প্রশ্নের সীমাবদ্ধতা।

অনলাইন জগতের সাথে যাদের ওঠা বসা আছে তারা নিশ্চয় খেয়াল করে থাকবেন ধর্ম বিশ্বাসী মানুষেরা, বিশেষ করে মুসলমান ধর্ম বিশ্বাসীরা প্রায় একটা প্রশ্ন করে থাকেন যে আপনারা যারা ধর্ম বিশ্বাস করেন না, কোন ধর্মেরই কোন গ্রন্থ মানেন না তাহলে আপনাদের গ্রন্থ কি? আপনারা কি অনুসরণ করে চলেন? যদি বলি নিজের বিবেক অনুসরণ করে চলি, সাধারণত এমন উত্তর তাদের মনোমত হয়না। তারা মনে করে অবিশ্বাস করার ও একটা গ্রন্থ থাকা উচিৎ, গ্রন্থ হীনতায় তারা ফাঁকা ফাঁকা বোধ করেন। তারা বুঝতে পারেননা অবিশ্বাস করার অর্থ আর এক বিশ্বাসের দাসত্ব করা নয়, অবিশ্বাস করার অর্থ যুক্তি প্রমাণহীন অপবিশ্বাসকে বাতিল করে দেওয়া।

মানুষ সাধারণত নিজের অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞানের বাহিরে কল্পনা করতে পারেনা, তাই মনেহয় গ্রন্থ বিশ্বাসী মানুষেরা এর বাহিরে কল্পনাও করতে পারেনা। তাদের চিন্তা চেতনা ঘুরপাক খায় একটা বৃত্তের মধ্যে। গোয়ালের গরুর মত তাদের একজন মালিক থাকতে হবে, সেই তার ইচ্ছা মত খড় পানি খেতে দিবে, নাকে দড়ি লাগিয়ে যে দিকে ইচ্ছা ঘুরে নিয়ে বেড়াবে, প্রয়োজন হলে হালে জুড়বে, প্রয়োজন না থাকলে কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে দিবে, এর ব্যতিক্রম হওয়ায় যেন অস্বাভাবিক।

আদিম অন্ধ বিশ্বাসের দাস, চাষার গরু বা কলুর বলদ হওয়ার চেয়ে বনের স্বাধীন কাক, চিল বা প্রজাপতির মত তুচ্ছ পতঙ্গ হওয়াও ভাল, তাতেই বরং জীবনের স্বাদ আছে, বেঁচে থাকার আনন্দ আছে।

মানুষ যখন ধর্ম বিশ্বাস সহ জগতের সকল অলৌকিক বিশ্বাসের মোহ থেকে বেরিয়ে আসে তখন তার নিজের বিবেক, যুক্তি এবং যৌক্তিক জ্ঞান ছাড়া অবলম্বন করবার মত আর কোন বস্তুই থাকেনা। আসলে এরচেয়ে বেশি আর প্রয়োজনও হয়না। মূলত বিশ্বাসই জগতের সকল প্রতারণার হাতিয়ার।

আত্মবিশ্বাসই সকল সাফল্যের চাবিকাঠি। বুদ্ধি নির্ভর জাতীরা ধাপে ধাপে এগিয়ে গেছে, যাচ্ছে, যাবেও। জগতের সকল স্বাধীন, সভ্য জাতীরা বস্তুনিষ্ঠ যুক্তি, নতুন তথ্য, সত্য মেনে নিয়েই মানবিক মানুষ মানুষের জন্য নিয়ম, আইন, রাষ্ট্রের জন্য সংবিধান তৈরি করেছে। জগত নিত্য এগিয়ে চলবে মানুষ তার সময়ের প্রয়োজনে নতুন নিয়ম গড়িয়ে নিবে, যা প্রয়োজন নয় তা ছিন্নবস্ত্রের মত ছুড়ে ফেলে দিবে মহাকালের নর্দামায়। কোন কিছু চিরকালিন সত্য বলে নিয়মের দাস হবেনা। সৃষ্টিশীল মানুষই হবে সকল নিয়মের স্রষ্টা।

প্রকৃত পক্ষে জগত প্রায় চলছেই তেমনি, দুনিয়া জুড়ে মানুষেরই রাজত্ব, চেতনে অবচেতনে আমরা সবায় বুঝি, জানি, মানিও, এ ছাড়া উপাইও নেই, স্রষ্টার আইন বলে যে সব বাজে কথা বাজারে চল আছে তা সময়ের এক আপদ মাত্র। যে জলের গতি নেই তা আবর্জনাময় পাঁকে শৈবালে আটকা পড়া দুর্গন্ধময় এক বদ্ধ ডোবা মাত্র।
sI

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 + = 86