মুসলমানদের মানবতা প্রদর্শিত হয় প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে

পৃথিবীর যে প্রান্তেই একটি মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তার জন্য পৃথিবীর সকল প্রান্ত খুলে দেয়া হোক। কাঁটাতার দিয়ে বর্ডার বানিয়ে মানুষের মাঝে মানুষের যে পার্থক্য সৃষ্টি, দেশের সাথে দেশের শত্রুতা এসব বন্ধ করা হোক।
/ALTERNATES/w640/21_Hefajat-E+Islam_AMO_251116_0004.jpg” width=”512″ />

এই পৃথিবী মানুষের জন্য। প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে সে যেখানে চায়, সেখানে বসবাস করার। কোন মানুষ যদি নিজ রাষ্ট্রে নিরাপদবোধ না করে তার অধিকার আছে অন্য রাষ্ট্রে সাহায্যপ্রার্থনা করার। রাষ্ট্র খারাপ হতে পারে, কিন্তু দেশ কখনো খারাপ নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করলে সর্বপ্রথম সে বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া জরুরি তা হচ্ছে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসা। এটা জরুরী নয় যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কোন ধর্মাবলম্বী! তাদের সমস্যাটি জাতিগত নাকি ধর্মীয়! একটি রাষ্ট্রকে ব্যর্থ করার ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মৌলবাদ দুটোই একই ভূমিকা পালন করে থাকে।

পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে রোহিঙ্গারা বাঙলাদেশে আশ্রয়ের জন্য মনস্থির করবে এটা খুবই স্বাভাবিক। তেমনই দূরবর্তী দেশেরও কর্তব্য এইসব নিরাপত্তাহীন মানুষদের আগলে নেয়া। মুসলমানদের অনুভূতি ব্যাপক চাঞ্চল্যকর। তাদের মানবতা শুধু মুসলমানদের জন্য। তাও তাদের মানবতা প্রদর্শিত হয় প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, মুসলমান প্রধান দেশগুলো বরাবরের মতই নিশ্চুপ ও সাহায্য দানে অনীহা।

বিশ্ব মিডিয়ায় রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন আরও বেশি প্রাধান্য পেতো যদি মুসলমানেরা প্রোপাগান্ডা না ছড়াতো। এক্ষেত্রে বাঙলাদেশের মুসলমানেরাই রোহিঙ্গাদের বিপদের কারণ হয়েছে। মানবতার পরিবর্তে মুসলিমপ্রীতি প্রকাশ করতে গিয়ে তারা মানুষের অনুভূতির সাথে প্রতারণা করেছে। মুসলমানেরা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন সময়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের প্রাণহানির ছবি সংযোজিত করে প্রকাশ করায় বিশ্বের অনেক মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে মিয়ানমারে নির্যাতনের ঘটনা সম্পূর্ণ সঠিক নয়।

প্রতিটি নিরাপত্তাহীন মানুষের জন্য বর্ডার উন্মুক্ত রাখা হোক। একজন ভিন্ন দেশের মুসলমান নিজ রাষ্ট্রে নিরাপত্তাহীন বোধ করে যেমন বাঙলাদেশে প্রবেশের অধিকার রাখে, তেমনই একজন ইহুদি নির্যাতনের শিকার হলে তিনিও বাঙলাদেশে আশ্রয়ের জন্য প্রার্থনা চাইতে পারে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে ইহুদিদের জন্য তখন মুসলমানদের মানবতা জেগে উঠবে না। ঠিক একইভাবে, মুসলমানদের দ্বারা একজন নাস্তিক নির্যাতনের শিকার হলে তিনিও ভিন্ন দেশে আশ্রয়ের জন্য যেতে পারেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মুসলমানদের মানবতা প্রদর্শিত হয় প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে

  1. প্রতিটি নিরাপত্তাহীন মানুষের
    প্রতিটি নিরাপত্তাহীন মানুষের জন্য বর্ডার উন্মুক্ত রাখা হোক

    খুব অবাক লাগল।

    আপনার যদি খেয়ে পরে বাচেঁ তবেই আপনি অন্যের চিন্তা করতে পারবেন। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা আমার চাইতে আপনি নিশ্চিত ভাবেই বেশি যানেন, দেশের বেকার সমস্যা অর্থনীতির বাইরে নয়। আর বেকার সমস্যা আমাদের দেশের কি রকম প্রভাব বিস্তার করে আছে তা নতুন করে বলার কিছুই নেই।

    যেখানে আমি নিজেই খেতে পারি না সেখানে অন্যের চিন্তা করার কোন প্রয়োজন আমি বোধ করছি না। বলতে পারেন, এত অমানবিক কিভাবে হতে পারেন?
    উত্তর হল- আমি খেয়ে বাঁচলে মানবতার চিন্তা করতে যাব। কেননা, দুনিয়াতে না খেয়ে মরে যাওয়ার জন্য কেউ আসে নি।

    জানি না আপনি বাঙলাদেশে রোহিঙ্গা অবস্থান সম্পর্কে যানেন কিনা। তবে আমি এটা ১০০% নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি যে, আপনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অবস্থান সম্পর্কে জানলে ভুলেও বর্ডার খোলার কথা বলতেন না।

    কক্সবাজারে এরা ইবোলা ভাইরাসের মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সমাজে এদের কি ধরণের কু প্রভাব রয়েছে সেটা আপনার চিন্তার বাইরে। আমি নিজেই এর প্রত্যক্ষদর্শী। এমন কোন খারাপ কাজ নেই যা এরা করে না। এদের ভাষা চট্টগ্রামের ভাষার সাথে অনেকাংশে মিল হওয়াতে বোঝাই যায় না কে রোহিঙ্গা কে চট্টগ্রামের। একমাত্র স্থানীয় মানুষরাই এদের পার্থক্য তৈরি করতে সক্ষম।

    এছাড়া কুতুবদিয়া, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাশখালী, বান্দরবন সহ আরও অনেক জায়গায় এদের প্রভাব বিদ্যমান। এদের কু কর্মের মাশুল স্থানীয়দের বেশ ভালোভাবেই দিতে হয়।
    তাই আমি কখনোই বর্ডার খোলার পক্ষে নই।

    আরেকটা কথা হল, মাওলানাদের আন্দোলনের যে কথাটা তুলে ধরেছেন সেটা আসলেই ১০০% সত্য। এটা রোহিঙ্গাদের জন্য সুফলের চাইতে কুফলই বেশি বয়ে আনবে। কারণ, মাথায় টুপি থাকলেই মৌলবাদী, এরকম একটা ধারণা সবারই। বিশেষ করে আমাদের হলুদ মিডিয়া সম্প্রদায় এটাকে স্পটলাইট হিসেবে ব্যবহার করে উন্নতির চরম শিকড়ে উঠতে চায়। অবশ্য বেশ ভালো ফলও পায়।
    আর বিশ্বের দরবারে তো সব মানবতার জোয়ার তো সংখ্যাগরিষ্ঠদের জন্যই। দু একজন রোহিঙ্গা মরলে তাদের তেমন কিছু আসে যায় না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 6