কোরান তিলাওয়াতঃ বক্তব্য ও কণ্ঠস্বর!

প্রচন্ড মানুষিক চাপে আছি একটা বিষয়ের সুরাহা না করতে পেরে। বিষয়টা যদিও আজ পর্যন্ত কারো কোন প্রকার সমস্যার সৃষ্টি করেছে বলে শুনিনি, তথাপি মনের ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

আমরা সাধারণত কথা বলার সময় বিভিন্ন প্রকার অঙ্গ ভঙ্গি করি। অনেক সময় ভাষাগত ভিন্নতার কারনে আমরা মনের ভাব প্রকাশ করে থাকি শারীরিক বিভিন্ন কসরতের মাধ্যমে, যাকে আমারা বডি ল্যাংগুয়েজ বলে জানি। বডি ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে শতভাগ মনের ভাব প্রকাশ করা না গেলেও কাজ চালিয়ে নেওয়াতে বড় ধরনের কোন বিঘ্ন সৃষ্টি হয় না। ভাষা না বুঝলেও আমরা বক্তার কণ্ঠস্বরের উঁচু নিচু অনুসারে বুঝতে পারি, বক্তার ব্যবহার এখান কর্কষ বা রেগে যাচ্ছেন না শান্ত, নাকি ব্যবহারটা এখন মধুর। লিখার ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। লিখে যদিও এটা বুঝানো সম্ভব নয় তথাপি পাঠক তাঁর অভিজ্ঞতা দ্বারা বুঝে নিতে পারেন বক্তা বা লেখকের মনোভাব।

যে কথাটা বলার জন্য এতো গৌরচন্দ্রিকা সেটা বলেই ফেলি। পৃথিবীতে বর্তমানে মুসলমানের সংখ্যা বিশ্ব ধার্মীয় ঘড়ি (World Religions Clock) তথ্য মতে ১৮০ কোটি ৮৪ লাখের মত যা প্রতি সেকেন্ডে বর্ধিত হচ্ছে। এ ঘড়ি দেখাচ্ছে সব ধর্মের লোক সংখ্যার চেয়ে মুসলিম ধর্মের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে – সে অন্য বিষয়। এর মধ্যে যার কোরান তিলোয়াত করতে পারেন তারা সবাই জানেন কোরান তিলাওয়াত করতে হয় একটা বিশেষ স্বরে। লম্বা টান দিয়ে কোরান তিলাওয়াত করা হয়। পুরো কোরান তিলাওয়াতের আগাগোড়া একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কোরান তিলাওয়াতের হয়তো কিছু নির্দেশনা আছে, যার কারনে কিছু কিছু জায়গায় তিলাওয়াতকারী বেশ লম্বাল টান দেন যাতে শব্দটা বেশ সুললিতি শুনায়। একই ধাঁচের কোরান তিলাওয়াতের কারনে আমরা (বিশেষ করে আমি) বুঝতে পারি না আল্লাতালা আসলে কি বলছেন কোরানের এ আয়াতের মাধ্যমে। তিনি কি কোন উপদেশ দিচ্ছেন, স্বাভাবিক বক্তব্য রাখছে নাকি কোনা বিষয়ে কাউকে গালি দিচ্ছেন? আমরা জানি কোরানে যেমন আছে উপদেশ, ঘরোয়া কথা বার্তা, জীবন গঠনের নানা উপদেশ ঠিক তেমনি আছে যুদ্ধের কথা, যুদ্ধ প্রস্তুতির কথা। এমন কি কোরানে পার্সনাল কথা বার্তা বা হৃদয় ঘঠতি ঘটনার ও বর্নণা (হযরত আয়শা ও জয়নবের বিষয়ে কোরানের আয়াত) আছে। আর এটা থাকাটাই স্বাভাবিক। কারন কোরান সারা মানব জাহানের জন্য পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান। এসব বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই।

একটা জিনিস আমরা লক্ষ করলে প্রশ্নটা সবার মনেই জাগ্রত হবে, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘আমার সোনার বাংলা’ (আমাদের জাতীয় সঙ্গীত) বা ‘দুই বিঘা জমি’ আবৃতি করি তিখনকার কণ্ঠস্বর আর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’; কিংবা জসীম উদ্দিনের ‘কবর’ কবিতা আবৃতির সময়ে আমাদের কণ্ঠস্বরের তারতম্য যে কোন অবুঝ শিশুর পক্ষেও বুঝতে পারা সহজ। পক্ষন্তরে কোরান আবৃতি শুনে সাধারণ মানুষ কেন অর্থ না জানা কোন আলেমের পক্ষেও বলা সম্ভব নয় আবৃতি কারক কখন উপদেশ বাণী বলছেন, কখন কাউকে অভিশাপ কিংবা ধ্বংস হতে বলছেন বা কোন সময় বিভিন্ন বস্তু বা চন্দ্র সূর্য বা পাহাড় ইত্যাদির শপথ খাচ্ছেন?

কোরান তিলাওয়াতের সময় এর আয়াতের বক্তব্যের সাথে মিল রেখে যদি আবৃতিকারকের কণ্ঠস্বরের তাড়তম্য আনয়ন করা হতো তবে মানুষের পক্ষে তা বুঝা সহজ হতো, নয় কি? এতে মানুষ কোরান তিলাওয়াত শুনার এক ঘেয়েমী থেকে রক্ষা পেতো। মানুষের পক্ষে কোরান বুঝার আগ্রহ তৈরী হত, আর সহজে বোধগম্য হতো কোরান।

প্রশ্ন হচ্ছে, কেনো কোরান তিলাওয়াতে আয়াতের সাথে মিল রেখে কণ্ঠস্বরের তারতম্য না রেখে সুললিত আবৃতির প্রচলন করা হলো? এ চালিয়াতির মানে কি? সাধারণ অশিক্ষিত মানুষ যাতে কোরান সহজে না বুঝতে পারে এটা তার একটা কৌশল নয় কি?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1