পাকিস্তানের মামারবাড়ির আবদার!

?itok=urq2w5se” width=”512″ />
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, বাংলাদেশের কাছে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৯.২১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রূপি, ৬.৯২ বিলিয়ন বাংলাদেশি টাকা) টাকা পাওনা আছে দাবি করে তা ফেরত চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৭১ পূর্ববর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের কাছে পশ্চিম পাকিস্তানের যে অর্থ পাওনা ছিল তা বর্তমানে ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অ্যাসেট ভ্যালুয়েশনের মধ্য দিয়ে প্রকৃত পাওনা নিরুপণ করা হয়েছে। অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন এমন একটি প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে কোনও সম্পত্তির প্রকৃত অর্থমূল্য নিরুপণ করা হয়। একটা নির্দিষ্ট সময়ে কোনও সম্পত্তির প্রকৃত অর্থমূল্য কত, তা ওই সময়ের নগদ অর্থ প্রবাহ, তুলনাযোগ্য মূল্যমান কিংবা লেনদেনের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। পাকিস্তানও বাংলাদেশের স্বাধীনতাত্তোরকালে তাদের কথিত পাওনার ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের জুন মাসে এসে অর্থ প্রবাহ, তুলনাযোগ্য মূল্যমান কিংবা লেনদেনের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে তাদের পাওনার পরিমাণ নির্ধারণ করেছে।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাংককে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সরকারি অফিস, ঋণ, আগাম সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের কাছে যে টাকা পাওনা ছিল, যে ২০১৬ সালের জুন নাগাদ ভ্যালুয়েশন করে তা ৬শ কোটি ৯২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের কাছে তাদের এই টাকা দাবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

পাকিস্থানের এমন দাবি বেশ হাস্যকর। কারন আমারা পাকিস্থানিদের কাছ থেকে আরো অনেক বেশী অর্থ পাই। যা আমাদের ন্যায্য পাওনা। এই ছ্যাঁচড়া দেশটি সর্বদা একই রকম থেকে গেছে। দুর্নীতি ও চুরি যাদের রক্তে মিশে আছে। যার সবচেয়ে বড় ভিকটিম আমারা বাংলাদেশীরা। সেই ব্যাপারে আজ সহজ সরল কিছু আলোচনার চেষ্টা করবো।
মুক্তিযুদ্ধের ক্ষতিপূরণ ছাড়াই উত্তরসূরি রাষ্ট্র হিসেবে অবিভাজিত সম্পদের ন্যায্য হিস্যা এবং একাত্তরে ঢাকায় স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া অর্থবাবদ পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনার পরিমাণ ২৩৬ কোটি মার্কিন ডলার (১৮,০০০ কোটি টাকা)। ২০১০ সালে পাকিস্তানের কাছে এই ২৩৬ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তান সে দাবিকে ‘স্পর্শকাতর’ অভিহিত করে কার্যত এড়িয়ে যায়।

১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে আগত প্রায় ২০০ মিলিয়ন (২০ কোটি) ডলার রক্ষিত ছিল ঢাকায় স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করা হয় ব্যাংকের লাহোর শাখায়। ওই অর্থ সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের আগে অখণ্ড পাকিস্তানের প্রায় ৪৩২ কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদে হিসাবের জন্য বাংলাদেশ দাবি জানিয়ে আসছে।
১৯৭০ সালে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বরগুনা, ভোলাসহ দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় গোর্কি নামের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষ মারা যায়। নষ্ট হয় শত কোটি টাকার সম্পদ। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার তখন কোনো সহায়তা দেয়নি পূর্ব পাকিস্তানকে। ঘূর্ণিঝড়ের পর পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য আসে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বিদেশি মুদ্রাগুলো তত্কালীন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঢাকার শাখায় রক্ষিত ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বৈদেশিক মুদ্রাগুলো স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের লাহোর শাখায় স্থানান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ মনে করে, ১৯৭১ সালের আগে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশ ওই সম্পদের ৫৬ শতাংশ, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনায় ৫৪ শতাংশ এবং সমতার নীতি অনুসরণ করলে ৫০ শতাংশের দাবিদার। এ দুটি খাতে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের দাবি ২৩৬ কোটি ডলার। ১৯৭১ সালে যুদ্ধের তারা ১২৪৯ কোটি টাকার সম্পদ তারা সময় ক্ষতি করেছে। সে অর্থও তারা আজ পর্যন্ত দেয়নি। ১৯৭০ সালের রিলিফের ২০ কোটি ডলারের হিসেবটি দিকে একটু তাকালে দেখা যাবে বিশাল একটি অঙ্কের টাকা তারা চুরি করে নিয়ে গেছে। ১৯৭১ সালে ডলারের বিপরীতে টাকা দাম ছিল ৭.৭৬ টাকা যা বর্তমানে প্রায় ৭৬.৫১ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। অর্থাৎ সেই টাকার পরিমান প্রায় ১০ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিধিবাম পাকিস্তান সেই অর্থ আমাদের দিচ্ছে না। এই সংক্রান্ত কোন বৈঠক করতে চাইলেই পাকিস্তান স্পর্শকাতর বিষয় বলে এরিয়ে গেছে নয়তো বৈঠক বাতিল করেছে।

কিন্তু ১৯৯৪ সালে মংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরির জন্য পাকিস্তানের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ ২০১১ সাল থেকেই অনুরোধ করে আসছে। এই ঋণের পরিমাণ তিন লাখ ৪৮ হাজার ৮৯ মার্কিন ডলার। কিন্তু পাকিস্তান তা নিষ্পত্তির অনুরোধে সাড়া তো দিচ্ছেই না উপরন্তু দিন দিন তাদের দেওয়া ঋণের সুদের অঙ্ক বাড়িয়ে বাংলাদেশকে তা পরিশোধের আহ্বান জানাচ্ছে।

এদিকে পাবনা চিনিকলের বিপরীতে ঋণের অর্থ নিয়েও পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকার পাকিস্তানের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ছয় কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ নিয়েছিল। বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী, দুই দশক পর এটি সুদে-আসলে হয় আট কোটি ডলার। অন্যদিকে পাকিস্তান সুদ ও দণ্ডসহ ১০ কোটি ডলার দাবি করে আসছে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন এক চিঠি পাঠিয়ে দ্রুত এক কোটি ডলার পরিশোধ করতে বলে বাংলাদেশ সরকারকে। তবে বাংলাদেশ মনে করে, পাকিস্তান যে টাকা দাবি করছে তা সঠিক নয়। বরং মূল টাকার সঙ্গে সুদ ও দণ্ড মিলে দেশটি মোট আট কোটি ডলার পাবে। পাকিস্তান বাড়তি যে দুই কোটি ডলার দাবি করছে তা অযৌক্তিক। নিজের পাওনা অর্থ কয়েক গুণ বাড়িয়ে তা পরিশোধের দাবিতে পাকিস্তান সরব থাকলেও তার কাছে বাংলাদেশের পাওনা নিয়ে নীরব থাকছে। খালেদা সরকারের পাকিস্থান প্রীতির কারণে আমাদের উপরোক্ত ঝামেলা সহ্য করতে হচ্ছে। এটা খুব পরিস্কার ভাবেই একটি সূক্ষ্ম চাল ছিল পাকিস্তানের। আমারা তাদের কাছে ন্যায্য অর্থ দাবি করলেই তারা এই টাকার কথা সামনে এনে সটকে পড়ার চেষ্টা করে।

১৯৮১ সালে জাতিসংঘের ঘোষিত ইউনিভার্সাল ডিক্লেয়ারেশন অব হিউম্যান রাইটসে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে কম সময়ে বেশি গণহত্যা করা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ঢাকা সফরে এসে একাত্তরকে তত্কালীন সময়ের একটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীল ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেন। তবে ২০০২ সালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ঢাকায় এসে ’৭১-এর ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। কিন্তু গণহত্যার দায় স্বীকার করেননি। অবশ্য পাকিস্তানের সরকার ক্ষমা না চাইলেও ২০০২ সালে পাকিস্তানের নাগরিক সমাজের ৫১টি সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চায়। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ঘটনার জন্য পাকিস্তান সরকারের বাংলাদেশের কাছে আরও আগেই ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল।

পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের আরেকটি দাবি, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়ার। ২০০৬ সালে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) সমীক্ষা অনুযায়ী সে সময় বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানির সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার। গত চার দশকের মধ্যে নওয়াজ শরিফের সরকার সৌদি আরবভিত্তিক জামাতুদ-দাওয়ার অর্থায়নের মাধ্যমে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। বাংলাদেশে বসবাসরত পাকিস্তানিদের নিজ দেশে পুনর্বাসন করার জন্য নওয়াজ শরিফ সরকার একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেছিল, যেখানে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আটটি জেলায় ১০ মিলিয়ন রুপি ব্যয়ে ৫ হাজার ইউনিটের একটি আবাসন প্রকল্প তৈরির ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু জামাতুদ-দাওয়া অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার পর আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়াও থেমে যায়। যদিও এর আগেই পাকিস্তানের পাঞ্জাব ও সিন্ধুর জনগণ বিহারীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিরোধিতা করে। ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে লাহোর হাইকোর্ট এক ঘোষণায় বলে, বাংলাদেশে যেসব পাকিস্তানি বসবাস করছে তারা বাংলাদেশের নাগরিক। কর্মকর্তারা জানান, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, বিশেষ করে সিমলা চুক্তির পর পাকিস্তানের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ নিয়ে উদ্যোগী হয়েছিলেন। অনেকটা গুছিয়েও এনেছিলেন। তার সময়ই পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতাতেই ১৯৭৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় পাকিস্তান। কিন্তু ’৭৫ সালে তাকে সপরিবারে হত্যার পর এগুলো আর তেমনভাবে এগিয়ে যায়নি। শুরুর দিকে পাকিস্তান এ বিষয়গুলো স্বীকার করলেও পরে আলোচনায় আর আগ্রহ দেখায়নি। বৈঠকের মধ্যে ১৯৭৭, ১৯৮০, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩, ২০০৪, ২০০৫, ২০১০ এবং ২০১২ সালের বৈঠক অন্যতম। ২০১২ সালে পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার ঢাকায় এলে বাংলাদেশের দাবির কথা জানানো হয়। তখন হিনা রাব্বানি একাত্তরকে ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর আর তেমন আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

চিন্তা করুন হাজার হাজার কোটি টাকা পাওনা এবং ১৯৭১ থেকে আমাদের কয়েক লক্ষ পাকিস্তানীদের ভরণপোষণ করে যেতে হচ্ছে আমাদের। ভরণপোষণের অর্থের হিসেব করলে তা আর কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এরপরেও বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু বাংলাদেশের কাছে থেকে পাওয়না! টাকা দাবি ও অভন্তরি কোন বিষয় নিয়ে নাক গলানোর আগে অন্তত চারটি বিষয় নিষ্পত্তি করা উচিত পাকিস্তানের। বিষয়গুলো হল,

১) ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া।

২) ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বৈদেশিক সাহায্য হিসেবে আসা প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ঢাকায় স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানে রক্ষিত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ব্যাংকের লাহোর শাখায় স্থানান্তর করা হয়। ওই অর্থ সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়া।

৩) ১৯৭১ সালের আগে অখণ্ড পাকিস্তানের প্রায় ৪৩২ কোটি ডলারের নায্য হিস্যা বাংলাদেশ কে ফেরত দেয়া।যা বাংলাদেশ মনে করে, ১৯৭১ সালের আগে পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশ ওই সম্পদের ৫৬ শতাংশ, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনায় ৫৪ শতাংশ এবং সমতার নীতি অনুসরণ করলে ৫০ শতাংশের মালিক।

৪) ১৯৭১ এ আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফেরত নেয়া। কিন্তু পাকিস্তানীরা সেটা কখনোই করবে না।

