ঈশ্বরের বাজারজাতকরণ

অনেকদিন থেকেই আমি ঈশ্বর খুঁজচ্ছি। বিভিন্নভাবে বহুরূপে। সেই প্রাচীনকাল থেকে গাছ, পাথর, পাহাড়, নদী সর্বত্র দেবতা দেখে আসছি। পূর্বপুরুষেরা এইসব প্রাকৃতিক বস্তুর উপর ঈশ্বরত্ব আরোপ করেছিল। তারপর এলো সর্বগ্রাসী একেশ্বরবাদ। এক ঈশ্বর এসেই দুর্বল বহু দেবত্ববাদ বাতিল করেদিল। সেই থেকে ঈশ্বর একাই রাজত্ব করছে।

এখন খুঁজে দেখি ঈশ্বর আছে কি নেই। ঈশ্বর আছে কি নেই এটা একটা দার্শনিক সমস্যা। ইন্দ্রিয় দিয়ে আমরা বুঝতে পারি কোন কিছুর অস্তিত্ব। চোখ, ত্বক, জিহ্বা, কান, নাক দিয়ে আমরা কোনদিন ঈশ্বরকে খুঁজে পাইনা। প্রাত্যহিক জীবনে আমাদের কোনদিন ঈশ্বরের প্রয়োজন হয় না। আমরা শুধুই শুনে এসেছি পরিবার ও সমাজ থেকে। পবিত্র বই আর আসমানি কিতাবের কালো কালো অক্ষর পড়ে শিখেছি। কিন্তু ঈশ্বরের সাথে আমাদের লৌকিক কোন যোগসূত্র খুঁজে পাই না। ঈশ্বর সম্পর্কিত কোন অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। ঈশ্বরকে আমরা কোনদিন দেখিনি।

ঈশ্বর একটা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ধারনা। পৃথিবীতে এই লাভচক্রের প্রথম ধূর্ত মানুষটি পাপ নামে এক কল্পিত রোগের জন্মদিলো এবং বিশ্বাস নামে এক কল্পিত ওষুধ বাজারজাত করলো। বিশ্বাসের কেন্দ্রে রইল ঈশ্বর। দিকে দিকে প্লেগের মত ছড়িয়ে পড়ল বিশ্বাস।

অনেকে বিজ্ঞান দ্বারা ধর্ম ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করতে চান। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, বিজ্ঞানে ঈশ্বর, ধর্ম, কোন আলোচ্য বিষয় না। যারা বিজ্ঞানের আলোকে ঈশ্বরকে পুনর্বাসন করতে চান তারা আসলে পিলাস্টিকির বিজ্ঞানী। হতে পারে তারা কোন ধর্মের এজেন্ট।

তাহলে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, ঈশ্বর আসলেই নেই, এটা একটা ধারনা। সাম্রাজ্যবাদের প্রয়োজনে চারিদিকে শুধু বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ঈশ্বরের বাজারজাতকরণ চলছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ঈশ্বরের বাজারজাতকরণ

  1. ঈশ্বর বিশ্বাস আসলেই অর্থনৈতিক
    ঈশ্বর বিশ্বাস আসলেই অর্থনৈতিক ভাবে একটি লাভজনক ব্যবসা। বাংলাদেশে এখন শুরু হয়েছে মাহফিলের নামে এ ব্যবসার মুনাফা সংগ্রহের মৌসুম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =