মুহম্মদের ঐতিহাসিকতা ও ঐতিহাসিক মুহম্মদ, পর্ব-৩

কোরান অনুসারে যীসু বা ঈশা নবীর মৃত্যু হয়নি- “….ইহা নিশ্চিত যে তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই” (সুরা আল নিসা, আয়াত ১৫৭) “বরং আল্লাহ তাহাকে তাহার নিকট তুলিয়া লইয়াছেন এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” (সুরা আল নিসা, আয়াত ১৫৮) এখানে আবার আমরা দুই বিবরণের অসঙ্গতি ও বৈপরীত্যের সম্মুখীন হই। দ্বিতীয়ত, চিঠিতে ইসলামের কেন্দীয় চরিত্র মুহম্মদের কোন উল্লেখ নেই, না সেবিওস এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন। তবে কি আদি ইসলামে মুহম্মদ কেন্দ্রীয় অবস্থানে ছিলেন না; কে বলতে পারে!

অমুসলিম উৎসে ইসলাম ও মুহম্মদের উল্লেখ

টেকনিক্যাল আলোচনায় ঢোকার আগে প্রথমেই বলে নিতে চাই প্রাচীন আরবী লিপির পাঠোদ্ধারের কোন পদ্ধতিই একেবারে বিতর্কমূক্ত নয়। এটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা গবেষকদের কোন দোষ নয়। কারণ, প্রথমত- আরবী বর্নমালায় স্বরধ্বনিগুলির জন্য নির্দিষ্ট কোন বর্ণ নেই। ব্যঞ্জনবর্নগুলির উপরে নিচে নানারকম চিহ্নের সাহায্যে স্বরধ্বনিগুলির উচ্চারণ বোঝানো হয়।(আরবী বর্ণমালার প্রথম বর্ণ হল আলেফ, যা অবস্থানগতভাবে রোমান বর্ণমালার ‘a’ এর সমতুল্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সব ধরণের দীর্ঘস্বরের ব্যবহার বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়।) শুধু আরবী লিপি নয় সিরিয়াক, হিব্রু, আরামায়িক, ফিনিশিয় সমস্ত সেমিটিক ভাষাশ্রয়ী লিপিগুলিতেই এই বিশেষ প্যাটার্ন দেখা যায়। দ্বিতীয়ত, শুধু তাই নয় অনেকগুলি আরবী বর্ণই দেখতে প্রায় একই রকম যেমন উদাহরণস্বরূপ আরবী বর্নমালার পঞ্চম বর্ন ‘জিম’ [ج], ষষ্ঠ বর্ণ ‘হা’ [ ح], সপ্তম বর্ণ ‘খা’ [خ] দেখতে অনেকটা একি রকম। এদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে শুধু একটি ফুটকিতে। প্রাচিন লিপিতে অনেক সময়ই এইসমস্ত চিহ্নগুলি না থাকায় বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে পার্থক্য করা দুস্কর হয়ে পরে। কোন প্রাচীন আরবী বিবরনেই এইসব চিহ্ন পাওয়া যায় না। এমনকি প্রাচীন কোরানের যে সমস্ত পুথি পাওয়া গেছে সেখানেও এই সমস্ত চিহ্নগুলি অনুপস্থিত। এর বিরাট তাৎপর্য আমরা কোরান সংক্রান্ত আলোচনার সময় দেখব।

নিশ্চয়ই নীরস ভাষাতাত্বিক আলোচনায় হাঁফিয়ে উঠেছেন। চলেন, ইতিহাসের জটিল শূড়িপথ ধরে ইসলামের অনুসন্ধানে ফিরে যাই।তবে একটি বিষয়ে প্রথমেই পাঠকদের কাছ থেকে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে চাই তা হল এখানে সর্বক্ষেত্রেই ঐতিহাসিক বিবরণগুলির আমি মূলানুগ ভাবানুবাদ করেছি। ঐতিহাসিক গবেষকদের মতো পূর্নাঙ্গ আক্ষরিক অনুবাদ করার মতো সময় ও রিসোর্স দুটোর কোনটাই নেই আর তার প্রয়োজনও নেই। ভাষাতাত্বিক আলোচনার ক্ষেত্রে আমি রোমান হরফ ব্যবহার করব কারণ বাংলা হরফ দিয়ে অনেক সুক্ষ পার্থক্য বোঝানো সম্ভব হবে না।

