লজ্জাহীনা নারী!! ইহা লবণহীন তরকারী..।।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমরা নিজেদের সকল লজ্জা রাখার দ্বায়িত্ব নারীজাতির কাঁধের উপর তুলে দিয়েছি।
তাই জন্মথেকেই নারী শেখে লজ্জাই তার ভূষণ।
কিন্তু এই লজ্জার সীমারেখা কতদূর?
তার সর্ব অঙ্গই লজ্জাময়। হাতের আঙুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত লজ্জা ছড়িয়ে আছে।
তার লজ্জা ভারে সে কোথায় চলতে পারেনা, কোথাও যেতে পারেনা।

একটা অতি আধুনিকা শিক্ষিতা মেয়ে যখন ফেসবুকে আসে, তখন সে দেখে উচ্চশিক্ষিত আধুনিক ছেলেটা প্রচার করছে “লজ্জাহীনা নারী লবণহীন তরকারী”।
সে স্তম্ভিত হয়ে থমকে দাঁড়ায়!!
সমীকরণ খুঁজতে থাকে।
লবন খাওয়ার বস্তু, লবণ ছাড়া কোন রান্না স্বাদ হয়না, স্বাদ ছাড়া কেউ রান্না খেতে চায় না। তাই লবন স্বাদের প্রাণ বলা চলে। লজ্জাহীনা নারীও লবণের মতো।
লজ্জাহীনা নারীর স্বাদ থাকেনা!!
এই শিক্ষিত ছেলেটা যা প্রচার করছে তার মর্মার্থে একটা নারী হয় ভোগের বস্তু। তাতে লবন ঠিক থাকবে কিনা তা নিয়ে ছেলেটা খুবই চিন্তিত। আজকাল এসব শেয়ার করা ছেলের অভাব নেই।

মেয়েটা ভাবতে থাকে, তার সমস্ত বিদ্যা, শিল্পস্বত্ত্বা, গান, নাচ, ছবি আঁকা, সুন্দর মন, ভালোবাসা, সরলতা, এগুলো সবই বৃথা। এরা তার মূল্যায়ন করেনি।
এদের সকল মূল্যায়নের আধার তার শরীর।
লজ্জা!!
তবে এই লজ্জা কোন লজ্জা?
নারীরা তো পুরুষদের মতো খালিগায়ে কখনোই ঘুরে না, তাদের পোশাক আছে, সে পোশাক দেশের সংস্কৃতির উপর নির্ভর করে। আমাদের দেশেওতো আছে, সেলোয়ার-কামিজ,শাড়ি..।। কিন্তু এখানে দেশীয় সংস্কৃতির পোষাক পরার কথা বুঝানো হয়নি। তাতে লজ্জা পুরোপুরি নিরারিত হয়না।
তার হাত থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত লজ্জা নির্ধারণ করেছে আমাদের পুরুষ সমাজ। তাই সে যে পোশাকই পরুক তাতে প্রিয় প্রাণপুরুষের চক্ষু আর শীতল হয়না।
থাকা চাই বর্ম।

রূপ থাকাটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ,
আজও আমরা দেখি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া উচ্চশিক্ষিতা মেয়েরও কালো বর্ণের কারণে সংসার ভাঙে।
আজও কালো মেয়েরা বর্ণবাদে নিষ্পেষিত হয়ে আত্মহত্যা করে মানবজাতিকে ধিক্কার জানায়।
বসুমাতার সন্তানরা সে লজ্জা কদাপি গায়ে মাখেনা….।।
.
.
.
.
হৃদয় মজুমদার
মহারাজাপুর, ঢাকা

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

43 − 39 =