বাণীই পৌঁছাইল যে গরু মাইরা জুতাদান তারা মানতে রাজী না। এই অশিক্ষিত, নাকবোচা, কালো মানুষগুলা আমাদের বুঝাইয়া দিল যে চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও তাদের আত্মসম্মানবোধ অটুট, তারা এত সহজে এইসব অবিচার মানবে না।

?jadewits_media_id=703701″ width=”512″ />
নিম্নস্তরের প্রাণী, যেমন গুইসাপ, সজারু, ইঁদুর, বেঁজি ইত্যাদি ইত্যাদি নাকি সাওতালদের খুবই প্রিয়। সরকার তাদের দিতে গেল চাল, ডাল, তেল, আলু এইসব। ভুল পদক্ষেপ! সাওতালদের প্রিয় খাদ্যের পসরা নিয়া গেলে তারা লোভ সামলাইতে পারতো না হয়তো। কিন্তু এই ত্রাণ নিতে অস্বীকার করা সরকার এবং প্রশাসনের মুখের উপর চপেটাঘাত। এর মাধ্যমে তারা এই বাণীই পৌঁছাইল যে গরু মাইরা জুতাদান তারা মানতে রাজী না। এই অশিক্ষিত, নাকবোঁচা, কালো মানুষগুলা আমাদের বুঝাইয়া দিল যে চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও তাদের আত্মসম্মানবোধ অটুট, তারা এত সহজে এইসব অবিচার মানবে না।

আমদের মধ্যে বহু ভদ্রবেশী বাঙ্গালী আছেন যারা সাওতাল দেখলে নাক কুঁচকান। এইরকম আচরণ পশ্চিম পাকিস্তানীরাও আমাদের সাথে করতো। আমাদেরও পাকিস্তানীরা বলতো কালো, বাইট্টা মানুষ। ষাটের দশকে পাকিস্তানে সম্ভবত জাতিসংঘ থাইকা ত্রাণ আসে। সেই ত্রাণ খাদ্য ছিল না, ছিল স্যানিটারি সরঞ্জাম। টয়লেটের কমোড আর এইরকম জিনিসপত্র। সংসদের বাঙ্গালীরাও যখন এইসব ত্রাণের হিস্যা দাবী করেন তখন পাকিস্তানীরা এইসব নিয়াও ব্যঙ্গ করছিল। তারা বলছিলো, “তোমরা এইসব দিয়া কি করবা, তোমাদের তো কলাগাছের পিছনে যাওয়াই যথেষ্ঠ।” জী হ্যা, এইভাবেই বলছিল ওরা, সংসদে দাড়াইয়াই বলছিল। আমাদের নিজেদের এমন জাতিগত বিদ্বেষ, রেসিস্ট আচরণ সহ্য করবার, এইরকম বাজে আচরণের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। এখন আমরাও যদি একই ধরণের আচরণ করি, তাইলে পাকিস্তানী আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য কি হইবে?

আমি উপজাতিদের একটা গ্রুপ, “জুমঘর” এর সদস্য বহু আগে থাইকাই। সেইখানে ওরা মাঝে ওরা নিজেদের নানা খাবারের ছবি দেয়, যেইগুলা ওদের কাছে খুব প্রিয়। যেমন কাঁচা উড়চূঙ্গা, ব্যাং, নাম না জানা পোকামাকড় এবং আরও অনেককিছু। সেইখানে গিয়া আমাদের বাঙ্গালী ভাইয়েরা ওয়াক ওয়াক করেন, উলটাপালটা কথা বইলা আসেন, চরম অপমানজনক কথা বইলা আসেন। এর বাইরেও তাদের নারীগণের স্বাভাবিক পোষাকের ছবি দেইখা অনেকে উত্তেজিত হইয়া কথা বলেন। এইসব খুবই উন্নত মনের পরিচায়ক, খুবই স্বাভাবিক আচরণ। এইসকল খাদ্য চাইনিজরাও খায়, হ্যাডম থাকলে ওদের সামনে গিয়ে ওদের ভাষায় বইলা পশ্চাদদেশ অক্ষত রাইখা ফেরত আসতে পারলে বুঝতাম সাহস আছে সবজায়গায় একই আচরণ ধইরা রাখার। কিংবা ফ্রান্সের কোনো ন্যুডবিচে গিয়া তাহারা যদি বইলা আসতে পারেন যে তোরা অসভ্যজাত, জাহেলিয়াতের যুগে পইড়া আছিস, তাইলেও চলবে। কিন্তু উনারা সেইসব দেশে গেলে ওইরকম কাপড়ের রমণী দেখলে সম্ভবত মৈথুন কিংবা রমণক্রিয়াতে লিপ্ত হওয়ার খায়েশ সামলাইতে পারবেন না। যাইহোক, প্রতিটা মানুষ কি খাবে, কোন সংস্কৃতি, আচারআচরণ পালন করবে সেইটা তাদের নিজের ব্যাপার। যেই জাতির মানুষ এইসব মানতে পারবে না, তাদের মানসিকতা, বোধ কতটা উন্নত সেইটা নিয়াই প্রশ্ন করা যায়।

