মুহম্মদের ঐতিহাসিকতা ও ঐতিহাসিক মু্হম্মদ, পর্ব-৪

ইসলামী বিবরণের ঐতিহাসিকতা সন্দেহজনক হলেও, ইসলামের সাথে যুক্ত একটি বিষয় রয়েছে ইতিহাসে যার অস্তিত্ত সন্দেহাতীত। সেটা হল হিজরী সন। ৬২২ খৃষ্টাব্দে এই সনের সূচনা হয়, একে মুহম্মদের কথিত হিজরতের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। ৬২২ সালের কি বিশেষ কোন তাৎপর্য রয়েছে? এই বিষয়টি নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরেই ভাবছি। ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে যা পেলাম তা যথেষ্টই কৌতুহল সৃষ্টি করে। আসলে ইসলামের উত্থানের কারণ ও তাৎর্য বুঝতে গিয়ে ঐতিহাসিকরা সবসময়েই ধর্মীয় দিকের উপর জোর দিয়েছেন, সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অবহেলা করেছেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাইজানটাইন ও সাসানীয় সাম্রাজ্য পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ চালিয়ে উভয়েই দুর্বল হয়ে পরে। ফলস্বরুপ, তার ঠিক পরেই মুসলিম আগ্রাসনকে আর তারা প্রতিরোধ করতে পারেনি।

ইতিহাসে ইসলামের অঙ্কুর ও ইসলামী ইতিহাসের সমস্যা

ইসলামী বিবরণের ঐতিহাসিকতা সন্দেহজনক হলেও, ইসলামের সাথে যুক্ত একটি বিষয় রয়েছে ইতিহাসে যার অস্তিত্ত সন্দেহাতীত। সেটা হল হিজরী সন। ৬২২ খৃষ্টাব্দে এই সনের সূচনা হয়, একে মুহম্মদের কথিত হিজরতের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। ৬২২ সালের কি বিশেষ কোন তাৎপর্য রয়েছে? এই বিষয়টি নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরেই ভাবছি। ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে যা পেলাম তা যথেষ্টই কৌতুহল সৃষ্টি করে। আসলে ইসলামের উত্থানের কারণ ও তাৎর্য বুঝতে গিয়ে ঐতিহাসিকরা সবসময়েই ধর্মীয় দিকের উপর জোর দিয়েছেন, সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অবহেলা করেছেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাইজানটাইন ও সাসানীয় সাম্রাজ্য পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ চালিয়ে উভয়েই দুর্বল হয়ে পরে। ফলস্বরুপ, তার ঠিক পরেই মুসলিম আগ্রাসনকে আর তারা প্রতিরোধ করতে পারেনি। অধিকাংশ আধুনিক ঐতিহাসিক বিষয়টিকে ঠিক এইভাবে দেখেছেন। কিন্তু আমরা এরকম বায়বীয় বর্ননায় সন্তুষ্ট থাকব না। প্রকৃতঅর্থেই ওইসময় কি ঘটছিল ভালভাবে খতিয়ে দেখব। আমি ঐতিহাসিক ঘটনা যেমনভাবে ঘটে ছিল বা যেমনভাবে ঘটে থাকা সম্ভব ছিল ঠিক তেমনভাবেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।এতে কোন কোন পাঠকের কাছে এই পর্বটি একটু অগোছালো মনে হতে পারে।

সাত শতাব্দী ধরে রোমান ও পারসিকদের মধ্যে যুদ্ধ চললেও তা চরম সীমায় পৌঁছোয় সপ্তম শতাব্দীর প্রথম দিকে (বাইজানটাইন-সাসানীয় যুদ্ধ ৬০২-৬২৮)। এই যুদ্ধের প্রথম দিকে সাসানীয় সম্রাট দ্বিতীয় খোসরৌ প্রচুর সাফল্য পেলেও যুদ্ধের শেষ হয় তার চরম পরাজয়ে। ৬০৯ খৃষ্টাব্দে সাসানীয়রা আর্মেনিয়া ও উত্তর মেসোপটেমিয়া বিধ্বস্ত করে গুরুত্বপূর্ণ রোমান নগরী এদেসা দখল করে নেয়। ৬১০ খৃস্টাব্দের মধ্যে পুরো আর্মেনিয়া তাদের হাতে চলে আসে। ৬১৩ খৃষ্টাব্দে দামাস্কাস, আপামিয়া ও এমেসা দখল করে সাসানীয় বাহিনী জেরুসালেমে ঢুকে ধংসযজ্ঞ চালায়। জানা যায় যে এই যুদ্ধে ইহুদীরা সাসানীয় বাহিনীকে সাহায্য করছিল। ৬১৫ তে তারা আনাতোলিয়ার রাজধানী আঙ্কাইরায় পৌছে যায়। ৬২১ সালে তারা মিশর দখল করে নেয়। ৬২২-২৩ খৃস্টাব্দের মধ্যে পূর্ব এজিয়ান সাগরের দ্বীপগুলি তাদের হস্তগত হয়। ইতিমধ্যে খোসরৌর আহ্বানে সারা দিয়ে অৱার ও স্লাভরা উত্তর দিক থেকে বাইজানটাইন রাজধানী কনষ্টানটিনোপলের উপর আক্রমন চালাতে থাকে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এত শোচনীয় হয়ে ওঠে যে সম্রাট হিরাক্লিয়াস রাজধানী কার্থেজে সরিয়ে নেবার কথা ভাবতে শুরু করেন।

এইখানেই ৬২২ সালের গুরুত্ব আমরা দেখতে পাই। প্রকৃতপক্ষে ধংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাওয়া বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের কাছে এটা ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর বছর।

বাইজানটাইন সাম্রাজ্য রক্ষার যুদ্ধ প্রকৃতপক্ষে ধর্মযুদ্ধে পরিণত হয়েছিল, প্রত্যেক খৃষ্টানকে ধর্মযুদ্ধে যোগ দিতে উৎসাহীত করা হয় ।সম্রাট তার নিজের পুত্র হেরাক্লিয়াস কনস্টানটাইন ও ধর্মগুরু সারজিয়াসের উপর রাজধানী রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে নিজের সেনাবাহিনী নিয়ে এশিয়া মাইনরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। হিরাক্লিয়াস যীসুর প্রতিক্রৃতি সামনে রেখে নিজে এই ধর্মযুদ্ধের নেতৃ্ত্ব দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক ওয়ালটার কেগীর মতে, হিরাক্লয়াসের সৈন্যসংখ্যা খুব সম্ভবত ২০,০০০ – ২৪,০০০ এর মধ্যে ছিল, খুব বেশী হলেও তা ৪০,০০০ এর বেশী হবে না।পারসীক বাহিনীকে পরাজিত করে প্রথমেই তিনি রোমান শৌর্য-বীর্যের প্রতিক আনাতোলিয়ার সিজারিয়া শহরটি দখল করেন। এরপর তিনি পারসীক অধিকৃত আর্মেনিয়ার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যেতে থাকেন। ইতিমধ্যে তিনি দ্বীগুন শক্তিশালী এক সাসানীয় বাহিনীর সম্মুখে পরেন। হিরাক্লিয়াসের বাইজানটাইন সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন কল্পনাই থেকে যেত যদি না ঠিক এই সময়ে আরব উপজাতিদের এক বড় বাহিনী হিরাক্লিয়াসের সাহায্যে এগিয়ে না আসত। আরবদের সাহায্যেই হিরাক্লিয়াস পারসিক বাহিনীকে ধংস করেন। এরপর আরব ও হিরাক্লিয়াসের যৌথ বাহিনী রোমানদের হৃত এলাকা পুনরুদ্ধার করে এবং শেসপর্যন্ত্য ৬২৭ খৃষ্টাব্দে নিনেভের যুদ্ধে সাসানীয় শক্তির চরম বিপর্যয় ঘটে।

