একজন নব্যরাজাকার আবু ইয়াহিয়ার আর্তনাদ

বিহারীদের বাংলাদেশে ঠাঁই দিয়ে ১৯৭১ সালে আমরা হাড়ে-হাড়ে তার ফল ভোগ করেছি। ১৯৭১ সালে, তারা পাকিস্তানীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাঙালি-হত্যায় মেতে উঠেছিলো। আর এই বিহারীগোষ্ঠী আজও বাংলাদেশের মঙ্গল চায় না।
বর্তমানে বাংলাদেশের ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে মিয়ানমার থেকে আগত ‘রোহিঙ্গা’ নামক কথিত মুসলমানশ্রেণী। ইতঃপূর্বে এরা বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। এদের সংখ্যা একেবারে কম নয়। অনেকের হিসাবে এই সংখ্যা দিন লাখেরও অধিক। এটি আমাদের জন্য উদ্বেগজনক ব্যাপারস্যাপার। আর এই রোহিঙ্গারা একবার এদেশে এলে আর ফেরত যেতে চাইবে না।

বাঙালির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের কোনোকালেই কোনো সম্পর্ক ছিল না। এরা বিভিন্ন সময় নিজেদের প্রয়োজনে এদেশে আসতে পারে। বাংলার কোনো-কোনো রাজা-বাদশাহ আর স্বঘোষিত সুলতানের পাগলামির কারণে বাংলাদেশে এদের উপস্থিতি যৎসামান্য লক্ষ্য করা যেতে পারে। কিন্তু তা কখনও স্থায়ী বসবাসের নিমিত্তে নয়। কিন্তু বর্তমানে রোহিঙ্গা নামক জনগোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে দেদারসে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ার জন্য সর্বান্তকরণে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আর এব্যাপারে আমাদের দেশের বর্তমান-সরকার তাদের দেশে ঢুকতে দিতে অপারগতাপ্রকাশ করেছে। এটি নিঃসন্দেহে সময়পোযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত—যদিও জাতিসংঘ আহাম্মকের মতো বাংলাদেশের বর্ডার খুলে দিতে বলেছে। বাংলাদেশের এতো সাধ ও সাধ্য নাই যে বিহারীদের মতো রোহিঙ্গাদেরও লালনপালন করতে হবে। এজন্য আমাদের সীমান্তে বর্তমানে বেশ কড়াকড়িভাব বিরাজ করছে। কিন্তু বাদ সেধেছে এদেশেরই রোহিঙ্গাপ্রেমী ও বাংলাদেশবিরোধী কিছুসংখ্যক দালাল। এরা রোহিঙ্গাদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে সত্য-মিথ্যাকে এক করে জগাখিচুরি পাকিয়ে ফেলেছে। এতে আজ আন্তর্জাতিক-বিশ্ব রোহিঙ্গানির্যাতনকে পুরাপুরি বিশ্বাস করতে চাইছে না। বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গাপ্রেমীরা নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের দালাল আর বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী-নরপশু। তাই, এরা দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে হলেও দেশটাকে আজ পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা-শিবির বানাতে চাইছে। এরা জাতির শত্রু।

বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী-অপকাণ্ডের প্রথম সূচনা ঘটে ঔপনিবেশিক-শাসনের শেষলগ্নে—পাকিস্তান নামক একটি শয়তানরাষ্ট্রের প্রারম্ভে। আর সেখান থেকেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যাবতীয় শত্রুতার সূত্রপাত ঘটে। পাকিস্তানী-স্বঘোষিত জেনারেল নামক পাপিষ্ঠগণ এই দেশটাকে শ্মশানে পরিণত করার অপচেষ্টা করেও পারেনি। ১৯৭১ সালে, দেশস্বাধীনের পরে বাংলাদেশবিরোধী-অপকাণ্ডের সূচনা ঘটে একজন পাকিস্তানপ্রেমী মেজর জেনারেলের হাতে। এর নাম জিয়াউর রহমান। আর জিয়াউর রহমানের অপশাসনে দেশটা আবার পাকিস্তানের পথে ধাবিত হতে থাকে। এই সময় জিয়াউর রহমান বাংলার বুকে খাল কেটে কুমির আনার কর্মসূচিগ্রহণ করে বাংলাদেশের ভিত্তিমূলে আঘাত হানতে থাকে। আর তার সঙ্গী হয় এদেশীয় সর্বস্তরের রাজাকার, বিহারী, আর যত অবাঙালি।
আজকের বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা ধর্মের নামে রোহিঙ্গাপ্রীতি-রাজনীতির নগ্নপ্রকাশে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। আর কোনোকিছু না বুঝেই বিএনপি’র কর্ণধার থেকে শুরু করে এর প্রথম সারির সকল পাতিনেতাই রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের বর্ডার খুলে দিতে বলছে। সস্তার একটা মাত্রা থাকে। আর রাজনীতি-অপরাজনীতি হলে তারও একটা মাত্রা থাকে। কিন্তু এই দেশে বিএনপি’দের কোনো মাত্রা নাই—আর তাদের কোনো কাণ্ডজ্ঞানও নাই। এরা একেবারে উচ্ছন্নে যাওয়া আর সবসময় লাগামহীন-রাজনীতির ধারক-বাহক। তাই, সস্তা-ভোটের রাজনীতিতে ফিরে আসার জন্য একেবারে মরীয়া হয়ে তারা স্বদেশকে কলুষিত করতে ভিনদেশী রোহিঙ্গাদের জন্য বর্তমানে মায়াকান্না শুর করেছে।
আমাদের বর্তমান-সরকার দেশের বর্ডার নিয়ন্ত্রণে রেখে ও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে দেশের স্বার্থে যে-সব পদক্ষেপগ্রহণ করেছে তা সবদিক দিয়ে নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আর এ-বিষয়ে সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক-ফোরামেও মিয়ানমারের নির্যাতিত-রোহিঙ্গাদের পক্ষে লড়াই করছে। আর মিয়ানমারের বর্তমান-সরকারকে চাপে ফেলার জন্য আন্তর্জাতিক-সম্প্রদায়ের কাছেও আকুল আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের বক্তব্য স্পষ্ট আর তা দেশের পক্ষে। এমনকি আমাদের দেশের সরকার মিয়ানমারে নির্যাতিত-রোহিঙ্গাদের বসবাসের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিকমহলে বারবার দাবি জানিয়ে আসছে। মিয়ানমারের অমানবিক-সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক-চাপসৃষ্টির পক্ষেও বাংলাদেশ। তা সত্ত্বেও এদেশীয় কিছুসংখ্যক কুলাঙ্গার মিয়ানমারের নির্যাতিত-রোহিঙ্গাদের পক্ষে দেশের স্বার্থজলাঞ্জলি দিয়ে একেবারে নগ্ননৃত্য শুরু করে দিয়েছে।

এমন একটি মুহূর্তে দেশের একজন নব্যরাজাকার ও সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী-নামধারী-নরপশু বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের বিনাবাধায় প্রবেশ করতে দেওয়ার জন্য দেশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছে। এই নব্যরাজাকার-আইনজীবীর নাম আবু ইয়াহিয়া দুলাল। সে বাংলাদেশের বর্ডার সম্পূর্ণ খুলে দিয়ে অবাধে তথা বিনাবাধায় রোহিঙ্গাদের ঢুকতে দেওয়ার জন্য এই রিট দায়ের করেছে। আর এতে বিবাদী করা হয়েছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রসচিব, আইজিপি, বিজিবি’র মহাপরিচালক ও কোস্টগার্ডের ডিজিকে।

আবু ইয়াহিয়া খোঁড়া-যুক্তি দেখিয়ে রিটের পক্ষে বলেছে: ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় এককোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিলো।
কথা সত্য। কিন্তু আমরা ছিলাম বাঙালি আর বাংলাদেশের অধিবাসী। পাকিস্তানীজানোয়ারদের অত্যাচারে আমরা পার্শ্ববর্তী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম, আবার দেশস্বাধীনের পরে ফিরেও এসেছিলাম স্বদেশে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বিষয়টি অন্যরকম। তা এই জামায়াত-বিএনপি-মার্কা আইনজীবী ও একজন নব্যরাজাকার আবু ইয়াহিয়া উপলব্ধি করতে পারবে না। আর এদের মতো রাজাকারের আর্তনাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ অসৎ। তাই, এই রিট অনতিবিলম্বে খারিজ করে দিতে হবে।

ইতঃপূর্বে আমরা এই দেশে বহু রাজাকারের আর্তনাদ শুনেছি। এরা একেক সময় একেক বেশ ধারণপূর্বক জাতির সামনে উপস্থিত হয়। আর সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ‘মায়াকান্না’ জুড়ে দেয়। কিন্তু এদের এতো সহজে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ-আদালতে এজাতীয় রিট দায়ের করে তাদের শক্তহাতে প্রতিহত করতে হবে। তাহলে, এদের মাথা থেকে এজাতীয় শয়তানীভূত নামতে পারে। আর যদি এদের মাথা থেকে শয়তানীভূত না নামে—তবে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এদেরও এদেশে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৯/১১/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

36 − = 26