অষ্টম শতাব্দীর একটি সিরিয়াক ম্যানুস্ক্রিপ্টে মুহম্মদের উল্লেখ আছে বলে মনে করা হয়েছে।
এজি ৯৪৫, ৮নং ইনডিকশন, শুক্রবার ৪ ফেব্রুয়ারী [অর্থাৎ ৬৩৪ খৃষ্টাব্দ/ ১২ হিজরী, ধূল কাদাহ মাস], নবম প্রহরে প্যালেষ্টাইনের গাজার ১২ মাইল পূর্বে রোমানদের সাথে মহম্মদের আরবদের (সিরিয়াক-tayyāyē d-Ṃhmt) একটি যুদ্ধ হইয়া গিয়াছে। রোমানরা পালিয়ে যায়, প্যাট্রিশিয়ান YRDN (সিরিয়াক BRYRDN) কে ফেলে; যাকে আরবরা হত্যা করে। প্রায় ৪০০০ প্যালেষ্টাইনি অসহায় গ্রামবাসী; ক্রিশ্চিয়ান, ইহুদী ও সামারিটান, নিহত হয়েছে। আরবরা পুরো এলাকায় ধংসযজ্ঞ চালিয়েছে

সিরিয়াক tayyāyē শব্দের আদত অর্থ যাযাবর, পরবর্তী নথিতে এই শব্দটি দ্বারা বিজয়ী আরবদের বোঝানো হয়েছে। তাই থেকে এক ঐতিহাসিক রবার্ট.জি.হলান্ড tayyāyē d-Ṃhmt –এর অনুবাদ করেছেন মুহম্মদের আরবরা। পাঠক লক্ষ করুন নামবাচক শব্দের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ব্যঞ্জনধ্বনিগুলি লিপিকৃত করা হচ্ছে। কিন্তু আসল সমস্যা হল-সিরিয়াক লিপি ‘t’ আর ‘d’ এর মধ্যে পার্থক্য করে। সেখানে মুহম্মদ শব্দটি ‘Ṃhmd’ এই আকারে পাবার কথা। যদি আমরা মেনেও নি এখানে tayyāyē d-Ṃhmt –এর সঠিক অনুবাদ ‘মুহম্মদের আরবরা’, তাহলেও এর থেকে মুহম্মদ সম্মর্কে কিছুই জানা যায় না।

৬৩৪ থেকে ৬৪০ খৃষ্টাব্দের মধ্যে লেখা ডকট্রিনা জাকবি নামে আর একটি দলিল আমাদের কিছু তথ্য দেয়-
যখন ক্যানডিদেতাস [রোমান রাজকীয় রক্ষীবাহিনীর এক সদস্য] সারাসেনীয়দের দ্বারা হত হল তখন আমি ছিলাম সিজারিয়াতে এবং তারপর নৌকায় চড়ে রওনা দিলাম সায়কামিনার উদ্দশ্যে। লোকে বলছিল ক্যানডিদেতাস মারা গেছে আর আমরা ইহুদীরা অত্যন্ত খুশী হলাম। তারা আরো বলছিল একজন ধর্মপ্রচারক আবির্ভূত হয়েছেন, তিনি আসছেন সারাসেনীয়দের সঙ্গে, এবং আগমন ঘোষনা করেছেন অভিষিক্তজনের, খৃষ্ট- যার আসার কথা ছিল
সায়কামিনায় আসার পর আমার সাথে একজন ধর্মজ্ঞানী বৃদ্ধ মানুষের দেখা হল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “ সারাসেনীয়দের মধ্যে যে নবী আবির্ভূত হয়েছেন তার বিষয়ে তুমি কিছু জানাতে পার?” সে কাতর স্বরে বলল “ সে হল ভূয়া, কারণ ধর্মপ্রচারকরা তলোয়ার হাতে আসেন না। আজকে চারদিকে যে বিশৃঙ্খলা চলছে তাতে আমি আতঙ্কিত যে, প্রথম খৃষ্ট খৃষ্টানরা যার আরাধনা করে তিনি ঈশ্বর দ্বারা প্রেরিত হয়েছিলাম, কিন্তু তার পরিবর্তে আমরা এখন এক খৃষ্টবিরোধীকে গ্রহন করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।………..
…..অতএব আমি, আব্রাহাম, খোঁজ করলাম এবং শুনলাম তাদের থেকে যারা তাকে দেখেছে যে এই তথাকথিত নবীর কোনই সত্যতা নেই, শুধুই মানুষের রক্তপাত। সে আরো বলে যে তার হাতে রয়েছে স্বর্গের চাবি, যা একেবারে অবিশ্বাস্য”

