যমুনা রেল ব্রিজ বাস্তবতা পাচ্ছে

বঙ্গবন্ধু (যমুনা) বহুমুখী ব্রিজের চাপ ও ঝুঁকি কমাতে সরকার ‘যমুনা রেল ব্রিজ নির্মাণ’-এর উদ্যোগ নিয়েছে। যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধির সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কনটেইনার পরিচালনার জন্য ব্রডগেজ কনটেইনার ট্রেন সার্ভিসও চালু করা হবে। বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু বহুমুখী ব্রিজের সমান্তরালে হবে এ ব্রিজটি। চার দশমিক আট কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রিজটি ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণ করা হবে। তাতে ব্যয় হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এতে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাপান। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১৯৯৮ সালে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু বহুমুখী ব্রিজটি চালু হওয়ার পরই ব্যাপকভাবে চাপে পড়ে। আর ট্রেন চলার কারণে অল্প সময়ের ব্যবধানে ২০০৫ সালেই ফাটল দেখা দেয়। ২০০৬ সালে সরকার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। এই কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে ফাটলগুলো দ্রুত মেরামতের সুপারিশ করে।এরপর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর বিকল্প চিন্তা করতে থাকে কীভাবে যমুনাতে আরো একটি রেল ব্রিজ নির্মাণ করা যায়। প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের মে মাসে জাপান সফরে গেলে সেই সময় প্রকল্পটির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। প্রকল্পের তাৎপর্য ও গুরুত্ব এবং বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে জাপানের সরকারি সংস্থা জাইকা ঋণ দিতে সম্মত হয়। গত ১৯ মে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রতিনিধির সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইআরডির খসড়া ঋণ চুক্তির ব্যাপারে সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে তারা সম্মতি প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী এ বছরেও জাপান সফরে আরো খোলাসা করে এসেছেন বঙ্গবন্ধু রেল ব্রিজ নির্মাণে অর্থায়নের বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু বহুমুখী ব্রিজের আদলে এ রেল ব্রিজটি নির্মাণে অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ সহায়তা হচ্ছে ৭ হাজার ৭২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, সরকারি অর্থ হচ্ছে ২ হাজার ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ব্রিজটির নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এতে গ্যাস সঞ্চালন লাইনও নির্মাণ করা হবে। রেল পথের উন্নয়নের মাধ্যমে সড়ক পথেরও যানজট কমানো যাবে। ব্যয় ও সময়ের ব্যাপারে কারো কোনো ওজর-আপত্তি দেখা যায়নি। অবশেষে প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে যমুনা নদীর ওপরে ডেডিকেটেড রেল ব্রিজটি নির্মিত হলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। নিরাপদ যাত্রীসেবা ও পণ্য পরিবহন বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও নিশ্চিত হবে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এটা খুবই প্রয়োজন। কারণ বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু ব্রিজটি দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। চাইলেও বেশি করে ট্রেন চালানো যাচ্ছেনা। তাই বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু ব্রিজের সমান্তরালে এটি ডাবল লাইনের ব্রিজ করা হচ্ছে। এতে দেশের চেহারা আরো পাল্টে যাবে। অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “যমুনা রেল ব্রিজ বাস্তবতা পাচ্ছে

  1. এ রেল ব্রিজটি নির্মিত হলে
    এ রেল ব্রিজটি নির্মিত হলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।এতে দেশের চেহারা আরো পাল্টে যাবে। অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 6 =