আমাদের বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে আমাদের যৌনকর্মীরা পর্যন্ত গ্রাজুয়েটঃ ফিদেল কাস্ত্রো

“আমাদের বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে আমাদের যৌনকর্মীরা পর্যন্ত গ্রাজুয়েট।”

ফিদেল কাস্ত্রোর উক্তি এটা এবং এর জন্যও তিনি গর্ব করতেই পারেন। বিশ্বজুড়ে ব্যর্থ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাঝে কিউবাই একমাত্র ব্যতিক্রম যেখানে তাত্ত্বিকভাবে সাম্য নয়, বাস্তবিকভাবেই আছে। পাকাপাকি যারা ক্ষমতায় থাকেন তাদের বিশ্ব একনায়ক হিসেবেই বেশি চেনে, সেই অর্থে কাস্ত্রোও হয়তো সমাজতান্ত্রিক একনায়ক, তবে পার্থক্য হচ্ছে যে তিনি সফল এবং জনপ্রিয়।

উনি তারদেশে শিক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরী করেছেন যার জন্য যেকোনো উন্নত দেশও ঈর্ষা করতে পারে। তার দেশের প্রতিটি মানুষই নুন্যতম যোগ্যতাসম্পন্ন, কেবল মজুরের কাজ করে খেতে হবে এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর।

“আমাদের বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে আমাদের যৌনকর্মীরা পর্যন্ত গ্রাজুয়েট।”

ফিদেল কাস্ত্রোর উক্তি এটা এবং এর জন্যও তিনি গর্ব করতেই পারেন। বিশ্বজুড়ে ব্যর্থ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাঝে কিউবাই একমাত্র ব্যতিক্রম যেখানে তাত্ত্বিকভাবে সাম্য নয়, বাস্তবিকভাবেই আছে। পাকাপাকি যারা ক্ষমতায় থাকেন তাদের বিশ্ব একনায়ক হিসেবেই বেশি চেনে, সেই অর্থে কাস্ত্রোও হয়তো সমাজতান্ত্রিক একনায়ক, তবে পার্থক্য হচ্ছে যে তিনি সফল এবং জনপ্রিয়।

উনি নিজদেশে শিক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরী করেছেন যার জন্য যেকোনো উন্নত দেশও ঈর্ষা করতে পারে। তার দেশের প্রতিটি মানুষই নুন্যতম যোগ্যতাসম্পন্ন, কেবল মজুরের কাজ করে খেতে হবে এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর।

হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সফল, তার সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা সফল। নানা অভিযোগের পরেও তাকে সফল বলতেই হবে কারণ তিনি পিপড়া হয়ে হাতীর পাড়া সামলেছেন। ধরে নিন আমেরিকা কিউবার উপর সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করেনি, তাহলে তাদের অর্থনীতি এখন কোথায় থাকতো ভেবে নিন। সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার সহযোগিতা হয়তো পেয়েছে, সেটা অবরোধের সামগ্রিক ক্ষতির মাত্রা কিছুটা কমিয়েছে মাত্র। উনি ছিলেন সেই মহান নেতা যিনি সময়ের স্রোতের বিরুদ্ধে একাই দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। এমন মানুষ শতাব্দিতে খুব কমই আসেন। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে ক্ষুদ্র জনসংখ্যার দেশ হয়েও বিশ্বব্যাপী তার দর্শন এবং আদর্শের প্রভাব।

১৯৫৩ সালের ২৬শে জুলাই তরুণ ক্ষ্যাপাটে এই আইনপ্রণেতা অল্পকিছু সশস্ত্র সহচর নিয়ে সান্টীয়াগোর মনক্যাডা ব্যারাকের দখল নেবার চেষ্টা করেন। বেশিরভাগ গেরিলাই মারা যান, কাস্ত্রোকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। সেইসময়ে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে জাদুকরী বক্তব্য দেন। বারেবারে তিনি নানা রেফারেন্স টানেন, বালজাক এবং রুশোর নানা কোটেশন ব্যবহার করেন এবং শেষ করেন এই লাইন দিয়ে,

“Condemn me. It does not matter. History will absolve me.”

Full Speech: History will absolve me.

তিনি যে সঠিক ছিলেন আজকের দিনটাও তার সাক্ষী হয়ে রইবে, তথাকথিত মানবতাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি আজকের দিনেও গণতান্ত্রিক আদর্শের যেকোনো নেতার চেয়ে বিশ্বব্যাপী বেশি জনপ্রিয়।

১৯৫৫ সালে সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পাবার পর তিনি দ্বীপরাষ্ট্রটি ছেড়ে যান এবং মেক্সিকোতে বিপ্লবের পরিকল্পণা করেন। ১৯৫৬ সালে গ্র্যানমা নামের একটি ছোট সামুদ্রিক জলযানে করে তিনি এবং চে গুয়েভারা সহ ৮২ জন মেক্সিকো থেকে অনেন্তে প্রদেশের অবতরণ করেন। মাত্র ১২ জন সিয়েরা মায়েস্ত্রায় পৌছাতে সক্ষম হন এবং গেরিলাযুদ্ধ্বের সূচনা করেন। বাতিস্তা সরকারকে উৎখাতের পর তিনি ১৯৫৯ সালে হন কিউবার প্রধানমন্ত্রী। এরপর থেকে তাকে হত্যা করতে বারবার চেষ্টা চালায় সিআইএ। একবার দুবার নয়, ৬৩৮ বারের কথা জানা যায়। সর্বগ্রাসী সক্ষমতার আমেরিকা এবং সিআইএর কাছে এই ফিডেল কাস্ত্রো এক বড় রকমের ব্যর্থতার নাম। এ ব্যাপারে উনি নিজেও কৌতুক করে বলেছেন,

“যুক্তরাষ্ট্রই আমাকে কিংবদন্তি বানিয়েছে।”

আগামীর ইতিহাস হয়তো আরো সঠিকভাবে বলবে তিনি কেমন ছিলেন, কতটা ছিল তাঁর প্রভাব। তবে ল্যাতিন আমেরিকার অধিকাংশ মানুষের মনে ইতিমধ্যেই তার অবস্থান সাইমন বলিভার, স্যান মার্টিন, সুক্রে কিংবা জোসে মার্তির থেকে উচ্চস্থানে। পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষিত, শোষিত মানুষের কাছেও তিনি তাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “আমাদের বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে আমাদের যৌনকর্মীরা পর্যন্ত গ্রাজুয়েটঃ ফিদেল কাস্ত্রো

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 + = 23