২০৩০ সালের আগেই হতদারিদ্র্যের সংখ্যা ৩ ভাগের নিচে নেমে আসবে

সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনের পথে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে দারিদ্র্যের হার কমানো, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় জেন্ডার সমতা আনয়ন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যু হার কমানো, এইচআইভি সংক্রমণ রোধসহ যক্ষ্মারোগ নিরাময়ে সাফল্য এসেছে। সরকারি হিসাবে ২০১১-১৫ এর মধ্যে এমডিজির সকল লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ অর্জনের জন্য যথাক্রমে প্রতিবছর ৩ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে গড়ে মাত্র ১.৬৮ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা এসেছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এমডিজির কয়েকটি খাত যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, শ্রম, জন প্রশাসন এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে এ সহায়তার মাত্র ৪৮.২৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। মূলত এমডিজি অর্জনে দেশের নিজস্ব সম্পদ সমাবেশই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। আট লক্ষ্যের সবকটিতেই ভাল করেছে বাংলাদেশ। এসব লক্ষ্য অর্জনে ৩৩ উপসূচকের মধ্যে ১৩টি পুরোপুরি অর্জিত হয়েছে। এমডিজির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য দারিদ্র্যবিমোচনের লক্ষ্যটি অর্জিত হয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ২৯ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। এছাড়া শিক্ষা, লিঙ্গ বৈষম্য, শিশুমৃত্যু, মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নতি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে রাখা, টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এসব মূল লক্ষ্যের বেশির ভাগ উপসূচকেই লক্ষ্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। অন্যান্য উপসূচকের লক্ষ্য অর্জনেও দেশ সঠিক পথে রয়েছে। এমডিজি অর্জনের এই সাফল্যের কারণে বাংলাদেশের উন্নয়নকে বিশ্বব্যাপী বিস্ময়কর উত্থান বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এক সময়ের ‘দরিদ্র দেশের মডেল’ থেকে বাংলাদেশ এখন ‘উন্নয়নের মডেল’ হয়েছে। এমডিজি অর্জনের ধারাবাহিকতায় আমাদের যে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, তাতে আশা করি ২০৩০ সালের আগেই আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে। রফতানি প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক রিজার্ভসহ অর্থনীতির অধিকাংশ সূচক এবং মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ যথেষ্ট ভাল করেছে। এই পরিস্থিতিতে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে এসডিজি অর্জন না করার কোন কারণ নেই। এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সরকার বিদ্যুত ও জ্বালানী খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে। আগামী ২ বছর পর বাংলাদেশে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি থাকবে না। পর্যাপ্ত বিদ্যুত থাকলে, দেশে শিল্পায়ন হবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এতে এসডিজির লক্ষ্য অনুযায়ী ২০৩০ সালের আগেই হতদারিদ্র্যের সংখ্যা ৩ ভাগের নিচে নেমে আসবে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রসহ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২ দেশের বহুল বিতর্কিত টিপিপি চুক্তি বাতিল করবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে নব নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি বাংলাদেশের জন্য ভাল খবর। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুবিধা পাবে। এতে আমাদের দেশের রফতানি বাণিজ্যে আশার আলো দেখছেন সংলিষ্টরা। এখন লক্ষ্য হবে ২০৩০ সাল নাগাদ হতদারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ সাপেক্ষে কর্মসূচী গ্রহণ করে অর্থায়ন, বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “২০৩০ সালের আগেই হতদারিদ্র্যের সংখ্যা ৩ ভাগের নিচে নেমে আসবে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 33 = 39