আমরা এইখানে ইতিহাসের এক ক্রান্তিকালে আমাদের কাহিনীর নায়ক আরবদের নেপথ্য ভূমিকায় উঁকি মারতে দেখি। উত্তর আরবে এইসময় ছিল ঘাসানিদ নামে আরবদের এক উপজাতি জোট। তারা ছিল খৃষ্টান ধর্মের অনুসারী এবং বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের সাথে শক্তিশালী মিত্রতার বাঁধনে আবদ্ধ। আরো ভিতরে মধ্য আরবের মরু অঞ্চলে সম্ভবত কোনরুপ শিথিল ধরনের খৃষ্টান ধর্ম প্রচলিত ছিল (বিতর্কিত বিষয়, আমার ব্যক্তিগত মত এটি) । আরবরা কেন বাইজানটাইন-সাসানীয় যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল; কারণ এটা ছিল পুরো খৃষ্টান বিশ্বের ধর্মযুদ্ধ। মোদ্দা কথা হল বহুল প্রচলিত বিশ্বাস যে ইসলাম পূর্ব যুগের আরবরা মূলত ছিল মুশরিক বা প্যাগান তার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। ইবনে ইশাকের বিবরণেই বহুবার আরবি খৃষ্টানদের উল্লেখ আছে। আমরা আগেই দেখেছি, বাইজানটাইন শক্তির চরম বিপদের দিনে আরবরা সাহায্যে এগিয়ে আসে। রোমান সেনাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাসানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তারা যুদ্ধ চালায়। এখানে চুপি চুপি পাঠকদের আগাম একটা কথা জানিয়ে রাখি- আদি ইসলাম ছিল প্রকৃতপক্ষে খৃষ্টধর্মের একটি শাখা। আজ্ঞে হ্যা, ঠিকই পড়েছেন খৃষ্টধর্মের একটি শাখা হিসাবেই ইসলামের অঙ্কুরোদগম হয়েছিল (প্রথম পর্বের ক্রশবহনকারী মুসলিম খলিফা মুয়াবিয়াকে মনে আছে নিশ্চই!)। আমরা পরের পর্বেই এই বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত হতে পারব। অতএব আরবি খৃস্টানদের ভিতর থেকেই ইসলামের জন্ম হয়েছিল বলে ধরে নেওয়া যায়; মূর্তিপূজক সর্বেশ্ববাদীদের মধ্য থেকে নয়।

কিছুদিন আগে পর্যন্ত্য পারস্য জয় সংক্রান্ত ইসলামী বিবরণ প্রায় বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে অধ্যাপিকা Parvaneh Pourshariati তার অত্যন্ত বিশ্লেষনধর্মী আলোচনায় দেখিয়েছেন আরবরা ৬২৮-৬৩২ খৃষ্টাব্দের মধ্যেই পারস্য আক্রমন করে; ইসলামী বিবরণে যেমন রয়েছে সেরকম ৬৩৬ খৃষ্টাব্দে নয়। পুরো সাসানীয় সাম্রাজ্য দখল করতে স্বাভাবিকভাবেই প্রায় দুদশক লেগে গিয়েছিল কারণ প্রথমত, সাম্রাজ্যের বিশাল আয়তন; দ্বিতীয়ত ভূপ্রকৃতিগত কারণেই সাসানীয় সাম্রাজ্য দখল করা ছিল সময়সাপেক্ষ। সাম্রাজ্যের মধ্য অংশে ছিল বিশাল ইরানের মরুভূমি। সাসানীয় সামাজ্যের সবচেয়ে বড় প্রদেশ ছিল খোরাসান (বর্তমান আফগানিস্থান)। দুর্গম পাহাড়ী পথ অতিক্রম করে ওখানে আক্রমন চালানো ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তবে কি আরবদের যুদ্ধপ্রচেষ্টা ৬২২ খৃষ্টাব্দেই সম্রাট হিরাক্লিয়াসের সহযোগী হিসাবে শুরু হয়েছিল? এরপরে বাইজানটাইন সম্রাট নিজ দেশে ফিরে গেলে তারা স্বাধীনভাবে ৬২৮ খৃষ্টাব্দ থেকে দুর্বল সাসানীয় সাম্রাজ্যের উপর আক্রমন চালায়? তার মানে এইভাবে সাসানীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত ইরাক দখলের মাধ্যমে তাদের যে জয়যাত্রা শুরু হয় যা পরবর্তী এক শতাব্দী ধরে চলতে থাকবে। ৬২২ খৃষ্টাব্দের এই তাৎপর্যের কারণেই আরবরা এই সাল থেকে একটি অব্দ বা সন চালু করে থাকতে পারে। এইভাবেই সৃষ্টি হয় হিজরী সন; পরবর্তীকালে ইসলামের জন্মের পর যাকে মুহম্মদের কল্পিত হিজরতের সাথে জুড়ে দেওযা হয়েছে। আরবের মরু অঞ্চলে ওইসময় যে প্রকৃতই কিছু ঘটছিল তার কোন প্রমানই নেই। ইসলামী বিবরণ অনুযায়ী মুহম্মদ যদি প্রকৃতই ৬৫-১০০টি যুদ্ধ করে থাকতেন তবে তার কিছু না কিছু চিহ্ন অবশ্যই থাকার কথা। এমন নয় যে সমকালীন ঐতিহাসিক বিবরণে আরবের উল্লেখ নেই। কিন্তু কোথাও মুহম্মদ এমনকি ইসলামের নামগন্ধ নেই। আরব সাম্রাজ্য বহুদূর বিস্তৃত হওযার পরই হঠাৎ করেই যেন ইসলাম ও মুহম্মদের উদয় হয়।

রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াস সম্পর্কে একটি হাদিস পাওয়া যায় যেটি আমার কাছে অত্যন্ত ঈঙ্গিতবাহী বলে মনে হয়েছে।

(সহী বুখারী, হাদিস নং ৬, অনেক বড় হাদিস; শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক অংশ দেওয়া হল।)
……তারপর হিরাকল তাদের বললেন, ‘ইনি (রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ) এ উম্মতের বাদশাহ। তিনি আবির্ভূত হয়েছেন।’ এরপর হিরাকল রোমে তাঁর বন্ধুর কাছে লিখলেন। তিনি জ্ঞানে তাঁর সমকক্ষ ছিলেন। পরে হিরাকল হিমস চলে গেলেন। হিমসে থাকতেই তাঁর কাছে তাঁর বন্ধুর চিঠি এলো, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবির্ভাব এবং তিনিই যে প্রকৃত নবী, এ ব্যাপারে হিরাকলের মতকে সমর্থন করছিল। তাপর হিরাকল তাঁর হিমসের প্রাসাদে রোমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের ডাকলেন এবং প্রাসাদের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দলেন। দরজা বন্ধ করা হলো। তারপর তিনি সামনে এসে বললেন, ‘হে রোমবাসী! তোমরা কি কল্যাণ, হিদায়ত এবং তোমাদের রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব চাও? তাহলে এই নবীর রায়’আত গ্রহণ কর।’ এ কথা শুনে তারা জংলী গাধার মত ঊর্ধ্বশ্বাসে দরজার দিকে ছুটল, কিন্তু তারা তা বন্ধ অবস্থায় পেল। হিরাকল যখন তাদের অনীহা লক্ষ্য করলেন এবং তাদের ঈমান থেকে নিরাশ হয়ে গেলেন, তখন বললেন, ‘ওদের আমার কাছে ফিরিয়ে আন।’ তিনি বললেন, ‘আমি একটু আগে যে কথা বলেছি, তা দিয়ে তোমরা তোমাদের দীনের উপর কতটুকু অটল, কেবল তার পরীক্ষা করেছিলাম। এখন আমি তা দেখে নিলাম।’ একথা শুনে তারা তাঁকে সিজদা করল এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হলো। এই ছিল হিরাকল এর শেষ অবস্থা।