মনোজোগী পাঠকরা নিশ্চই লক্ষ্য করেছেন এই বিবরণের সমস্যা কোথায়? এই বিবরণে বর্ণিত নবী তখনও অর্থ্যাৎ ৬৩৪-৬৪০ খৃষ্টাব্দেও আরবদের মধ্যে সক্রিয়; যেখানে ইসলামী বিবরণে বর্ণিত নবী মুহম্মদ কয়েক বছর আগেই মারা গিয়েছেন। এখানে ইসলাম বা কোরানের কোন উল্লেখ নেই, এমনকি আক্রমনকারীদের মুসলিম বলেও অভিহিত করা হয়নি, বলা হয়েছে সারাসেনীয়। অনান্য বহু সমসাময়িক দলিল পাওয়া গেছে কোনটিতেই ইসলাম, মুহম্মদ ও কোরানের কোনই উল্লেখ পাওয়া যায় না। কোরানের অনুপ্রেরণা বুকে নিয়ে, নবীর আদর্শকে সামনে রেখে যে দুঃধ্বর্ষ মুসলিম বাহিনী আরবের মরুভূমি থেকে বেড়িয়ে এসে সারা মধ্যপ্রাচ্য জয় করে নেয়, সাসানীয় সাম্রাজ্য তাদের হাতে বিধ্বস্ত হয় আর বাইজানটাইন সাম্রাজ্যকে এক বিরাট অংশ হারাতে হয়- আশ্চর্যের ব্যাপার সেই কোরান আর নবী মুহম্মদেরকেই ঐতিহাসিক দলিলে খুঁজে পাওয়া যায় না। মুনিন ভাইয়েরা নিশ্চয়ই বলবেন ইহুদী-নাসারা কাফেররা তাদের নবী আর কোরানের গুরুত্ব বুঝতে পারেনি, তাই তাদের বিবরণে এর উল্লেখ পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমি এক্ষুনি দেখাব যে সমকালীন ইসলামিক উৎসেও মুহম্মদ বা কোরানের কোন নামগন্ধ নেই।

খলিফা মুয়াবিয়ার আমলে ৬৭৭ বা ৬৭৮ খৃষ্টাব্দে নির্মিত একটি বাঁধে খোদিত আছে-

এই বাঁধ ঈশ্বরের দাস মুয়াবিয়ার, (অধীনস্ত)
বিশ্বাসীজনের সেনাপতি। আবদুল্লাহ বিন সাখর নির্মান করেছেন
ঈশ্বরের আদেশানুসারে ৫৮ সনে।
আল্লা! আপনার এই দাস মুয়াবিয়াকে মার্জনা করুন
বিশ্বাসীজনের সেনাপতি, তার স্থান অনুমোদন করুন ও তাকে সাহায্য করুন এবং
বিশ্বাসীরা
তার অবস্থানে খুশী হোক, লেখেন আমর বিন হাব্বাব/জনাব”

মুয়াবিয়াকে বিশ্বাসীদের সেনাপতি বলা হয়েছে কিন্তু তার বিশ্বাস সম্পর্কে কিছুই জানা সম্ভব হয় না। একইভাবে ৬৮৮ খৃষ্টাব্দের এক লিপি যেটা মিশরের ফুসতাতে একটি সেতুর উপর পাওয়া গেছে, তাতে বলা হচ্ছে-
“এটাই সেই খিলান যা আমীর, আবদ আল-আজিজ বিন মারওয়ানের আদেশে নির্মিত হয়েছে। আল্লা! তার সর্বকর্মে আশীর্বাদ করুন, তার কর্তৃত্ব অনুমোদন করুন যেমনভাবে আপনি চান এবং তার ও তার পরিবারকে সর্বসুখী করুন। সাদ আবু উসমান নির্মান করেছেন এবং আবদ আর-রহমান লিখেছেন ৬৯ সনের সফর মাসে”

এখানেও একইভাবে না মুহম্মদ, না ইসলাম না কোরান। যেটা আমাদের সবচেয়ে বিস্মৃত করে সেটা হল ইসলামী প্রথা অনুসারে বিসমিল্লার অনুপস্থিতি। ইসলামী প্রথায় যে কোন রচনার শুরুতে বিশমিল্লাহির রাহমানীর রহিম বা (পরম করুনাময় আল্লার নাম নিয়ে শুরু করছি) লেখা হয়ে থাকে। অথচ সপ্তম শতাদ্বীর একদম শেষভাগের আগে পর্যন্ত এ সম্পর্কে কেউ কিছু জানত বলে তো মনে হয় না। পরবর্তীকালে আমরা দেখব শাহাদা বা ইসলামে বিশ্বাসের ঘোষনা আবদ আল মালিকের শাসনকালের আগে চালু হয়নি।