থাক সেই কথা, সরকার অন্তত ত্রাণ প্রদান কার্যক্রমের পদক্ষেপ নিয়া স্বীকার করলেন যে ওইখানে মানবিক বিপর্যয়ের মত পরিস্থিতি তৈরী হইছে। দেরীতে হইলেও তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াইয়া দিয়া পরোক্ষভাবে এইটাই স্বীকার করলেন যে তারা ভালো অবস্থায় নাই। অপরাধী হইলে বা নিজের দোষে এমন হইলে তা সরকার করতো কি? আবার একজন দুইজনের ব্যাপার না, হাজার মানুষের ব্যাপার। সাওতাল হোক আর যাই হোক, ওরা মানুষই। ন্যাশনাল আইডিকার্ডও থাকতে পারে তাদের, কারে ভোট দিছিলো আমি জানি না। তাদেরও দিতে পারে যাদের কারণে তাদের আজকে ভিটামাটি ছাড়া হওয়ার মত অবস্থা।

সরকারের এক লালটু চেহারার কর্মকর্তারে আজকে টিভিতে বলতে শুনলাম, এইটা তেমন কোন সমস্যাই না। সমাধান কইরা ফেলা হবে সব। উনি বলতেছিলেন দুনিয়ার নানা দেশে আরও কত ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হয়, এইখানে তেমন কিছুই হয়নাই। দুঃখিত হে মহান পুরুষ, আমাদের দেশে কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি নাই যে হাজার হাজার মানুষকে খোলা আকাশের নীচে থাকতে হবে। আপনি নিজে একদিন মশার কামড় খাইয়া সারারাত খোলা আকাশের নীচে কাটাইয়া দেখেন কেমন লাগে। নিজের মনের অবস্থার কথা চিন্তা কইরেন আপনার সহায় সম্বল ভিটামাটি লইয়া যদি কেউ টান দেয় আর আপনি তার ক্ষমতার সামনে অসহায় এবং প্রতিবাদ করতে গেলেউল্টা মাইর খাইতেছেন এমন পরিস্থিতিতে নিজেরে বসাইয়া। সেই অবস্থায় আপনার পেটে ভাত যাইতো না, আজকে রাইতে নাকি সুপারমুন উঠছে, এই সুপারমুনরে সুপারমুন লাগতো না। মনে হইতো আপনার অসহায়ত্বে সেও ব্যাঙ্গ করতেছে। আপনার লাল্টু চেহারা একদিনেই চুপসাইয়া চিইপা রস বার করা নিঃস্ব লেবুর খোসার মত লাগতো…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “সাওতালদের ত্রাণ প্রত্যাখ্যান, সরকারী লালটূ কর্মকর্তার বক্তব্য এবং আজকের অপার্থিব সুপারমুন

  1. কথাগুলা খুব সত্য।
    কথাগুলা খুব সত্য।
    সুপারমুন *দাইতেছে সবাই। ভাল লাগতেছে দেখে।
    দেশের বড় পত্রিকাগুলায় বিপিএল যতটা জয়গা পায় তার অর্ধেক জায়গাও এই আদিবাসীরা পায় না

    1. আপনি সংবিধান বিরোধী কথা
      আপনি সংবিধান বিরোধী কথা বলতেছেন। এইদেশে আদিবাসী বইলা কিছু নাই। সব দেশদ্রোহী, বাঙ্গাল বিদ্বেষী মিডিয়ার সৃষ্টি।

      এই ব্যাপারে জানতে ক্লিক করুন এখানেঃ 😉

      http://www.istishon.com/?q=node/22846#sthash.e0US8891.dpbs

  2. ভাগ্যভালো তারা কেউ ত্রান নেয়
    ভাগ্যভালো তারা কেউ ত্রান নেয় নাই, তা না হয়ে যদি দুই জনও ত্রান এর দিকে হাত বাড়াইতো তাহলে দেখা যাইতো, বাকীটা তারা নিজেরা নিজেরা ভাগাভাগি করে নিয়েছে এবং মিডিয়ায় দেখা যাইতো সাঁওতাল পল্লীতে সুখের আগুন লেগেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 + = 24