আসলে কি রোহিঙ্গা-নির্যাতন হচ্ছে? আর জাতিসংঘ কী করছে?

আসলে কি রোহিঙ্গা-নির্যাতন হচ্ছে? আর জাতিসংঘ কী করছে?
সাইয়িদ রফিকুল হক

ইদানীং রোহিঙ্গা-নির্যাতন নিয়ে সর্বত্র নানারকম খবর, অতিখবর আর অপপ্রচার শোনা যাচ্ছে। আর রোহিঙ্গা-নির্যাতনের খবরটি কয়েক বছর যাবৎ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। দেশে বিদেশে কোনোকিছু ঘটলে তা খবরে পরিণত হয়। আর এই খবরকে কেউ যদি অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করে—তাহলে, তা বানোয়াট ও ভিত্তিহীনে পরিণত হয়। যেকোনো জাতি, উপজাতি বা মানবগোষ্ঠীর উপর নির্যাতন করা হলে তা নিশ্চয়ই অমানবিক ও মানবতাবিরোধী-অপরাধ।

সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্নস্থানে সংখ্যালঘুসম্প্রদায় তথা হিন্দুসম্প্রদায়ের উপর অতি-জঘন্য হামলাপরিচালনা করেছে এদেশেরই মুসলমান-নামধারী একশ্রেণীর কুলাঙ্গার। তখন কিন্তু এই ‘রোহিঙ্গা-নির্যাতন’ নিয়ে সরবগোষ্ঠী একেবারে নীরব ও নিশ্চুপ ছিল। এখন এরাই ধান্দাবাজির উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা-নির্যাতন নিয়ে অপরাজনীতির উদ্দেশ্যে ব্লগে, টুইটারে, ফেসবুকে ইত্যাদিতে ইনিয়েবিনিয়ে, বানিয়েটানিয়ে, আবোলতাবোল, আলতুফালতু, আজেবাজে ছবি ছাপিয়ে তা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা-নির্যাতন বলে চালাতে চাইছে। আর এব্যাপারে দেশবিরোধী একটি গোষ্ঠী তো সদাতৎপর। ১৯৭১ সালেও এরা পাকিস্তানের পক্ষে আবোলতাবোল সংবাদপরিবেশনে ব্যস্ত ছিল। এইসব সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম ব্যতীত দেশের কিছু ‘দিগম্বর-টিভি-চ্যানেল’ রোহিঙ্গা নামক সাধারণ একটা ইস্যুকে বিরাট কিছু বানানোর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আর এই শয়তানদেরই অগ্রনায়ক হচ্ছে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, ঘাতক, জল্লাদ ও চাঁদপুরের কুখ্যাত রাজাকার আব্দুল মান্নানের ‘দৈনিক ইনকিলাব’। বর্তমানে রাজাকার-মান্নানপুত্র ও শয়তানপুত্র এএমএম বাহাউদ্দিন দৈনিক ইনকিলাবে কথিত রোহিঙ্গানির্যাতন নিয়ে মনগড়া, আবোলতাবোল, উদ্ভট ও কল্পনাপ্রসূত সংবাদপরিবেশন করছে। আর তারা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে ‘রোহিঙ্গাশিবির’ চালু করার প্রস্তাব ও ষড়যন্ত্র করছে। এদেশে এখন যারা ‘রোহিঙ্গা-মুসলমান-নির্যাতন’ নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে তারা সেই একাত্তরের প্রেতাত্মা।