আরেকবার মনে করিয়ে দিচ্ছি যেসব ইসলামী উৎসগুলি থেকে ইসলামের ইতিহাস জানা যায় সেগুলী বহু পরে রচিত। সমকালীন উৎস থেকে বিষয়গুলির সত্যতা প্রতিপাদনের চেষ্টা করলেই আমরা অবাক হয়ে দেখি যে সমকালীন উৎস আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দিচ্ছে। সমকালীন কোন বিস্তারিত ইসলামীক বিবরণ না থাকায় আমাদের নির্ভর করতে হয় অমুসলিম উৎসের উপর। অমুসলিম দলিল যেখানেই মুহম্মদ, ইসলাম বা কোরানের উল্লেখ করেছে সেখানে কোন ক্ষেত্রেই প্রায় মুসলিম বিবরণের সাথে মেলে না। প্রথম যে অমুসলিম বিবরণ পাওয়া যায় যেখানে নিশ্চিতভাবে মুহম্মদের উল্লেখ আছে তা হল বিশপ সেবিওসের বিবরণ-
“তারা যাত্রা শুরু করল মরুভূমির মধ্য দিয়ে এবং চলে এল আরবে, ইসমায়েলের পুত্রদের মধ্যে; তারা তাদের সাহায্য প্রার্থনা করল, এবং তাদেরকে ব্যাখ্যা করল যে তারা বাইবেল অনুসারে তাদের [আরবদের] আত্বীয়। যদিও তারা [ইসমেলাইটরা] এই আত্বীয়তা স্বীকার করতে প্রস্তুত তবুও তারা [ইহুদীরা] কখনই জনগনকে প্রত্যয়দানে সক্ষম হল না, কারণ তাদের ধর্মসম্প্রদায় ছিল পৃথক।

এই সময় সেখানে ছিলেন মহমেত নামে এক ইসমেলাইট, একজন বণিক, তিনি নিজেকে তাদের সামনে উপস্থিত করলেন ঈশ্বরের আদেশপ্রাপ্ত, সত্যের পথচারী; এক ধর্মগুরু হিসাবে তাদের আব্রাহামের ঈশ্বরকে জানতে শেখালেন, কারণ তিনি জানতেন ও ভালভাবে মোসেসের কাহিনীর সাথে পরিচিত ছিলেন। যেহেতু স্বর্গ থেকে আদেশ এসেছে, তাই তারা সবাই সেই মানুষের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হল; একি আইনের অধীনে এবং মিথ্যা ধর্মাচরণকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ফিরে গেল জীবিত ঈশ্বরের কাছে যিনি নিজেকে আব্রাহামের কাছে প্রকাশ করেছিলেন। মহমেত তাদেরকে নিষেধ করলেন মৃত পশুর মাংস খেতে, মদ্যপান করতে, মিথ্যা কথা বলতে ও ব্যাভিচার করতে। তিনি আরো বলেন “ঈশ্বর এই ভূমি আব্রাহামকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং বংশপরম্পরায় চিরকালে জন্য; যিনি সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে চলেছেন কেননা তিনি ইসরায়েলকে ভালবাসতেন। এখন তোমরা, ইসরায়েলের পুত্ররা, ঈশ্বর তোমাদের দ্বারাই আব্রাহাম ও তার বংশধরদের দেওয়া সেই প্রতিশ্রতি পূর্ণ করবেন। এস এবং অধিকার কর সেই দেশ যা ঈশ্বর তোমাদের পিতা আব্রাহামকে দিয়েছিলেন, কেউই তোমাদের প্রতিরোধ কলতে পারবে না কারণ ঈশ্বর আছেন তোমাদের সাথে”

এর পরে আছে আরব ও ইহুদীদের মিলিত অভিযানের বিবরণ যার সাথে ইতিহাসের কোনই সম্পর্ক নেই। শুধু তাই নয় লেখক বহু স্থানের উল্লেখ করেছেন যেগুলীর উৎস হল বাইবেলের জেনেসিস। লেখক মনে হয় গোটা বিষয়টিকে পৌরাণিক চরিত্র দিতেই বেশী আগ্রহী ছিলেন বাস্তব ঘটনাবলী বর্ণনা করার চেয়ে। যদি আমরা মেনে নি এই বিবরণ বিকৃতভাবে হলেও কিছুটা ঐতিহাসিক সত্য উপস্থাপনা করে, সেক্ষেত্রে আমরা ইসলামের আদি যুগের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র পাই যা এমনকি খোদ কোরানের সাথেই সংঘাতপূর্ণ- ‘অবশ্য মুনিনদের প্রতি শত্রুতায় ইয়াহুদী আর মুশরিকদেরই তুমি সর্বাধিক উগ্র দেখিবে’ (সুরা মায়েদা, আয়াত ৮২)। মুহম্মদের নির্দেশে মদিনার ইহুদীদের উপর অত্যাচার ও বিতারনের বিশদ বর্ণনা জানেন না এমন লোক বাংলা ব্লগ দুনিয়ায় পাওয়া যাবে না। শুধু তাই নয় কোরান যেখানে ইহুদীদের সর্বাপেক্ষা বড় শত্রু বলে অভিহিত করছে , সেখানে সমকালীন খৃষ্টান নথির এই বর্ণনা পুরো ইসলামী ইতিহাসের সত্যতা সম্পর্কেই প্রশ্ন তুলে দেয়।

বিশপ সেবিওস পরে উল্লেখ করেছেন, মুয়াবিয়া, তৎকালীন সিরিয়ার শাসনকর্তা এবং পরবর্তী খলিফা, ৬৫১ খৃষ্টাব্দে বাইজানটাইন সম্রাটকে একটি চিঠি পাঠান। তাতে তিনি সম্রাটকে খৃষ্টধর্ম ত্যাগ করে আব্রাহামের ঈশ্বরকে গ্রহন করতে বলেছেন
যদি শান্তিতে বাস করতে চাও… নিজের মিথ্যা ধর্ম ত্যাগ কর যে ধর্মে তুমি ছোটো থেকে প্রতিপালিত হয়েছ। ত্যাগ কর ওই যীসুকে এবং চলে এস মহান ঈশ্বর যার আমি ইবাদত করি, আমাদের পিতা আব্রাহামের ঈশ্বরের কাছে।…… যদি না কর তবে যে যীসু, যাকে তুমি খৃষ্ট বলে ডাক, যে নিজেকেই বাঁচাতে পারেনি ইহুদীদের হাত থেকে, সে তোমাকে আমার হাত থেকে কিভাবে বাঁচাবে”

কোরান অনুসারে যীসু বা ঈশা নবীর মৃত্যু হয়নি- “….ইহা নিশ্চিত যে তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই” (সুরা আল নিসা, আয়াত ১৫৭) “বরং আল্লাহ তাহাকে তাহার নিকট তুলিয়া লইয়াছেন এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” (সুরা আল নিসা, আয়াত ১৫৮) এখানে আবার আমরা দুই বিবরণের অসঙ্গতি ও বৈপরীত্যের সম্মুখীন হই। দ্বিতীয়ত, চিঠিতে ইসলামের কেন্দীয় চরিত্র মুহম্মদের কোন উল্লেখ নেই, না সেবিওস এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন। তবে কি আদি ইসলামে মুহম্মদ কেন্দ্রীয় অবস্থানে ছিলেন না; কে বলতে পারে!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “মুহম্মদের ঐতিহাসিকতা ও ঐতিহাসিক মুহম্মদ, পর্ব-৩

  1. অপেক্ষায় ছিলাম,
    অপেক্ষায় ছিলাম,
    পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম;

    কেনো মুহাম্মদকে ঐতিহাসিক ভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না,
    তার কিছুটা কারণ ব্যাখ্যা করতে পারবো দ্রুতই!

    অামার নিজস্ব কিছু চিন্তা কাজ করে এ-বিষয়ে
    শেয়ার করার ইচ্ছা রইল।

    1. আপনার বক্তব্য জানার জন্য
      আপনার বক্তব্য জানার জন্য উৎকন্ঠিতভাবে অপেক্ষা করছি। মুহম্মদ নামে এক নেতা ছিলেন এটা ইতিহাস থেকে কতকটা জানা গেলেও তার আয়েসা নামে এক বাচ্ছা বউ ছিল কিনা? বনু কুরাইজার ইহুদীদের কচুকাটা করেছিলেন কিনা? ১৩ বার বিয়ে করেছিলেন কিনা? এইসব মোটেই জানা যায় না। আর ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে এই কথিত মুহম্মদের সঙ্গে ইসলাম ও কোরানের সম্পর্ক প্রমান করা যাবে না।

  2. লেখক কে ধন্যবাদ না দিলে
    লেখক কে ধন্যবাদ না দিলে অন্যায় হবে,ধন্যবাদ জানবেন।আপনার লেখা এই অতি গুরুত্ববহ লেখা আমাদের আলোকিত হওয়ার পথের পাথেও হয়ে থাকবে।পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 1 =