মুসলমানদের অবিশ্বাস করি, তারা নির্যাতিত রোহিঙ্গা হলেও

সেবার বেশ কয়েকজনের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। কথায় কথায় কথা উঠলো, আমি মুসলমানদের কেমন চোখে দেখি। আমি এক কথায় উত্তর দিয়েছিলাম। শুধু নাম মুসলমান হবার কারণেও আমি তাদেরকে অবিশ্বাস করি। এটা আবার কেমন কথা! নাম মুসলমান হবার কারণে অবিশ্বাস! হ্যাঁ, শুধু নামের জন্যেও আমি মুসলমানদেরকে অবিশ্বাস করি। তারমানে কি এই দাঁড়ায় মুসলমানদের মত আরবী নামওয়ালা নাস্তিক কিংবা মানবতাবাদী নেই? হ্যাঁ, অবশ্যই আছে। তাদের কাছে তো নামের কোন মূল্যও নেই। আমার অবিশ্বাসটা সেসব মুসলমানদের প্রতি যারা অন্তত একখানা মুসলমান নাম থাকার জন্যও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন, মুসলমান মনে করেন। এই মুসলমান যে এক সময় জঙ্গি হয়ে উঠবে না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। মুসলমানদেরকে আমি অবিশ্বাস করি তখনও যখন তারা ডুবন্ত মানুষকে বাঁচানোর জন্য লাইফবোট নিয়ে হাজির হয়।

এই অবিশ্বাসের মানে কি এই দাঁড়ায় যে মুসলমানদেরকে মেরে ফেলতে হবে? হ্যাঁ, এটা সত্য যে আমি চাই এমন একটা বিশ্ব যেখানে ধর্মের কোন বিভেদ থাকবে না, সেটা যে কোন ধর্মেরই হোক না কেন। তবে, এটাও সত্য ধর্মীয় বিভেদ কমাতে হলে সবার আগে কমাতে হবে মুসলমান। বর্তমান সময়ে মুসলমানরা অন্য যে কোন ধর্মের চেয়ে খুব বেশি সাম্প্রদায়িক। তারা বিপন্নকে বাঁচাতে গেলেও আগে খুজে দেখে বিপন্ন মানুষটি মুসলমান কী না। তাদের প্রার্থনায় বিশ্ব-শান্তির জন্য কোন প্রার্থনা থাকে না, থাকে মুসলিম মিল্লাতের। তাই বলে, মুসলমান কমানোর অর্থ এই নয় যে, পৃথিবীর মুসলমানদেরকে ধরে ধরে হত্যা করে, খুন করে নিঃশেষ করে দিতে হবে। তাদের জ্ঞাণচক্ষু উন্মোচনের মাধ্যমে ধর্মীয় গোড়ামী থেকে মুক্তি দেয়ার মাধ্যমে এই মিশন সফল করা সম্ভব। যদিও এতে মুসলমানরাই বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে, তথাপি অসম্ভব তো নয়!

মুসলমানরা যে অতিমাত্রায় সাম্প্রদায়িক, তারা সবকিছুতেই মুসলমান খুজে তাঁর একটা বড় প্রমাণ আমরা ইদানিংকালের কয়েকটা ঘটনা থেকেই পেয়ে যাই। বাংলাদেশে অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বেড়ে গিয়েছে। এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে এ সব সন্ত্রাসী হামলায় ধর্মপ্রান মুসলমানরা জড়িত। হ্যাঁ, এগুলোর পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু, এসব ঘটনার প্রতিবাদ কতজন মুসলমান করেছেন এ পর্যন্ত? প্রতিবাদের দুএকটা মুসলমানীয় নজির থাকলে অন্তত বলা যেত, সব মুসলমানই সাম্প্রদায়িক নয়। ইসলামকে শান্তির ধর্ম, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য হলেও তো দুয়েকটা মসজিদ মাদ্রাসা থেকে প্রতিবাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করাটা যুক্তিযুক্ত ছিল না কি?

উপরন্তু, বাংলাদেশের মুসলমানরা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্যাতনের মিথ্যা ছবি অন্তর্জালে ছড়িয়ে দিয়ে দেশে আবারও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই রোহিঙ্গারা কতটুকু মুসলমান, কতটুকু রোহিঙ্গা সে বিতর্ক না করে তারা এক তরফাভাবে মুসলমানদের উপর আক্রমনের প্রতিশোধ স্পৃহা দিকে দিকে ছড়িয়ে দেবার প্রয়াস চালাচ্ছেন। হ্যাঁ, কেউ নির্যাতিত হলে মানুষ হিসেবে আপনার আমার দায়িত্ব হলো তা প্রতিহত করা, প্রতিবাদ করা। সে নির্যাতিত মুসলমান হোক, আর হিন্দু হোক কিংবা হোক কোন কূর্দি অথবা কাদিয়ানি। নির্যাতিতের পাশে দাড়ানোই মানবতার ধর্ম। কিন্তু, আমাদের বংগের মুসলমানরা, ব্যপক পরিসরে বললে গোটা বিশ্বের মুসলমানরা নির্যাতিতের পাশে তখনই দাঁড়াবে, যখন নির্যাতিত মানুষটির পরিচয়ও মুসলমান হবে।

