গ্রামে গ্রামে বইছে নবান্নের আনন্দ

বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। দেশের উন্নতির জন্য প্রয়োজন কৃষির উন্নতি। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজন দেশের কৃষকদের সঠিক মূল্যমান নিশ্চিত করা।তাই সরকার কৃষকদের সঠিক মূল্যমান নিশ্চিত করতে একটি সুজলা, সুফলা বাংলাদেশ গড়তে দেশের কৃষকদের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে সবুজ মাঠ এখন পাকা ধানে ভরা। আমন ধানের সোঁদা গন্ধ গ্রামবাংলাজুড়ে। পাকা ধানের ম-ম গন্ধে মাতোয়ারা কৃষক। সারাদেশে চলছে আমন কাটার ভরা মৌসুম। কৃষকের ঘরে আনন্দের বন্যা। তাদের আঙিনায় এখন সোনারঙা ধানের ছড়াছড়ি। আশানুরূপ ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। সরকারের তদারকিতে হাটে ধানের দামও মিলছে ভালো। তাই উৎসাহ আর উদ্দীপনায় চলছে কৃষকের কাস্তে। ধান কাটা, মাড়াই, বাছাই আর বিক্রি নিয়ে দারুণ ব্যস্ত কৃষক। দম ফেলানোর ফুরসত নেই তাদের। একদিকে ধান কাটা হচ্ছে, অপরদিকে সেই ধান মাড়াই করা হচ্ছে। রাস্তায় ধান মাড়াই ও শুকানো হচ্ছে। বাজারে নতুন ধান উঠতে শুরু করায় চালের বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। ভেজা ধান আটশ’ থেকে ৯২০ টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে। গ্রামে গ্রামে নবান্নের আনন্দ বইছে। কৃষিভিত্তিক শ্রমের বাজারেও চাঙ্গাভাব। আমন ধানকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাঙ্গাভাব সৃষ্টি হয়েছে। দেশে উৎপাদিত ধানের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে আমন থেকে। বোরো থেকে আসে প্রায় ৬০ শতাংশ। ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, বগুড়া, রাজশাহীর গ্রামাঞ্চলে গুটি স্বর্ণা ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৬০ টাকায়। গত মৌসুমে প্রতি মণ গুটি স্বর্ণা বিক্রি হয় ৪৮০ থেকে ৬৫০ টাকায়। চিকন চালের ধান বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯২০ টাকায়। ভালো দাম থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। এবার রোপা আমন চাষের মৌসুমটা খুবই অনুকূলে ছিল। কিছু দিন পরপর পরিমাণ মতো বৃষ্টি হয়েছে। তাই সেচের প্রয়োজন হয়নি। আকাশ মেঘলা ছিল না বলে রোগবালাই কম হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২২ মণ হারে ধান হয়েছে। এভাবে দিনে দিনে সফলতার দিকে যাচ্ছে দেশ, হচ্ছে কৃষিতে স্বনির্ভর।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “গ্রামে গ্রামে বইছে নবান্নের আনন্দ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =