পূর্ণতর শূন্যতা

ওহ! কি যন্ত্রণা! যন্ত্রণার জীবানুদের সাথে চূড়ান্ত বোঝাপড়া করতেই হবে।তাই এক মোক্ষম সময়ে নিদারুণ দুঃসাহসে আমার মাথাটাকে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে অপারেশন টেবিলের উপর আনুভূমিকভাবে রাখি। চোখ থেকে দৃষ্টি খুলে নিয়ে চেতনানাশক পান করায়।দৃষ্টি চৈতন্য হারালে তাকেও রাখি টেবিলে। মন থেকে আলগা করে দিই মননের বাঁধন, জমাট বাঁধা বোধের বরফ। তারপর শুরু হয় আমার চাষাবাদ- চিরকালই চাষী আমি পৃথিবীর মাঠে।নির্মোহতার সূক্ষ অথচ তীক্ষ্ণ লাঙ্গল দিয়ে ব্যবচ্ছেদ করি আমারই মগজ, দৃষ্টি আর মন। দেখি সবখানে উপনিবেশ।আমার সুখ, আমার বেদনা, আমার হাসি আমার কান্না কিছুই আমার না। আমার সৌন্দর্যবোধ, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থনীতির খেরো খাতা, বিবেকের ইতিবৃত্ত; আমার সামাজিক মূল্যবোধ, সাহিত্যিক মনন; আমার ভোগবাদী ইন্দ্রিয় আর ভাববাদী দর্শন সব অসংখ্য ক্ষুদ্রঋণের জালে আবদ্ধ।আমার কোন আবিষ্কার নেই, কোন সৃষ্টিশীলতা নেই। কোথাও আমার আমি নেই।আমার মন ও চেতনার পুরোটা ভূগোল দখল নিয়ে বসে আছে স্বদেশী বিদেশি প্রভু, মনীষী, মহাজন…।

ওহ! কি যন্ত্রণা! যন্ত্রণার জীবানুদের সাথে চূড়ান্ত বোঝাপড়া করতেই হবে।তাই এক মোক্ষম সময়ে নিদারুণ দুঃসাহসে আমার মাথাটাকে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে অপারেশন টেবিলের উপর আনুভূমিকভাবে রাখি। চোখ থেকে দৃষ্টি খুলে নিয়ে চেতনানাশক পান করায়।দৃষ্টি চৈতন্য হারালে তাকেও রাখি টেবিলে। মন থেকে আলগা করে দিই মননের বাঁধন, জমাট বাঁধা বোধের বরফ। তারপর শুরু হয় আমার চাষাবাদ- চিরকালই চাষী আমি পৃথিবীর মাঠে।নির্মোহতার সূক্ষ অথচ তীক্ষ্ণ লাঙ্গল দিয়ে ব্যবচ্ছেদ করি আমারই মগজ, দৃষ্টি আর মন। দেখি সবখানে উপনিবেশ।আমার সুখ, আমার বেদনা, আমার হাসি আমার কান্না কিছুই আমার না। আমার সৌন্দর্যবোধ, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থনীতির খেরো খাতা, বিবেকের ইতিবৃত্ত; আমার সামাজিক মূল্যবোধ, সাহিত্যিক মনন; আমার ভোগবাদী ইন্দ্রিয় আর ভাববাদী দর্শন সব অসংখ্য ক্ষুদ্রঋণের জালে আবদ্ধ।আমার কোন আবিষ্কার নেই, কোন সৃষ্টিশীলতা নেই। কোথাও আমার আমি নেই।আমার মন ও চেতনার পুরোটা ভূগোল দখল নিয়ে বসে আছে স্বদেশী বিদেশি প্রভু, মনীষী, মহাজন…।এসব দেখে খুব আহত হয় আমার প্রাচীন মন, যেমন আহত হয়েছিলেন গৌতম বুদ্ধ শরবিদ্ধ রাজহাঁস দেখে। তবু আরও মনযোগী হয় আমি আমার ব্যবচ্ছেদে। অ্যানাটমির বইয়ের পাতাগুলো দমকা বাতাসে উড়ে এসে গায়ে লাগে ফিজিওলজির বৃষ্টি ঝরে চতুর্পাশে। আমি আই সি ইউ এর তাপমাত্রা হিমাঙ্কের সাত ডিগ্রী নিচে নামিয়ে আনি। শিরদাঁড়া বেয়ে নামতে থাকে অ্যাড্রেনালিনের নদী।সেন্ট্রাল কার্ডিয়াক মনিটরে দেখতে পায় রক্তচাপ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ নম্বর বিপদ সংকেতের কাছাকাছি। ওয়ালস্ট্রিটের ঘণ্টাবাদক তখন তড়িঘড়ি ঘুম থেকে উঠে বাজাতে যাচ্ছে সাইরেন। অভিমানী প্রেয়সীর মত মৌন দশদিক। আমি আমার শায়িত মগজের ভেতর খুজছি, হন্যে হয়ে খুজছি, রক্তের স্বাদ পাওয়া বাঘের মতো করে, অভাবী রশিদ আলী যেমন ওর ছেড়া গেঞ্জিটা খোঁজে ধবধবে সাদা জামা পরা কেউ তার বাড়িতে এলে তার সামনে নিজেকে ভদ্রস্থভাবে উপস্থাপন করতে,ওরকম করে খুজছি। কোথাও পাচ্ছিনা আমার মৌলিক কোন অবদানের ছায়া।কিচ্ছু পাচ্ছি না।খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্তিতে অবসন্ন হয়ে পড়ি আমি। অবশেষে উপসংহারে পৌছায়।দীপগুলো আস্তে আস্তে ম্রিয়মাণ হতে হতে অন্ধকারে ডুবে যায়। শেয়ার বাজারে ধ্বস নামে। মতিঝিলে বাসের সৎকার হতে থাকে। আর আমি প্রেসক্রিপশনে লিখে দিই রোগের বিবরণ…

আমার সারা শরীর মন জুড়ে অন্যের বাস;সক্রেটিস, প্লেটো,কৌটিল্য,বাল্মীকি, অ্যালেক্সজান্ডার, কান্ট, হেগেল,লালন, রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র, মাইকেল,রবীন্দ্রনাথ, নজরুল,জীবনানন্দ, নিউটন,ম্যাক্স প্লাঙ্ক, সত্যেন বোস ,কার্ল মার্ক্স, মেঘনাদ,নিটশে, অমর্ত্য সেন,সত্যজিৎ রায়, হিচকক,আইনস্টাইন এমনি আরও অনেকের আস্তানা, রমরমা ব্যবসা, জমজমাট উপনিবেশ। আমার মন, মনন, দৃষ্টি ও স্মৃতিতে এদের প্রকট ছায়া,অবিরাম বৃষ্টিপাত।আমার সৃষ্টি সব ফসলের মালিকানা আসলে ওঁদের।আমার সব কিছু অন্যের কাছে শেখা। কখন হাঁসতে হয়, কি করে কষ্ট দিতে হয়, কিভাবে লিখতে হয়, কেন ভালবাসতে হয়, কোন মুহূর্তে প্রেমিকার অধরে কত সময়ব্যাপী চুমু দিতে হয় সব ওঁরা বলে গেছে। আমি শুধু একান্ত অনুগত ভৃত্যের মতো মেনে চলছি সেসব।তাই আমার আমি বলতে কিছু নেই। যা আছে তার অর্থ শূন্য, আমি মানে একটা বিরাট শূন্যতা।আমার একমাত্র আবিষ্কার এই শূন্যতার বোধ।সেই পূর্ণতর শূন্যতার মধ্যে রিক্ততার হাহাকার নিয়ে প্রবহমান জীবন আমার, আমাদের …

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 64 = 67