শক্তিশালী শিল্পাঞ্চল হবে বাংলাদেশে

আগামীতে দক্ষিন এশিয়ায় শিল্পাঞ্চলের জন্য সম্ভাবনাময় এবং যুগোপযোগী স্থান হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মূলত কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র এক অর্থনীতির দেশ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে কম খরচের এক বিরাট শিল্পায়নের দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি চলছে নগরায়নের ধারা। এর জনশক্তি বয়সে তরুণ। তাই এর সম্ভাবনা যেমন বিপুল, চ্যলেঞ্জও তেমনি তীব্র। বর্তমানে চীনে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। এখন প্রশ্ন ভবিষ্যতে কোন অঞ্চল হবে বিশ্বের শিল্পকেন্দ্র। বিশ্বব্যাংকের মতে দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনা এ ক্ষেত্রে প্রশ্নাতীত। ২০৩০ সালে বিশ্বের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৪ ভাগের ১ ভাগ বাস করবে দক্ষিণ এশিয়ায়। এই অঞ্চলে মানুষের শিক্ষার হার বাড়ছে। প্রতি মাসে ১০ লাখ নতুন মুখ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। এসব উপযোগী উপাদান থাকার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় শিল্প কারখানা গড়ে তোলার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিবেদনে। এজন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পাশাপাশি অবস্থানের সুযোগ নেয়ার তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। চীনে উৎপাদন খরচ বাড়লে তার প্রভাব কী হবে, তা উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। চীনে পণ্য উৎপাদন খরচ ১০ শতাংশ বাড়লে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানি প্রায় ৮ শতাংশ কমবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে, অর্থ মূল্যের দিক থেকে যার পরিমাণ প্রায় ৫২ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি বাড়বে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ বা প্রায় ৪২ কোটি ডলার। পাকিস্তানের বাড়বে ২৫ শতাংশ, যা প্রায় ৩৪ কোটি ডলারের সমান। তবে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার রফতানি আয় আরও বেশি হারে বাড়বে। ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক সচল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় দ্রুত পথে এগিয়ে চলেছে। যার সুফল হিসেবে দ্রুত দারিদ্র্য মোচন ও জীবনের গড় আয়ু বেড়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারা চালু থাকায় আমাদের সামাজিক সংহতি অনেক দেশের চেয়ে ভাল। একমাত্র গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব। ইতোমধ্যে সরকারের প্রণিত রূপকল্প ২০২১ কে সামনে রেখে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক জোনগুলোকে সুচারুরূপে বাস্তবরূপ দান করবে প্রথম চ্যালেঞ্জ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “শক্তিশালী শিল্পাঞ্চল হবে বাংলাদেশে

  1. শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও
    শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক সচল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় দ্রুত পথে এগিয়ে চলেছে।যার সুফল হিসেবে দ্রুত দারিদ্র্য মোচন ও জীবনের গড় আয়ু বেড়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

27 − 25 =