যাই হোক, যে কথা বলার জন্য এই পোস্টের অবতারণা তা হলো, বংগে কি বার্মায় নির্যাতিত হচ্ছে মানুষ, সংখ্যালঘু মানুষ। এইসব মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাদের ধর্মীয় কিংবা জাতিগত পরিচয়কে লাইম লাইটে আনাটা খুব জরুরী কি? ব্যপারটা কি এরকম যে মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে বলে গলা ফাটালেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? নির্যাতিতের ঘা শুকিয়ে যাবে? নাকি মুসলমান নির্যাতিত হচ্ছে খবর প্রচার করলে বিশ্বমানবতা এদের পাশে দ্রুত এসে দাঁড়াবে? বিশ্ব মানবতা মুসলমান কিংবা হিন্দু দেখে পাশে দাঁড়ায় না, বিশ্ব মানবতা নির্যাতিতের পাশেই দাঁড়ায়। হোক সে মুসলমান কিংবা হিন্দু।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নাই যে বিশ্বের সকল দেশেই সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে, তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার এক বন্ধুকে একবার বলেছিলাম, “তোমাদের দেশে যে এবরিজিনাল নামে একটা সংখ্যালঘু অংশ আছে তারা কেমন আছে?” উত্তরে সে জানিয়েছিল ওরা বেশ ভাল আছে। কিন্তু যখন তাকে পালটা প্রশ্ন করলাম ওদের প্রতি যদি তোমরা সুবিচারই করতে, তোমাদের মত অধিকার প্রদান করতে তাহলে তাদের পরিচয়কে এবরিজিনাল বলছ কেন? যেখানে তোমরা তাদেরকে অরজিনাল অর্থাৎ তোমাদের থেকে আলাদা করে রেখেছ সেখানে কিভাবে জোর গলায় বলতে পারো যে ওরা তোমাদের সমান অধিকার ভোগ করে? এই প্রশ্নে বন্ধুটি আমার থতমত খেয়ে বলেছিল, “এভাবে তো ভেবে দেখিনি!” বিশ্বের যত জায়গায় যত ধরণের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আছে তাদের একটা সাধারণ পরিচয় দাঁড়িয়ে গিয়েছে যে তারা নির্যাতিত। অস্ট্রেলিয়ার এবরিজিনাল থেকে শুরু করে আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান, ইরাকের কুর্দি, বাংলাদেশের পাহাড়ি নানান সম্প্রদায়, সমতলের সাঁওতাল ও হিন্দু সকল সংখ্যালঘুরাই নির্যাতিত।

সকল নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের পাশে রোহিঙ্গাও একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং স্বাভাবিকভাবেই এরা আট দশটা সংখ্যালঘুর মত নির্যাতিত হচ্ছে। তাহলে কি রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো যাবে না? হ্যাঁ, মানবতাবোধ থাকলে অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়ানো আপনার আমার কর্তব্য। তাই বলে নিজ দেশে থাকা সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দু বৌদ্ধদের উপর আক্রমণ করে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো? এটা কি ধরণের সহমর্মিতা ভাই? বাদ দেন, আপনি আক্রমণ তত্বে বিশ্বাসী না, তবে আপনি সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে চান। তো আপনার দেশেও তো সংখ্যালঘু হিন্দুরা, সাঁওতালরা আক্রান্ত হয়েছিল, হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই পোস্ট লিখতে লিখতে পড়লাম নড়াইলে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এই যে ভাই মানবতাবাদি, রোহিঙ্গা তো পরের দেশ, আগে নিজ দেশে তাকান।

