ডাঃ আইজুর বিদায় : মুক্তচিন্তার পতন!

ডাঃ আইজু। এই লোকটার নাম শুনি গত বছরের শেষের দিকে। আমার পূর্বের ফেসবুক একাউন্টের ফ্রেন্ডলিস্টেও ছিলো একসময়। কিন্তু আইজুদ্দীয় বালছালে বিরক্ত হয়ে একসময় ওনাকে আনফ্রেন্ড করে দিই। এই লোকটার আচরন আমার কাছে রহস্যময় মনে হত। সোহাগ আহমেদ, এন কবিরের পর ডাঃ আইজুর লেখাই আমার কাছে বিরক্তিকর লাগতো। শাহবাগ আন্দোলন নিয়েই বিভিন্ন সময় পক্ষে বিপক্ষে ভিন্ন ভিন্ন স্ট্যাটাস দিতেন। একবার উনি বললেন যে গনজাগরন মঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া উচিত, যা নিয়ে আমার সাথেও তর্ক হয়েছে। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মারা যাওয়ার পর উনি প্রশ্ন তুললেন, তার পিছনে এত টাকা খরচ করা কেন হল, এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনাও সইতে হলো তার। সর্বশেষ উনি প্রশ্ন তুললেন সাভারের ঘটনায় উত্তোলিত টাকা নিয়ে। এরকম অবস্থায় আমিও চাইতাম উনি লেখালেখি বন্ধ করে দিক। সেদিন যখনি শুনলান উনি অনলাইন জগত থেকে বিদায় নিয়েছেন তখনই খুশিমনে ভাবলাম, যাক, এখন থেকে আর আইজুদ্দীয় বালছাল নিয়ে তর্ক করতে হবে না। ওনার আসল নাম প্রকাশ পাওয়ার কাহিনী বর্ননাকারীর স্ট্যাটাসে কমেন্টও করি, ভুল বুঝতে পেরে পরবর্তিতে তা মুছে ফেলি। তবে ওনাকে নিয়ে এখনো রহস্য, কেউ বলছেন উনি অন্য একাউন্ট দিয়ে এখনো আছেন, কেউ বলছেন নাই। তবে ডাঃ আইজু যে নাই এটা ঠিক।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, ওনাকে নিয়ে এত তেনা পেঁচানির কি দরকার। দরকার আছে, উনি যতবড় লেখকই হোন না কেন যদি উনি একেবারে নিজ ইচ্ছাতে অনলাইন ত্যাগ করতেন তাহলে আমার কিছু আসতো যেতো না। আর যদি একেবারে আমফেসবুকারও কেউ অন্যের চাপে ফেসবুক ত্যাগ করে সেখানেই আমার কথা বলার দরকার আছে। ব্লগ, ফেসবুক হল মুক্তচিন্তার জগত। তবে তাদেরই দোষারোপ করা যেতে পারে যারা মুক্তচিন্তার নামে কাউকে হত্যা বা অন্য কোনো ধরনের হুমকি দেয়। ফারাবী আর আইজু কখনো এক হতে পারে না। তাই শুধুমাত্র মত প্রকাশের জন্য কারো পিছনে লেগে তার নাম, ঠিকানা, ছবি খুঁজে বের করে প্রকাশ করাটা মুক্তচিন্তার উপর আঘাতের সামিল। আজ আপনারা আইজুকে পছন্দ করেননা তাই আনন্দে লাফাচ্ছেন। কিন্তু সেদিনতো শুভ, রাসেলদের মুক্তির জন্য মুক্তচিন্তার পক্ষেই কথা বলেছিলেন। একটু ভুল বললাম, কিছু এলিট ব্লগার তো আজও ওদের মুক্তি চেয়ে কিছু লেখেনি। মনে রাখবেন, যে আপনি আজ ঠিকানা গোপন করে জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন, সেই আপনার কোনো মন্তব্য যদি ঐ এলিট ব্লগারদের বিপক্ষে যায় তাহলে আপনার নাম, ঠিকানা প্রকাশ করতেও ওরা দ্বিধাবোধ করবে না। সেদিন আর আপনাকে খুঁজে বের করতে জামাত শিবিরের কষ্ট করতে হবে না। তাই মুক্তচিন্তা করবেন ভালো কথা, চিন্তার বিষয়বস্তুটা যেন সবসময় এলিটদের পক্ষে যায়। তা না হলে একদিন ওদের প্রকাশ করা ঠিকানার মাধ্যমে আপনাকেও পড়তে হবে শিবিরের ব্লেডের নিচে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “ডাঃ আইজুর বিদায় : মুক্তচিন্তার পতন!

  1. ভাবনার বিষয়
    ভাবনার বিষয় :বিস্ময়: :বিস্ময়: :বিস্ময়: :প্রশ্ন: :প্রশ্ন: :প্রশ্ন: :বিস্ময়: :বিস্ময়: :বিস্ময়:

    1. সহমত। অন্যকে বাঁশ দিলে লাফাতে
      সহমত। অন্যকে বাঁশ দিলে লাফাতে নাই। ঐ একই বাঁশ আমাকেও দিতে পারে আগামীকাল। আজ যাদের বন্ধু ভাবি কাল তারা আমার দলত্যাগও করতে পারে।

  2. ওরে আইজুরে তুই কনে গেলিরে
    ওরে আইজুরে তুই কনে গেলিরে :কানতেছি: :কানতেছি: তোরে ছাড়া ফেসবুক ভালা লাগেনা’রে :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি:

    1. আইজু কোথায় গেলো তাতে আমার
      আইজু কোথায় গেলো তাতে আমার কিছু আসে যায় না। বরং উনি একেবারে নিজ ইচ্ছাতে গেলে আমি খুশিই হতাম। কিন্তু ওনাকে যাওয়ানো হলে সেটাই ব্যাপার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 32 = 36