আন্তর্জাতিক-নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সংবাদ-মাধ্যমেও ‘রোহিঙ্গা-নির্যাতন’ প্রসঙ্গটি এসেছে। কিন্তু কোনখানে, কোথায়, কীভাবে, আর কেন ‘রোহিঙ্গা-নির্যাতন’ হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়নি। আর তাই, রোহিঙ্গা-নির্যাতন নিয়ে আমাদের দেশের একটি ‘চিহ্নিত-দেশবিরোধীগোষ্ঠী’ সবসময় অপপ্রচারে লিপ্ত। এদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। তাই, এরা রোহিঙ্গা-নির্যাতনকে বিশ্ববাসীর সামনে এনে তাদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য ভীষণভাবে তৎপর। দেশবিরোধী এই অপরাধীগোষ্ঠী রোহিঙ্গা-নির্যাতনকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থের ফায়দা লোটার জন্য মিথ্যা ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছবি ছাপিয়ে জনমত গড়ে তোলার জন্য দেশব্যাপী তথ্যসন্ত্রাসপরিচালনা করছে। রোহিঙ্গা-নির্যাতনের খবর প্রচারের নামে এরা আজকাল যা করছে তা হলো:

১. দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক-দুর্ঘটনায় নিহত-বীভৎস-মানুষের ছবিপ্রকাশ করছে।
২. ২০১৪ সালে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত-শিবির-জোটের দেশব্যাপী পেট্রোল-বোমা-হামলায় নিহত-বীভৎস-মানুষের ছবিপ্রকাশ করছে।
৩. দেশে-বিদেশে ঝড়-জলোচ্ছাসে নিহত মানুষের ছবিপ্রকাশ করছে।
৪. দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসীহামলায় নিহত-মানুষের বীভৎস-ছবিপ্রকাশ করছে।
৫. লঞ্চডুবিতে নিহত সাধারণ-মানুষের ছবিও রোহিঙ্গাদের বলে প্রকাশ করছে।
৬. দেশে-বিদেশে অগ্নিকাণ্ডে নিহত-মানুষের ছবিপ্রকাশ করছে।
৭. ভূমিকম্পে নিহতদের ছবি রোহিঙ্গাদের ছবি বলে চালানো হচ্ছে।
৮. আইএস-জঙ্গিদের হাতে নিহতদের ছবিকেও ‘রোহিঙ্গা-নির্যাতনে’র ছবি বলা হচ্ছে।
৯. শ্রীলংকার সাবেক জঙ্গিসংগঠন এলটিটিই-এর হাতে নিহতদের ছবিকে আজ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বলা হচ্ছে রোহিঙ্গা-নির্যাতন!
১০. এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর বিভিন্নস্থানে ‘সুনামীতে’ নিহত-মানুষের ছবিও প্রকাশ করা হচ্ছে—রোহিঙ্গা-নির্যাতন বলে।
১১. ‘রোহিঙ্গা-মুসলমান-নির্যাতনে’র নামে দেশের ভিতরে একটি শ্রেণী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহত-মানুষের ছবি কম্পিউটারে অতিসূক্ষ্ণভাবে এডিট করে তা রোহিঙ্গা-নির্যাতন বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর এই নামধারী-মুসলমানশ্রেণীটি তাদের স্বার্থের জন্য সবই করতে পারে।
আর এসব ছবিপ্রকাশ করে তার নিচে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক সময়ের রোহিঙ্গা-নির্যাতনের ছবি বলে চালাচ্ছে একটি দেশবিরোধীগোষ্ঠী। আর এদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। সবকিছু দেখেশুনে মনে সন্দেহ জাগে: আসলে কি রোহিঙ্গা-নির্যাতন হচ্ছে? আর হলে কতটুকু? আর এর কি কোনো প্রমাণ আছে? আর এটি বন্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা কী? এসব আজ আমাদের জানতে হবে। আর সত্য না জেনে শুধু ‘রোহিঙ্গা-নির্যাতন’ হচ্ছে বলে সদ্যো-জন্ম নেওয়া গোবৎসের মতো লেজ তুলে দৌড়ালে চলবে না। আসল সত্য প্রকাশ করতে হবে। কারণ, এই দেশে জাতির শত্রু বিহারীদের দালালগোষ্ঠী এই দেশে আবার রোহিঙ্গা এনে ‘বাঙালি-জাতি’র ভবিষ্যৎ-বিপন্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। আর তাই, এই শয়তানদের মিথ্যাখবর থেকে আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।

রোহিঙ্গা-নির্যাতন যদি হয়েও থাকে তবে তা অমানবিক। আর এব্যাপারে জাতিসংঘকে যথাযথ দায়িত্বপালন করতে হবে। আর যতটুকু নির্যাতন হচ্ছে তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা রাখতে হবে। তাই বলে ‘রোহিঙ্গা-নির্যাতনে’র ভুয়াছবি-প্রকাশ করে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের চোখ-ফাঁকি দিয়ে কিংবা তাদের ঘুষ দিয়ে বাংলাদেশের ভিতরে কোনো রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, এবং তা মেনে নেওয়াও হবে না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো: জাতিসংঘ এব্যাপারে কোনো ভূমিকাপালন না করে ঘাসখেকো ছাগলের মতো জাবর কাটতে-কাটতে বলেছে: বাংলাদেশের বর্ডার খুলে দেওয়া হোক! কতবড় ধৃষ্টতা! আর কতবড় বেআদবি! দোষ করেছে আরাকানীমগ ও দস্যু মিয়ানমারের ভণ্ডশাসকগোষ্ঠী। আর ঝামেলা পাকাচ্ছে আরাকানীমগের আরেক বংশধর—রোহিঙ্গাগণ। আর বর্ডার খুলে দিবে বাংলাদেশ? কারও কথায় বাংলাদেশের বর্ডার খোলা হবে না। আজ বাংলাদেশ কারও কথায় লঙ্গরখানা খুলবে না। আর কাউকে বাংলাদেশে ঢুকতেও দিবে না।

জাতিসংঘের ভণ্ডগুলো জাবর কাটছে আগের মতো। ১৯৭১ সালেও এরা পাকিস্তানের পক্ষে বহুরকমের দালালি করেছিলো। আজও তাদের দালালিস্বভাব যায়নি। এরা এখনও সত্য বলতে শেখেনি। বাংলাদেশের বর্ডার খুলে দেওয়ার কথাটি বলার জন্য জাতিসংঘের কি আইনগত কোনো অধিকার আছে? না, নাই। তবুও এরা ছাগলের তিন-নাম্বার বাচ্চার মতো জাবর কাটতে-কাটতে মিয়ানমারের পক্ষ নিয়ে আমেরিকার প্রেসক্রিপশন মোতাবেক বাংলাদেশের বর্ডার খুলে দেওয়ার কথা বলছে। আরে জাতিসংঘ, বাংলাদেশের বর্ডার কি তোদের বাপের তালুক? আর তোদের কথায় বাংলাদেশ তার বর্ডার খুলে দিবে? আর বর্ডার খুলে ডেকে আনবে শত্রু? আর এতে লাভবান হবে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’রা। যদি রোহিঙ্গা-নির্যাতন হয়ে থাকে—তবে তার জন্য দায়ী মিয়ানমারের অতীত ও বর্তমানের সরকার। আরও দায়ী এদের মদদদাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এতে নিরপরাধ-বাংলাদেশ কেন শাস্তিভোগ করবে? আর বাংলাদেশ কেন তার বর্ডার খুলে দিবে? ‘ঠুটো জগন্নাথ’ জাতিসংঘকে আগে মানবিক হতে হবে তারপর কথা বলতে হবে। আর সত্যি-সত্যি কতটুকু রোহিঙ্গা-নির্যাতন হচ্ছে তা প্রকাশ করতে হবে। এর কোনো সঠিক জবাব আছে জাতিসংঘ?

বাংলাদেশের বর্ডার খোলা হবে না। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদেরও বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। আর রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের কেউ নয়।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৭/১১/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আসলে কি রোহিঙ্গা-নির্যাতন হচ্ছে? আর জাতিসংঘ কী করছে?

    1. আপনি ঠিকই বলেছেন। ওইরকম ছবি
      আপনি ঠিকই বলেছেন। ওইরকম ছবি ব্যবহার করা যেতো। কিন্তু অপপ্রচারকারীভণ্ডদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর জন্যই এমনটি করা হয়েছে।

      আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। আর সঙ্গে শুভেচ্ছাও।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − 90 =