ধর্মের নামে মাতলামি : আগে ধর্ম জানুন ; পরে শোক..!

মানুষের জন্য মানুষ কাঁদে না কেনো? কেনো মানুষের জন্য মানুষের হৃদয়টা একটুও কেঁপে ওঠে না? আমার গোবর ভরতি মস্তিষ্কে এই সহজ বিষয়টা-ই ঢুকছে না!
হিন্দু মরলে হিন্দু কাঁদছে, সাথে কাঁদছে ভারত, নেপাল!
ইহুদি মরলে ইহুদি কাঁদছে, সাথে কাঁদছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র!
খ্রিস্টান মরলে খ্রিস্টান কাঁদছে, সাথে কাঁদছে ভ্যাটিকান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও খ্রিস্টান সংখাগরিষ্ট দেশগুলো!
মুসলিম মরলে মুসলিম কাঁদছে, সাথে কাঁদছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদিআরব, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলো! (যদিও সবার কান্নার মত তাঁদের কান্না এতোটা জোরালো হয় না)
শিখ মরলে শিখ কাঁদছে, সাথে কাঁদছে পাঞ্জাব ও শিখ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো!
বৌদ্ধ মরলে বৌদ্ধ কাঁদছে, সাথে কাঁদছে চীন, মায়ানমার, জাপান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, নেপাল অথবা বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ট দেশগুলো!

কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই অতি আধুনিক যুগে এসে এমনটা দেখার কথা ছিল না! যেখানে মানবতা মানবতা চিৎকার করা হচ্ছে, তার উল্টোপাশেই দেখবেন দিনেদুপুরে মানবতার বলাৎকার হচ্ছে!

সহজ ও স্বাভাবিক বিষয় ছিল, মানুষ মানুষের জন্য কাঁদবে! কিন্তু এখন তো রীতিমত উল্টোরথ! সবাই ‘৭১ এর মত আগেই লিঙ্গ দেখে ধর্ম যাচাই করে, তারপর কান্নাকাটি- হল্লাহাটি, শোক-দুঃখ, নিদেনপক্ষে একখানা স্ট্যাটাস প্রসব করবেন! তাহলে কেনো দোষ দিচ্ছি, ‘৭১ এর হায়েনাদেরকে? আমরাও কি তাদের চেয়ে কম যাই? তারা করেছিল ‘৭১-এ, কিন্ত আমরা যে দিব্যি ২০১৬-তে এসেও প্রথমেই ধর্মের নাম নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি! এটা কি লজ্জার নয়? এটা কি মানবতার জন্য কলঙ্ক নয়?

সবাই ধর্মের সুরা পান করে একেবারে মাতাল! দেখার সময় নেই মানুষ মরছে কিনা? কিন্তু শত ব্যস্ততায়ও সময় থাকে, কোথায় মন্দির-মসজিদ-গির্জা-প্যাগোডা- সিনাগগ- গুরুদুয়ারা ভাঙছে! কোথায় হিন্দু-মুসলিম- বৌদ্ধ- খ্রিস্টান-ইহুদি-শিখ মরছে! আর তখন তার ধর্ম একেবারে খ্যাঁপা ষাড়ের মত দিনেদুপুরে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠছে! অনেকটা কুকুরের মত যত্রতত্র যৌনমিলনের চাইতেও বিশ্রী ও ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে এই তথাকথিত ধার্মিকতা!
– – – – –
পৃথিবীর যে প্রান্তেই মানুষের মৃত্যু হয়, তাতে আমার হৃদয় কেঁপে উঠে! আমি বারবার কম্পিত হই, তাঁদের স্বজনদের কথা ভেবে! মনে হয় আমিও যেন তাঁদের অনেক দূরের কোনো হারিয়ে যাওয়া অচেনা স্বজন!

পৃথিবীর সকল মানুষেরই রোগে-শোকে, রয়ে-সয়ে, প্রিয়জনের সান্নিধ্যে থেকে গড়াগড়ি খেয়ে, স্বজনদের মাঝে জড়িয়ে- পেঁচিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার অধিকার আছে! যদি ঈশ্বরও তাতে বাগড়া দেয়, তবে আমি এতে নির্লজ্জ প্রতিবাদ করতেও কম্পিত হব না! কারন ঈশ্বর তাঁর সৃষ্টিকে পৃথিবীর হায়েনাদের হাতে অসময়ে মরতে তৈরী করেননি! আমি জানি সৃষ্টির প্রতি স্রষ্টার কতো ভালোবাসা-দরদ- প্রেম থাকে! কারন পৃথিবীর সব মা-ই তাঁদের সন্তানদেরকে নিয়ম-কানুন আর ন্যায়- অন্যায়ের বালাই ভুলেই ভালোবাসেন! তাহলে ঈশ্বর নিশ্চয় তার চাইতেও বেশি-ই ভালোবাসেন!

#বি.দ্র : অত্যাচারিত- আক্রান্ত-শোষিত-নিপীড়িত-নির্যাতিত-ক্ষুধার্ত আর মৃত মানুষের ধর্ম হতে হয় না! তাদেরকে অত্যাচার-শোষণ- নিপীড়ন-নির্যাতন-জরা-ক্ষুধা থেকে মুক্তি দেওয়াই মূল কথা! এটাই তখন মানুষের মত মানুষের কাজ হওয়া উচিত! এতে ধর্ম- টিঁকি- দাঁড়ি-সালু- গেরুয়া-পৈতা-পাগড়ি- কুর্তা-টুপি- ধুতি-তসবিহ আর জপমালা নিয়ে টানাহেঁছড়া করাটা নিছক আহাম্মকি- বুজরুকি- ভন্ডামি- অন্ধত্ব আর ধর্মের সুরা পানের মাতলামি ছাড়া কিছুই নয়!
#ভালো থাকুক সারা পৃথিবীর মানুষজন,
অন্ধত্ব-লজ্জা আর পরাজয়ের গ্লানি লয়ে এখনই আত্মহত্যা করুক পৃথিবীর সব ধার্মিকগণ!
#পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখি হোক!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “ধর্মের নামে মাতলামি : আগে ধর্ম জানুন ; পরে শোক..!

  1. বাহ। সুন্দর লেখা। ভাল লাগলো
    বাহ। সুন্দর লেখা। ভাল লাগলো

    ==============================================
    আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর গতকাল আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 36 = 39