এর মানে আবার যদি কেউ করে ফেলে যে আমি রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনকে সমর্থন করছি, তাহলে তো আরেক মুসকিল। শুধু বলতে চাচ্ছি আগে নিজের দেশের নির্যাতিত মানুষের পাশে দাড়ান। এ কথা কী অস্বীকার করা যায়, যতটুকু প্রতিবাদ তনু আর মিতুর বেলায় হয়েছিল ততটুকু প্রতিবাদ পূজার বেলায় হয়নি। এখন রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমণের জন্য বাঙলায় যে পরিমান ভয়েস দেখা যাচ্ছে সে পরিমান প্রতিবাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেলায় হয়নি, ততটুকু প্রতিবাদ সাঁওতালদের জন্য হচ্ছে না। নিজেদের সীমানায় অত্যাচারিত মানুষদের দিব্যি ভূলে গিয়ে সীমান্ত খুলে দেয়ার দাবী জানিয়ে বেশ মানবতাবাদী সেজে যাচ্ছেন! রোহিঙ্গারা মুসলমান বলে? ভূলে যাবেন না, বিশ্ব জুড়ে মুসলমান এখন একটি আতংকের নাম। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাদের মুসলমান পরিচয়কে হাইলাইট করে বরং তাদের অবস্থা আরও প্রতিকূল করে তুলছেন, ওরা হারাচ্ছে অন্তর্জাতিক সমর্থন। আর একথাও তো অস্বীকার করা উপায় নেই যে ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গারা এদেশে প্রবেশের পর থেকে ওরা একটার পর একটা অপরাধের সাথে জড়িয়েই আছে। সবচেয়ে আতংকজনক জঙ্গিবাদের সাথেও এরা জড়িত। ভেবে দেখুন, আপনি বর্ডার খুলে দেবার দাবী জানিয়ে জঙ্গি আমদানী করার উদ্যোগ নিচ্ছেন না তো! কারণ মুসলমান মাত্রই তো জঙ্গিবাদের বীজটা ধারনকারী ঈমানদার এক ফল। হ্যাঁ, আমি মুসলমানদের অবিশ্বাস করি তারা নির্যাতিত রোহিঙ্গা হলেও।

তাহলে, রোহিঙ্গাদের কী হবে! ওরা যাবে কোথায়! ওদের যাবারই দরকার কী ভাই? রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য সুচির উপর কি চাপ সৃষ্টি করা যায় না? সুচিকে শায়েস্তা করে রোহিঙ্গাদেরকে অত্যাচারের হাত থেকে বাচার উপায় বের করা যায় না? এর জন্য বর্ডার খুলে দেবার প্রয়োজন কী? না কি হেফাজতে ইসলাম দিয়ে পোষায় না, সরাসরি আইএস দরকার?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “মুসলমানদের অবিশ্বাস করি, তারা নির্যাতিত রোহিঙ্গা হলেও

  1. আপনি সীমান্ত উন্মুক্ত কিংবা
    আপনি সীমান্ত উন্মুক্ত কিংবা আশ্রয় দেবার পক্ষে। এজন্য আলাদা মন্তব্য লিখতে চাইছি না কিছুদিন আগের নিজের একটা পোস্টের থেকেই তুলে দেইঃ

    যাইহোক, প্রশ্ন এখন রোহিংগাদের এদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেয়া উচিত নাকি অনুচিত সেটা। আমার মতে উচিত। কারণ, তাদের উপর অত্যাচারের মাত্রা এমন পর্যায়ে গেছে যে এখন আপনি মানুষ হলে আদের প্রতি সহানুভূতি দেখাতে বাধ্য। রোহিংগারা আমাদের মধ্যে মিশে গেলে কিছু অপরাধ বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই। তবে একটা জাতির সবার অপরাধী হওয়া সম্ভব নয়। ওরা অশিক্ষিত, নির্যাতিত মানুষ। ওরা নিজেদের অধিকারের কথাও বলতে পারে না, এমন কোন শিক্ষিত যোগ্য নেতা নেই যিনি তাদের সমস্যার কথা নিয়ে কথা বলতে পারবেন। সন্সদে জায়গা নেই, দেশে চাকরী নেই, উচ্চশিক্ষার সুযোগ নেই। ওরা পরবর্তী প্রজন্মকে আলোকিত করবে কি দিয়ে? শিক্ষার অভাবে মুল্যবোধ গড়ে উঠছে না ওদের শিশুদের। এর সুযোগ ধর্মীয় উগ্রপন্থীরাও নিচ্ছে। রহিংগারাও একসময় বার্মিজদের উপর অত্যাচার করেছে, তার দোহাই দিয়ে এখনকার বার্মিজদের অত্যাচারকে যুক্তিসঙ্গত বলা যায় না।
    যারা রোহিংগাদের এদেশে মানতে চাইছেন না, তাদের মধ্যে অনেকের যুক্তি বাংলাদেশ তো নিজেদের দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতেই ব্যর্থ্য হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের দায় আছে অবশ্যই, কিন্তু আচরণ করে মানুষেরা। রাষ্ট্র একটা খারাপ কাজের প্রতিকার করতে পারেনি দেখে একটা ভালো কাজ করতে পারবে না এমন যুক্তি হাস্যকর। রাষ্ট্র এবং মানুষের করা উচিত সে কাজটাই, যা সবচেয়ে মানবিক। আমাদের সামনে এখন পথ দুটিঃ হয় আমরা নিজেদের কিছু ক্ষতির আশংকা করেও তাদের আশ্রয় দেব অথবা নিশ্চিত মৃত্যু কিংবা নির্যাতনের মুখে তাদের আবার ঠেলে দেব।
    এখন আপনার মানবিক বোধ কি বলে সেটা আপনার ব্যাপার। তবে এটাও ভেবে দেখবেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনার পূর্ব পুরুষদেরই কেউ হয়তো ভারতীয় সীমান্তে গিয়ে ভীড় করেছে জীবন বাঁচাতে, পেছনে পাকিস্তানী ঘাতকেরা। সামনে অস্ত্র তাক করে পাহারায় ভারতীর সেনারা যারা কোনক্রমেই নিজ দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটতে দিতে রাজী নয়। আপনার অনুভূতি কেমন হতো? ঠিক এমনটাই হয়তো এই রোহিংগাদের, যারা দৈহিক গড়নে মানুষ এবং তাদেরও রক্ত নিশ্চিতভাবেই লাল। হতে পারে তাদের ভেতরে অপরাধপ্রবণ মানুষের সংখ্যাও অনেক, তবে নিস্পাপ মানুষের সংখ্যাও কম নয়। তাদের কেউ যদি আমাদের দূরে ঠেলে দেবার কারণে মারা যায়, তবে এ দায় কিছুটা হলেও আমাদের। আমরা কিভাবে এত এত মানব সন্তানকে মৃত্যুর দিকে আবার ঠেলে দেয়াকে যৌক্তিক মনে করতে পারি? আমিতো মনে করি পাকিস্তানের কোন নিরীহ মানুষও যদি আমাদের দেশে আশ্রয় চাইতো, তাহলে তাদের জন্যও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। একটা মানবশিশু যখন জন্ম নেয়, তখন তার মানবিক বোধ, আচার আচরণ, মুল্যবোধ, বিশ্বাসের অনেককিছুই গড়ে উঠে পরিবার, সমাজ থেকে। একটা রোহিংগা, পাকিস্তানী কিংবা আফ্রিকান কালো শিশুকেও জন্মের পর বাঙ্গালী পরিবারের কাছে দিয়ে দেয়া হলে শিশুটা বেড়ে উঠবে বাঙ্গালী মনন নিয়ে। আমার সত্যিই মনে হয় সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই। যদিও একটা মানুষই হয়ে উঠতে পারে আরেকটা মানুষের দূর্ভোগের কারণ, তারপরও।

