রোহিঙ্গা নাকি মানুষ : বিশ্ব বিবেকের দায়সারা বিবৃতি…!

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতার’ তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের বৌদ্ধ নেতারা। তারা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যে ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন ও মানবিক বিপর্যয় ঘটে চলেছে তাতে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্যে তারা বিশ্ববাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। একইসাথে তারা বাংলাদেশে নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর এধরনের নির্যাতনের ফলে বাংলাদেশেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে। বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অশোক বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, কেউ যাতে মিয়ানমারের ঘটনাকে ব্যবহার করে বাংলাদেশে বৌদ্ধদের দোষারোপ না করে এবং তাদের নিরাপত্তাও যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্যে তারা সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। মিয়ানমারের বৌদ্ধ নেতাদের সাথে তাদের পক্ষ থেকে এবিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে কীনা এই প্রশ্নের জবাবে মি. বড়ুয়া সরাসরি কোন উত্তর না দিয়ে বলেছেন, “একজন প্রকৃত বৌদ্ধ কখনো সহিংসতার পথ অবলম্বন করে না।”

#খবর : বিবিসি

#প্রসঙ্গ : রোহিঙ্গা হত্যা নাকি বিবেকের আত্মাহুতি!
বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মি. অশোক বড়ুয়া বলতে পারতেন, একজন প্রকৃত ‘মানুষ’ কখনো সহিংসতার পথ অবলম্বন করে না! কিন্তু না তিনি বললেন, একজন বৌদ্ধের কথা!
তিনি অথবা বাকি সব ধর্মের ধার্মিকগণ নিজের ধর্মকে শ্রেষ্ঠ বানাতে-দেখাতে উঠে পড়ে- কোমর বেঁধে লেগে আছে! কিন্তু কেউই মানুষকে নিয়ে বলতে বাধ্য নন! তারা ভিনগ্রহের প্রাণী! তারাই শুধু ধার্মিক! বাকি সব পাপী! স্বর্গ নরকের এই টানাটানি কবে যে শেষ হবে?

মি. বড়ুয়া বললেন, “একজন প্রকৃত বৌদ্ধ কখনো সহিংসতার পথ অবলম্বন করে না।”
তান মানে সমগ্র মিয়ানমারের বৌদ্ধরাই অধার্মিক-পাপী? এমনকি তারা প্রকৃত বৌদ্ধ নন! আপনি কি মনে করেন, মি. বড়ুয়া মিয়ানমারের কোনো বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতার সামনে দাঁড়িয়ে এমন বক্তব্যটা দেওয়ার সাহস পাবেন?
মি. বড়ুয়ার বক্তব্যে উঠে আসে, রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তারা বিশ্ববাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মীয় সংগঠনগুলি বিষয়টি সমাধানের জন্য নিজেরা কতোটুকু চেষ্টটা করেছে? হ্যাঁ বলতে পারেন, বিষয়টির সমাধান তাদের হাতে নেই! কিন্তু অতীত ইতিহাস তো বলে, এধরনের ধর্মীয় সংগঠনগুলো একটা নির্দিষ্ট চেইন অব কমান্ড অনুসরন করে থাকে কিংবা পৃষ্টপোষক অথবা সিস্টার কনসার্ন টাইপ হয়ে থাকে! কিন্তু তা না করে, যথাযথ কর্তৃপক্ষ টাইপ নেতা-আমলাদের মতো পাশ কাটিয়ে যাওয়ার বিবৃতি দেওয়া কতোটা হাস্যকর, তা কি মি. বড়ুয়া বোঝেন না?

এমনকি তিনি যতোটুকু সচেতন উনাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে, তার একশো ভাগের এক ভাগও যদি তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য হতেন, তবে হয়তো এতো জল গড়াতো না!
এরা বলে, ওরা সন্ত্রাস, গোঁড়া, ভন্ড, পথভ্রষ্ট, জঙ্গী, মৌলবাদ! কিন্তু ওরা বলে, এরা নাস্তিক, অধার্মিক, মুরতাদ!

কিন্তু কারা যে ধার্মিক, কারা যে অধার্মিক, কারা যে প্রকৃত, কারা যে ভন্ড? বুঝার কোনো যো আছে? তাদের এই ঠেলাঠেলি-মুলামুলি-কিলাকিলি-ধরাধরি-মারামারি-কাটাকাটি-হানাহানি চলতে থাকুক! মাঝখানে সাধারন জনতা পিষ্ট হোক! সাধারন জনতার আর কী-ই বা করার আছে? কারন তাদের না থাকে ধর্ম, না থাকে বলার মতো কর্ম! তাদের কাছে ঈশ্বরও থাকতে চাই না! কারন ও বেচারিও যে সংখ্যাগরিষ্টের, ভদ্রপল্লীতে তার নিত্য আনাগোনা!

#বিশ্বে শান্তি ফিরে আসুক,
সব মানুষ ভালো থাকুক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “রোহিঙ্গা নাকি মানুষ : বিশ্ব বিবেকের দায়সারা বিবৃতি…!

  1. লেখা পড়ে মজা পেলাম ।
    লেখা পড়ে মজা পেলাম ।
    সব ধর্মের লোক আক্রমন করে এই ছাপাইটিই দেয় । এ আর নতুন কি । ধর্মমত যতদিন থাকবে ততদিন এ জ্বালা মানুষকে ভোগ করতে হবে । আমরা নিজেরাই নিজেদের ভাগ করে মানব শ্রেনীবিভাজন করেছি । অতএর এ চলবে সঙ্গে ছাপাও বহাল থাকবে যে, প্রকৃত অমুক হামলা করতে পারে না ।কি বলো?

  2. দেবজ্যোতি দাদা, মন্তব্য করার
    দেবজ্যোতি দাদা, মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ। দাদা একুশ শতকের সবচেয়ে বড় অভিশাপটাই হচ্ছে ধর্ম! মানবসমাজকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে এই ধর্ম!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 3