৯২১ কোটি পাকিস্তানী রুপীর নয়া দাবীঃ নজর আরও উঁচা কর হে পাকী ভাইলোগ!


পাকিস্তানীরা দিনদিন ছোটলোক হইতেছে, নজর উঁচু নাই। এতদিন পর এই উপলব্ধি হওয়ার কারণে আমি ব্যথিত। ওদের চাহিদা এত কম কেন মাথায় ঢুকলো না। দেশটা তো ওদেরই ছিল। এইখানে বাঙ্গালী সহ অন্য যারা ছিল তারা তো মানুষ ছিল না। এই ভূমির উপর অধিকার একমাত্র পাকিস্তানের। দেশভাগের সময় সিলছাপ্পড় মাইরা মানুষসহ এই ভূমির স্থলে, লাগোয়া ও অন্তস্থ্য জলে এবং উপরিস্থ অন্তরীক্ষে অধিকার পাকিস্তানের নামেই দিয়া দেয়া হইছিল। ওরা সমগ্র বাংলাদেশের ভূ-সম্পদ সহ অন্যান্য নানাপ্রকার সম্পদ, যেমনঃ তরল, বায়বীয়, উদ্ভিজ, মৎস্যসম্পদ প্রভৃতি থেকেও পাওনা দাবী করতে পারতো। অনেক সম্পদ তো বছর বছর বৃদ্ধি পায়, যেমন ইলিশের উৎপাদন তো বছর বছর বাড়তেছেই, এমন সম্পদগুলাকে রিকারেন্ট আয়ের উৎস হিসেবেও বিবেচনা করতে পারতো। পুরা দেশের জন্য এত টাকা এককালীন দাও, আর এইসব পুনঃপুনঃ বাড়বাড়ন্ত সম্পদের বেলায় বছর বছর পে করতে হবে এমন দাবীই যৌক্তিক হইতো। আকাশের দিকে না তাকাইলে তো ছাঁদও ছুঁইতে পারবে না কেউ। ওরা আনুভুমিক দৃষ্টিও দেয় নাই, তাকাইতেছে গোড়ালির তলদেশে।


পাকিস্তানীরা দিনদিন ছোটলোক হইতেছে, নজর উঁচু নাই। এতদিন পর এই উপলব্ধি হওয়ার কারণে আমি ব্যথিত। ওদের চাহিদা এত কম কেন মাথায় ঢুকলো না। দেশটা তো ওদেরই ছিল। এইখানে বাঙ্গালী সহ অন্য যারা ছিল তারা তো মানুষ ছিল না। এই ভূমির উপর অধিকার একমাত্র পাকিস্তানের। দেশভাগের সময় সিলছাপ্পড় মাইরা মানুষসহ এই ভূমির স্থলে, লাগোয়া ও অন্তস্থ্য জলে এবং উপরিস্থ অন্তরীক্ষে অধিকার পাকিস্তানের নামেই দিয়া দেয়া হইছিল। ওরা সমগ্র বাংলাদেশের ভূ-সম্পদ সহ অন্যান্য নানাপ্রকার সম্পদ, যেমনঃ তরল, বায়বীয়, উদ্ভিজ, মৎস্যসম্পদ প্রভৃতি থেকেও পাওনা দাবী করতে পারতো। অনেক সম্পদ তো বছর বছর বৃদ্ধি পায়, যেমন ইলিশের উৎপাদন তো বছর বছর বাড়তেছেই, এমন সম্পদগুলাকে রিকারেন্ট আয়ের উৎস হিসেবেও বিবেচনা করতে পারতো। পুরা দেশের জন্য এত টাকা এককালীন দাও, আর এইসব পুনঃপুনঃ বাড়বাড়ন্ত সম্পদের বেলায় বছর বছর পে করতে হবে এমন দাবীই যৌক্তিক হইতো। আকাশের দিকে না তাকাইলে তো ছাঁদও ছুঁইতে পারবে না কেউ। ওরা আনুভুমিক দৃষ্টিও দেয় নাই, তাকাইতেছে গোড়ালির তলদেশে।

কিছু ব্যাপারে অন্তত বাংলাদেশরে ওরা কনসেশন দিতেই পারতো। যেমন, লাখখানেক পাকিস্তানী অনুগত বিহারী এবং বাঙ্গালীদের ওরা এইখানে রাইখা গেছিল, যাদের হাজার কান্নাকাটির পরেও পাকিস্তান ফিরাইয়া নিয়া যায় নাই। ওদের ভরণপোষণের ব্যয় হিসেবে কিছু অংশ ছাড় দিলে তা হইতো পাকিস্তানীদের মহানুভবতার পরিচায়ক।