কিছুদিন আগে ওই পাকিস্তানের দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাত্তাক বলেছেন, ইসলামাবাদের রাস্তা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের চট্টগ্রামের পাটকল থেকে আসা আয়ের টাকায়। তিনি আর বলে, ‘শেখ মুজিবুর রহমান ঠিকই বলেছিলেন, পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিকেরা বাঙালিদের সম্পদ লুণ্ঠন করে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিলেন। বর্তমানে বাংলাদেশে দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন অল্প কিছু উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মধ্যে একটি। আমাদের শত্রু রাষ্ট্র ভারতও গত ৭০ বছরে এতখানি ক্ষতি করতে সমর্থ হয়নি, যতটা ক্ষতি পাকিস্তানি রাজনীতিবিদেরা বাংলাদেশের করেছেন।’ হয়তো পাকিস্থানের আমাদের এই উন্নতি সহ্য হচ্ছে না। তা এই শিকল লুট করা অর্থ পাকিস্তান কি ফেতর দেবে?

আর এখন তারা শুরু করেছে ৭০০ কোটি টাকার অনৈতিক দাবি। মুক্তিযুদ্ধের পরে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকা সফরে এলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪০০০ মিলিয়ন ডলার পাওনা দাবি করে। তখন ডলারের মূল্য ছিল ৮ টাকা। ৪৫ বছরে যা দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকায়। এর মানে হচ্ছে পাকিস্তানের কাছে আমাদের এখনকার পাওনা ১০ গুণ বেশি হয়ে ৪০০০* ১০= ৪০০০০ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা টাকার অঙ্কে ৩২ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও দেশি-বিদেশি বেশ কিছু গবেষণা পত্রের হিসেবে অনুযায়ী বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে তৎকালীন হিসাবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এছাড়াও পাকিস্তানের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধে আমাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ১২৪৯ কোটি টাকা। জাতিসংঘের হিসেবে যা ১২ লাখ ডলার।

স্বাভাবিক ভাবে বর্তমানে পাকিস্থানের ৭০০ কোটি টাকা বিপরীতে আমাদের ন্যায্য পাওনা টাকার পরিমান অনেক অনেক বেশী। তারা যদি আমাদের কাছে অনৈতিক ভাবে ৭০০ কোটি টাকা চায় তবে আমারা তা অবশ্যই ভিক্ষা সরূপ দেবো। কারন বর্তমানে পাকিস্তানের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৪২ শতাংশ। ২০১৬ সালে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এ প্রতিবেদন ব্লুমবার্গের। পাকিস্তানে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৮.৩ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। বৈদেশিক বিনিময় গ্রহণে দেশের ২১বিলিয়ন ডলারের ৪০শতাংশ হ্রাস করতে হবে। তবে বকেয়া ঋণের বেশিরভাগ আঞ্চলিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। ফিচ রেটিংস লিমিটেডের পাকিস্তান বিষয়ক শীর্ষ বিশ্লেষক মারভিন ট্যাঙ ব্লুমবার্গকে বলেন, পাকিস্তানের সরকারি ঋণের মাত্রা বেশি। আর বেশিরভাগ ঋণ প্রদান করা হয় স্বল্প মেয়াদে। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নেয় পাকিস্তান। যা দিয়ে পূর্ববর্তী সময়ের অনাদায়ী ঋণ পরিশোধ করা হয় এবং গ্রিসের মতো একটি সংকট এড়ানো হয়। তখন থেকে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ অভিক্ষিপ্ত ঋণ ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে যাই হোক, আমাদের ন্যায্য টাকা না পাওয়া পর্যন্ত নৈতিক! বা অনৈতিক কোন ভিক্ষাই বাংলাদেশ পাকিস্তানকে দেবে না। বরং পাকিস্তান এই অনৈতিক দাবি অর্থ দাবি করার পর বাংলাদেশ সরকার উচিৎ আন্তর্জাতিক ভাবে পাকিস্তানের উপর চাপ প্রয়োগ করে উপরোক্ত সকল হিসাবের অর্থ দাবি করা এবং আদায় করা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − 3 =