সবুজ পোশাক শিল্পে শক্তিশালী অবস্থানে বাংলাদেশ

বর্তমান বিশ্বে সবুজ পোশাক শিল্পের চাহিদা বেড়েই চলছে। এই শিল্পে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। সবুজ পোশাক কারখানার তালিকায় নারায়ণগঞ্জের প্লামি ফ্যাশন এখন বিশ্বে দ্বিতীয়। বাংলাদেশ প্রতিদিন সবুজ পোশাক শিল্পে দাপুটে অর্থনীতির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, আয়ারল্যান্ড ও ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে। এ শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বে এখন নাম্বার ওয়ান। এমনকি বিশ্বের শীর্ষ ১০টি পরিবেশবান্ধব তৈরি পোশাক পণ্য উৎপাদনকারী কারখানাসমূহের মধ্যে ৫টিই বাংলাদেশে স্থাপিত। এখানেই শেষ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলে (ইউএসজিবিসি) নিবন্ধিত ১৯৫টি বাংলাদেশি সবুজ পোশাক কারখানার মধ্যে ৩৬টি লিড সনদ পেয়েছে। ইউএসজিবিসিতে নিবন্ধিত আরও ১৫৯টি বাংলাদেশি সবুজ পোশাক কারখানা লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ড ডিজাইন (লিড) সনদ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। আর যে ৩৬টি কারখানা এই সনদ পেয়েছে, তার মধ্যে ৯৭ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্বের নাম্বার ওয়ান পোশাক কারখানার স্বীকৃতি অর্জন করেছে রেমি হোল্ডিংস লিমিটেড। ৯২ পয়েন্ট পেয়ে প্লামি ফ্যাশন লিমিটেড দ্বিতীয়, ৯০ পয়েন্ট পেয়ে ভিনট্যাগ ডেনিম স্টুডিও লিমিটেড চতুর্থ, ৮৫ পয়েন্ট পেলে এসকিউ সেলসিস-২ সপ্তম এবং ৮১ পয়েন্ট পেয়ে জেনেসিস ফ্যাশনস লিমিটেড দশম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ সবুজ পোশাক কারখানা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশ্বে চ্যাম্পিয়ন। শুধু তাই নয়, আমাদের দেশে যে পরিমাণে সবুজ কারখানা আছে, বিশ্বের আর কোনো দেশে তা নেই। আর দেশের উদ্যোক্তারা যে হারে সবুজ কারখানা স্থাপনের দিকে ঝুঁকছেন, তাতে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে অনন্য নজির স্থাপন করবে। সবুজ কারখানা স্থাপনে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কারখানার বর্জ্য ও কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনায় নজর দেয়া হয়েছে। তবে ভালো কারখানার জন্য নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো দামও প্রয়োজন। এটা পাওয়া গেলে শ্রমিকরাও ভালো বেতন পাবেন। তাতে শ্রমিক-মালিক সবাই খুশি হবেন। আর্থিক প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটলে সবুজ শিল্পের নীরব বিপ্লব ঘটাবে বাংলাদেশ। নানা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান রফতানিখাত পোশাকশিল্প। তবে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এ অবস্থান মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। কারণ বাংলাদেশের মূল প্রতিযোগী দেশগুলো উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। এই অবস্থায় অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশকে বর্তমানের চেয়ে বেশি হারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এ জন্য পোশাক খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বাজার ও পণ্যে বহুমুখীকরণের ওপর নজর দেওয়ার দেয়া জরুরী।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

37 − = 35