অভাবের অভাব থিওরি ১


-তো, এখন কি করা হচ্ছে আপনার, পড়ালেখা নাকি চাকরী বাকরি?
–না আসলে ওইগুলা কিছুই হচ্ছে না,
-মানে কি? তাহলে কি করেন?
–টেনশন করি,
-প্লিজ মজা নেবেন না,
–সত্যি, রাতে ঘুমোলেই কি স্বপ্ন দেখবো, সকালে উঠতে পারবো কি না, টেনশন। সকালে উঠলেই কি খাবো? জামা কাপড় ধোয়া আছে কিনা? বাস পাবো কি না, টেনশন। বাসে উঠলে সীট পাবো কি না? জ্যাম থাকবে কি না? টেনশন। বাস থেকে নেমেই কি রিক্সা আগে না সিগারেট আগে? টেনশন, দুপুরে কি নিজে খাবো না কেউ খাওয়াবে? টেনশন……
-প্লিজ অফ যান, আপনার জীবন এমন ছন্নছাড়া কেন?
–কারো ছোয়া লাগে নি তো। আচ্ছা একটা কথা বলি?
-হুম বলুন,
–আপনি কি আমার টেনশনের ভাগিদার হতে চান, তাহলে আমার কিছু টেনশন আপনাকে দেয়া যেতো,

–এই মামা, আবহানী মাঠ যাবা?
-৩০ টাকা দিয়েন,
–উহু, ২০ টাকা যাবা?
-না,

বন্ধু শুভর অনেকগুলো কথা মিলে যাচ্ছে, ওর উচিত এখন বসুন্ধরা সিটিতে ভবিষ্যৎ বানী দেয়ার একটা অফিস খোলা। আইডিবির সামনে একবার সিগারেটে টান দিতে দিতেই বলছিলো, দেখবি, যেদিন অভাব শুরু হবে, সেদিন সবকিছুতেই শুধু অভাব আর অভাব। সেদিন সিগারেটেও তেমন ধোয়া হবে না, রিক্সায় ভাড়া বেশী চাইবে, সেদিন বেশী বেশী খুদাও লাগবে। সবকিছুই মিলে গেছে, তবে এখন মনে হচ্ছে রিপাকে ওই কথা না বললে ভালো হতো, বা কিছুক্ষন পর বলা যেতো। রিপা প্রায় ভালো ভালো যায়গায় যেয়ে খায় দায় সেলফি তোলে চেক ইন দেয়। হয়তো আজকেও ভালো কিছু অর্ডার করতো। খেয়ে দেয়ে তারপর কথাটা বললে ভালো হতো মনে হচ্ছে। যদিও রিপার সব সেলফিতে রিপার পেট মোটা বয়ফ্রেন্ডটাও থাকে। আচ্ছা, রিপার জন্য কি ছেলের অভাব পড়ছিলো? নাকি এইটাই ট্রু লাভ পাওয়ার? আজ পর্যন্ত কোন লেখকের নায়িকার বয়ফ্রেন্ডদের তো পেট মোটা দেখলাম না। হতে পারে লেখকরা সেকেলে হয়ে গেছে। এখন আপাতত এইগুলা না চিন্তা করলেও হবে। আবহানী মাঠ এসে গেছি। এখানের ফুটপাতের দোকানে ভাত আর পচা ঝোল খাবো। পচা ঝোল বলার কারন কিন্তু বন্ধু শুভই। ওর থিওরি মতো, এখন অভাবে আছি, এখন ঝোলও হয়তো পচাই আসবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “অভাবের অভাব থিওরি ১

  1. তাই বটে!
    তাই বটে!
    অভাব আসলে সব কিছুরই অভাব শুরু হয়।
    বন্ধু একজন একবার বলেছিল, অভাবের মাস হয় একত্রিশ দিনের! হয়তো দেখা গেল পকেটে টাকা নাই, বিড়ি ধরালেন, আগায় না লাগিয়ে লাগালেন সিগারেটের পশ্চাতে! ফেলে দিন তখন সেটা।
    প্যারা ইজ অন সর্বদা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

67 + = 76