যাইহোক, যুদ্ধে পাকিস্তানী বীর সেনারা অস্ত্র সমর্পনের আগেই এইদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের হিসাবে মাত্র ১১৭ টাকা রাইখা গেছিলেন উনারা। উনাদের দৃষ্টিতে এইখানে আর কোন পাকী নাগরিক থাকবার কথা ছিল না দেইখা হয়তো এই কাজ করছিলেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ নামের ভুইফোড় রাষ্ট্রটা তাদের কাছে ততকালীন হিসাবে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থের অন্যায্য হিস্যা দাবী করে। যার বর্তমান মুল্য প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এইটা দাবী করা আসলে ঠিক হয় নাই। বাংগালীরা তো পাকিস্তানই মানে নাই। পাকিস্তান রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঞ্চিত অর্থে হিস্যা দাবী করে কেন বাঙ্গালীরা? তাদের কি কোনো আক্কেল নাই? যদিও সেই আমলে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জনসংখ্যার ৫৬% ছিল বাঙ্গালী। তাদের যে ভোটাধিকার দেয়া হইছিল, সবাইরে মাইরা ফেলা হয়নাই, এইটাই তো অনেক। তারপরেও বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র মনে করে, স্বাধীনতার আগে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা বিবেচনায় ওই সম্পদের ৫৬ শতাংশ, ফরেন কারেন্সী আয়ের বেলায় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালী মজুরদের অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনায় ৫৪ শতাংশ এবং দুই অংশের সমতার নীতি অনুসরণ করলে ৫০ শতাংশের দাবিদার বাংলাদেশ। ছিঃ! লানত বাংলাদেশের উপর। পাকিস্তান অস্বীকার করলি, কিন্তু পাকিস্তানীগো টাকার দাবী আর ছাড়লো না বাঙ্গালী। বাঙ্গালী এতদিন পরেও টাকার দাবী করে কিসের জন্য? এরা তো অর্থলিপ্সু জাতি, কৃতজ্ঞতাবোধ নাই কোনো…

যাইহোক, তাদের হয়তো খয়রাতীর টাকাগুলা দেয়া যাইতো যা বিদেশীরা ৭০ এর ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূলের ভুখা নাঙ্গা বাঙ্গালীদের জন্য দিছিল। টাকার পরিমাণ কমও না। সেই আমলের ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বর্তমানে ১৮ হাজার কোটি টাকা। এইটাও যে দেয় নাই, তাও হয়তো যুক্তিযুক্ত। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঢাকা শাখায় জমা হওয়া ওই ত্রাণের টাকা মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় ব্যাংকের লাহোর শাখায় নিয়া যায় বুদ্ধিমান পাকীরা। বাংগালী বেহুদা যুদ্ধ করছে, যুদ্ধের ব্যয়ের কিছু তাদের থাইকাই নিতে হবে না?

নাহ, এই সামান্য অর্থের দাবী করা মহান পাকিস্তানীদের জন্য ছোটলোকি হইলো। পুরা দেশ দান কইরা দিল, কিন্তু চেয়ার টেবিল, যানবাহন, দুই চাইরটা বিল্ডিং এর হিসাব এখনো ধইরা রাখছে পাকীরা? বাংগালীর জনসংখ্যার আবাদী তো কম না। তারা প্রকৃতির বড় ডাকের কারণে দৈনিক যেই পরিমাণ জৈব সার উৎপাদন করে, তা একত্রিত কইরা জাহাজ বোঝাই কইরা পাকিস্তানে কয়েকদফা পাঠাইলেই এই টাকা উইঠা আসবে। বাঙ্গালী মানব হোক আর নাই হোক, তার বিষ্ঠাও জৈবসার। এই বিষ্ঠাও নেহায়েত মুল্যহীন নহে। পাকিস্তানের মরুভূমিগুলাও বাঙ্গালী বিষ্ঠায় হইয়া উঠতে পারে উর্বর। হইয়া উঠতে পারে শস্য শ্যামলা সবুজে সবুজ। এই সামান্য ব্যাপারে এত সুদুরপ্রসারী চিন্তা? বাঙ্গালীতো এইটা এমনিতেই দিতে পারতো…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

25 + = 31