আবেগ না কি বিবেক?

যে কোন সিদ্ধান্ত আবেগ দিয়ে না নিয়ে বিবেক দিয়ে নেয়া উচিত। রোহিঙ্গাদের ব্যাপারেও অনেকেই আবেগ দিয়ে বিচার করছে। রোহিঙ্গাদের সাথে যা হচ্ছে একজন মানুষ হিসেবে আমি অবশ্যই তা সমর্থন করিনা, করবোও না। একটাই কথা, সব মানুষেরই স্বাভাবিকভাবে বাঁচার অধিকার আছে। আবার, অস্বাভাবিক মৃত্যুও কখনো কারো ক্ষেত্রেই কাম্য নয়। রোহিঙ্গাদের অতীত ইতিহাস খুব একটা ভালো নয় বলেই অনেকেই চাচ্ছেনা, বর্ডার খুলে দেয়া হোক। এমনিতেও বহু বছর ধরেই প্রায় ৫ লক্ষ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আছে। তারা এতো বছর কি ধরণের অপরাধ করেছে তা আর নতুনভাবে বলার কিছু নেই। এখন আরো যদি আসে, তাহলে দেশের মানুষের কি অবস্থা হবে, তাও একবার সবার ভেবে দেখা উচিত। অনেকেই বলছে, ভারত ৭১ এ আমাদের আশ্রয় দিয়েছিল প্রায় ১ কোটি মানুষকে। সত্যি কথা। কিন্তু, শর্ত সাপেক্ষে। দেশ স্বাধীন হলে সবাই দেশে ফেরত আসবে, এমন শর্তই ছিলো যতদূর জানি। অনেকেই ফেরতও এসেছিলো। তবুও কিছু মানুষ সেখানে স্থায়ী হয়ে যায়। যাদের অনেক পরে সে দেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছিলো। অনেকেই আবার বলছে, তারা আমাদের ভাই। তাও মানলাম। মানুষ বলে যখন নিজেকে পরিচয় দিই, তখন আরেকটা মানুষ কে ভাই বলতেই পারি। প্রশ্ন হচ্ছে, যখন রামু তে রোহিঙ্গারা এভাবে এতগুলো মন্দির, মঠ আগুনে পুড়িয়েছিলো, তখন আপনাদের এই ভাতৃত্ববোধটুকু কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলেন?? আজ খুব জানতে ইচ্ছে করে। সাঁওতাল দের উপর যখন এমন অত্যাচার হয়েছিলো, তখন এই ভাতৃত্ববোধটুকু রানের কোন চিপায় লুকিয়ে ছিলো?? কেউ কেউ তো সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে সব রোহিঙ্গাদেদের সেখানে আবাসন করে দেয়ার জন্যও প্রস্তাব দিয়েছিলো। নাসিরনগরে যখন আবারো হামলা হলো, তখন কোথায় ছিলো এই ভাতৃত্ববোধ? তখন আপনাদের মধ্যে কোন ভাতৃত্ববোধ জাগেনি। জাগার কথাও না। লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন আরো অনেক দেশেই মুসলমানদের উপর হামলা হয়েছিলো, হচ্ছে। তখন তো কারো ভাতৃত্ববোধ জেগে উঠেনি। কোন অজানা কারণে শুধুমাত্র রোহিঙ্গাদের প্রতি সবার এতো ভাতৃত্ববোধ বারবার জেগে উঠে সেটাই মাথায় আসেনা। কেউ কেউ সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনে রাতে। এই রোহিঙ্গারাই যখন আবার দেশের ভেতরে কোন অঘটন ঘটাবে তখন আবারো সরকারের গোষ্ঠী উদ্ধারে সময় কাটাবেন। এই বিষয়ে কিছুই লেখার কোন ইচ্ছে ছিলো না। তবুও লিখতেই হলো। মানবতা যখন দেখাবেন সবার জন্যই সমানভাবে দেখানো উচিত, যদি আপনি সত্যিকারের মানুষ হন। আর যদি তা না হন তাহলে আপনি আপনার স্বজাতিকেই মানুষ ভাববেন, অন্য কাউকে না। যারা রোহিঙ্গাদের সমর্থন করে তাদের এদেশে আশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে অতিরিক্ত মাতামাতি করছেন, তাদের শুধু একটাই কথা বলার আছে, সব সিদ্ধান্ত আবেগে নেয়া যায় না। কিছু কিছু সিদ্ধান্ত বিবেক দিয়েও নিতে হয়। দুনিয়ার তাবত বিবেক-বুদ্ধি নিয়ে ধরাধামে এসেছেন। সেগুলোকে এভাবে অপচয় না করলেই পারেন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “আবেগ না কি বিবেক?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

76 − = 72