  2. আপনার সাথে আমি পুরোপুরিই একমত
    আপনার সাথে আমি পুরোপুরিই একমত।
    আমার মনে হয় বাঙলাদেশে রোহিঙ্গাদের কু প্রভাব সম্পর্কে আপনি ভালোভাবেই জানেন, নয়তো আপনিও বর্ডার খোলার পক্ষপাতিত্ব করতেন নিশ্চিত।

    যেকোন দেশেই সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হবে এটা এখন একপ্রকার রীতি হয়ে গেছে। হোক সে মুসলিম, হিন্দু,বৌদ্ধ বা অন্য যে কেউ।

    মুসলিমদের আন্দোলন কিংবা সমাবেশের যে কথাটা বলেছেন এটার সাথে কোনরকমেই একমত হতে পারছি না। কেননা, বিশ্ব মানবতা সার্বজনীন নয়। এটা তেলা মাথায় তেল দেওয়ার মতই অবস্থা। মুসলিমদের পক্ষে তো নাইই সাথে বিপক্ষে। লক্ষ্য করুন, প্যারিস হামলার পর বিশ্বমানবতার চ্যতনাদন্ড যেভাবে চ্যত করে খাড়াই গেছিলো মনে পড়লে এখনও গর্ববোধ হয়এই ভেবে যে, আর যাইহোক জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে বিশ্ব একতাবদ্ধ।

    কিন্তু মানবতার প্রদীপ শিখা যে মুসলমানদের ক্ষেত্রে জ্বলবে না সেঠা আশা করি নি। মায়ানমারের এতবড় সমস্যায় আজ পর্যন্তও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নিতে কিংবা নেওয়ার কোন উদ্যোগ নিতে। সুতরাং এটাই বুঝতে পারলাম যে, মুসলমানের জন্য মানবতা বলতে কিছুই নেই। আর নাসির নগরের ঘটনা সম্পর্কে দেখছি আপনার ভুল ধারণা আছে, আসলে দোষ আপনার না। দোষ আমাদের হলুদ মিডিয়া সম্প্রদায়ের। তেনাদের চোখে মুসলমানদের বিপরীত প্রতিক্রিয়া চোখে পড়ে না। শুধু কোথায় বসে বোম বানাচ্ছে, কোথায় জামাত শিবির গোপন বৈঠক চালাচ্ছে এটাই চোখে পড়ে। কিছুই করার নাই।

    রোহিঙ্গাদের প্রবেশ সমর্থন না করায় ধন্যবাদ রইল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 1