উপরোক্ত হাদিসে বাইজানটাইন সম্রাট হিরাক্লিয়াসকে একজন ইসলাম অনুরাগী ব্যক্তি হিসাবে দেখা যাচ্ছে। আবার আমারা ইতিহাস থেকে জানতে পারি যে হিরাক্লিয়াসের নেতৃত্বেই আরবরা তাদের যুদ্ধযাত্রা শুরু করে। দুয়ে দুয়ে চার করতে পারলেন কি?

আগের পর্বগুলোঃ পর্ব এক, পর্ব দুই, পর্ব তিন

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “মুহম্মদের ঐতিহাসিকতা ও ঐতিহাসিক মু্হম্মদ, পর্ব-৪

    1. আপনার প্রশ্নের অর্থ বুঝতে
      আপনার প্রশ্নের অর্থ বুঝতে পারলাম না। আপনি যে প্রশ্নটা করেছেন সেটাই পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে। যদি এ সংক্রান্ত আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তো বিস্তারিত লেখেন

  1. যযিরাতুল আরবে (ইয়াসরিব, মক্কা
    যযিরাতুল আরবে (ইয়াসরিব, মক্কা, তায়েফ থেকে ইয়েমেনের আগ পর্যন্ত) ইসলামের বিকাশ ঘটেছে মূলত ছোট-খাট গোত্র ধর্ম হিসেবে। তাও ঈহুদী-খ্রিষ্টান-জরাথ্রুষ্ট ধর্মের সংমিশ্রণের একটি নতুন শাখা হিসেবে। আরবের গোত্রীয় জনগনকে নিয়ে কখনোই কারও তেমন মাথাব্যথা ছিলো না। তাই এই নতুন মিশ্রজাতের ধর্মপালন করা অনুসারীদের নিয়ে অ-ইসলামীক সূত্রে তেমন কিছু পাওয়া যায় না ৬৩৪ এর আগে!

    বর্তমানে বাংলাদেশের বেদে সমাজের ধর্মপালন এবং সামাজিক প্রথা যেমন শুধুমাত্র তাদের গোষ্ঠীতেই সীমাবদ্ধ; ইসলামের অবস্থাও ছিলো ঠিক তেমন। মুহাম্মদের জীবনকালীন যযিরাতুল আরবের যতটুকু অংশে ইসলাম নামে এই নতুন সংমিশ্রিত ধর্মের বিকাশ বা প্রকাশ ঘটেছিলো তা বাইজানটাইন-সাসানীয় সাম্রাজ্যের কারও মাথা ব্যথার কোনো কারণ ছিলো না।

    ইসলামের সবচেয়ে প্রাচীন সমসাময়িক ইতিহাস লেখক ইবনে ইসহাক ও মামর ইবনে রশিদ দুজনেই মুহম্মদের সময়ক্রম নিয়ে একমত হতে পারেননি শুরুতেই। মুহাম্মদের জন্ম নিয়ে দুইজন যে বক্তব্য দেন, তাতেই ৭ বছরের ব্যবধান দেখতে পাওয়া যায়!

    আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলামের ইতিহাস এতটা প্রবল ভাবে একপাক্ষিক, সেখান থেকে যযিরাতুল আরবের বাইরের ইসলাম প্রচার ও প্রসারের সময়ক্রমিক ইতিহাস আমার নিজের কাছেই সঠিক বলে মনে হয় না; সত্যি বলতে মুহাম্মদ যে গোত্র-ধর্মের প্রচলন করেছিলেন, তাই পরবর্তী ৫০ বছরে একাধিক হাতে বিবর্তিত হয়ে বর্তমানের রূপ লাভ করে।

    ইসলাম মুহাম্মদের বেঁচে থাকার খুব সুক্ষ বর্ণনা দেয়, এমনকি লুঙ্গি থেকে শুকানো বীর্য নখ দিয়ে খোঁচানোর বর্ণনাও তাতে বিদ্যমান; তবে ইসলামের সকল ইতিহাসের কমপক্ষে ৬০ ভাগ পাতিহাস(মীথ) দিয়ে ঢাকা; একথা স্বীকার করতে বাধা নেই।

    আপনার লেখা দরুন লাগছে; পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
    আপনার সাথে মুহাম্মদের থাকা না নিয়ে একটা সন্ধ্যা একসাথে কাটানোর ইচ্ছা রইল..
    আমরা যেহেতু ঈশ্বর নই, চাইলে খুঁজে বের করতে পারবো দুজনই (হা, হা, হা)
    যেহেতু আমি লেখার জগতে অলস; তাই এটুকুতেই হাত ব্যথা হয়ে গেছে!
    একদিন লম্বা রাতজাগা আড্ডায় আমরা মুহাম্মদকে ঠিকই খুঁজে বের করতে পারবো,
    তা হাতি খুঁজতে গিয়ে জলহস্তি পেলেও আপত্তি নেই!

    1. ইসলামের সবচেয়ে প্রাচীন

      ইসলামের সবচেয়ে প্রাচীন সমসাময়িক ইতিহাস লেখক ইবনে ইসহাক ও মামর ইবনে রশিদ দুজনেই মুহম্মদের সময়ক্রম নিয়ে একমত হতে পারেননি শুরুতেই। মুহাম্মদের জন্ম নিয়ে দুইজন যে বক্তব্য দেন, তাতেই ৭ বছরের ব্যবধান দেখতে পাওয়া যায়! আমাদের মনে রাখতে হবে, ইসলামের ইতিহাস এতটা প্রবল ভাবে একপাক্ষিক, সেখান থেকে যযিরাতুল আরবের বাইরের ইসলাম প্রচার ও প্রসারের সময়ক্রমিক ইতিহাস আমার নিজের কাছেই সঠিক বলে মনে হয় না; সত্যি বলতে মুহাম্মদ যে গোত্র-ধর্মের প্রচলন করেছিলেন, তাই পরবর্তী ৫০ বছরে একাধিক হাতে বিবর্তিত হয়- বর্তমানের রূপ লাভ করে।

      তাহলে তো আমার আর আপনার চিন্তা একই জায়গায় এসে মিলছে। প্রকৃতপক্ষে মুহম্মদের জীবনের যেসব ঘটনা নিয়ে অাস্তিক ও নাস্তিক দুপক্ষই ব্লগ ফেসবুক মাতিয়ে রাখে, ইসলামিক ট্রাডিশনের বাইরে সেগুলোর কোনই অস্তিত্ত নেই। তবে কিনা আল্লা হেদায়েত দিলে কিনা হয়। কি বলেন *mosking*

      1. অাপনার সাথে সহমত,
        অাপনার সাথে সহমত,
        সত্যি বলতে মুহাম্মদের জীবনের মুজেজা বর্ণণা তার মৃত্যু পরবর্তী ১০০ বছরের তেল-মালিশের ফল; অার যে মাছ বড়শিতে না ওঠে সেটা ক্রমশ তিমির সমান বড় হতে থাকে!
        বিগত ১৪০০ বছরে মুমিনদের না-দেখা মুহাম্মদ ক্রমশ বড়ই হচ্ছেন..!

        অামাদের কাজ তাকে অাবার পুটি মাছের অাদলে ফিরিয়ে অানা!
        চলুন দুই-ভাই{ভাই তো? বোন হলেও সমস্যা নেই} সেই কাজটাই করি!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 1