আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৬

সে ধূর্ততার সাথে যুদ্ধের জন্য মুসলিমদের দানকে, আল্লাহকে দেয়া “ঋণ” এর সাথে তুলনা করে , এবং তাদেরকে ‘সম্মানিত পুরষ্কারের’ প্রতিশ্রুতি দেয় ।

“কে সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিবে, এরপর তিনি তার জন্যে তা বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্যে রয়েছে সম্মানিত পুরস্কার।” (কোরান ৫৭ : ১১)

একদিকে মোহাম্মদ তার আল্লাহকে দিয়ে বলাচ্ছে যারা তার যুদ্ধের খরচ যোগাচ্ছে তারা কত মহান এবং তাদের কত বিশাল প্রতিদান হবে আল্লাহর কাছে, অন্যদিকে সে চাইতো না তার অনুসারীরা নিজেদের দান এবং ত্যাগ নিয়ে গর্ব করুক । তার কথা ছিলো ইসলামের জন্য আত্নত্যাগকে নিজের মহানুভবতা হিসাবে নয় বরং দিতে পারাকে নিজের সৌভাগ্য বলে মনে করতে হবে । অনুসারীদের বরং মোহাম্মদের খেদমত করার সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞ থাকতে হবে মোহাম্মদকে নয় ।

“যারা স্বীয় ধন সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, এরপর ব্যয় করার পর সে অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে না এবং কষ্টও দেয় না, তাদেরই জন্যে তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে পুরস্কার এবং তাদের কোন আশংকা নেই, তারা চিন্তিতও হবে না।” (কোরান ২ : ২৬২)

অনুসারীদের যুদ্ধে প্ররোচিত করার পর ও কাফেরদের গর্দান ফেলে দেয়ার নির্দেশ দেয়ার পর সে তাদের পুরষ্কারের কথা বর্ণনা করে

“অতঃপর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দার মার, অবশেষে যখন তাদেরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না। “ (কোরান ৪৭ : ৪)

অন্য কথায় বলতে গেলে আল্লাহ চাইলে নিজেই হত্যা করতে পারেন কাফেরদের, কিন্তু মুসলিমদের দিয়ে হত্যা করাচ্ছেন কেবল তাদের ঈমানের পরীক্ষা নেয়ার জন্য । এই আচরণ থেকে আল্লাহকে মনে হয় এক্টা মাফিয়া গডফাদার , গুন্ডা দলের নেতার মত , যে অধীনস্তদের বাধ্যতার পরীক্ষা নেয় তাদের দিয়ে অন্য কাউকে খুন করানোর মাধ্যমে । ইসলামে মুমিনের ঈমানের পরীক্ষা নেয়া হয় তাদের রক্তপিপাসা ও খুন করার ইচ্ছার মাধ্যমে । এরপর আল্লাহ বা আল্লাহর নাম দিয়ে মোহাম্মদ বলে,

“আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না।” (কোরান ৮ : ৬০)

যারা অবিশ্বাসীদের সাথে যুদ্ধে নিজের শরীর দিয়ে অথবা সম্পদ দিয়ে সাহায্য করবে এবং মোহাম্মদকে আল্লাহর রাসুল হিসাবে মেনে নিবে তারা পরকালে বিপুল পরিমাণ পুরষ্কার পাবে বলে মোহাম্মদ তার অনুসারীদের ফাঁকা প্রতিশ্রুতি দেয় । এইসব পরকালের পুরষ্কার বলে এগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে সে উদারতায় অতিরঞ্জনে কোনরকম কার্পণ্য করেনি । সে মুমিনদের পরকালে সবরকমের ইচ্ছার পূরণ হবে এবং তারা অনন্ত সুখের রতিক্রিয়ায় লিপ্ত থাকতে বলে সে দাবী করে । যারা যুদ্ধের খরচ যোগাতে কার্পণ্য করেছে তাদেরকে সে পরকালের কঠিন শাস্তির হুমকি দেখায় ।

“মুমিনগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বানিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবনপণ করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম; যদি তোমরা বোঝ। তিনি তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন এবং এমন জান্নাতে দাখিল করবেন, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং বসবাসের জান্নাতে উত্তম বাসগৃহে। এটা মহাসাফল্য। “ (কোরান ৬১ : ১০-১২)

“তারা তথায় রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে। উভয় উদ্যানের ফল তাদের নিকট ঝুলবে। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? তথায় থাকবে আনতনয়ন রমনীগন, কোন জিন ও মানব পূর্বে যাদের ব্যবহার করেনি। অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে?প্রবাল ও পদ্মরাগ সদৃশ রমণীগণ। “(কোরান ৫৫ : ৫৪-৫৮)

“পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য। উদ্যান, আঙ্গুর, সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী। এবং পূর্ণ পানপাত্র। “(কোরান ৭৮ : ৩১-৩৪)

“তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তিনি তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করেছেন, তা থেকে ব্যয় কর। অতএব, তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ব্যয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার। “ (কোরান ৫৭ : ৭)

এই আয়াতগুলো এবং এগুলোর কাছাকাছি আরো কোরানের আয়াতগুলো দেখলে সহজেই বুঝা যাবে ইসলামিক দান কেন প্রায়ই সন্ত্রাসী সংঘটনগুলোর পিছনে ব্যায় হয় (টীকা-৪১)। আপনার আমার মনে হতেই পারে দয়া দাক্ষিণ্যের দান এবং সন্ত্রাস দুইটা খুবই বিপরীত ধরণের ধারণা কিন্তু এইধরণের পার্থক্য মুসলিমের চোখে ধরা পড়ে না । ইসলামিক দানের উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলাম এবং জিহাদের প্রসার । আমাদের কাছে একাজ সন্ত্রাস, কিন্তু মুসলিমের কাছে এটা পবিত্র যুদ্ধ, আল্লহর হক এবং আল্লাহর চোখে সবচে প্রিয় কাজ ।

***************************************************************************************
টীকা-৪১
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অংগরাজ্যে অগাস্ট১৯, ২০০৩ সালে দায়ের করা এক অভিযোগে দেখা যায় কয়েকটি মুসলিম চ্যারিটি বিএমআই ইনকরপোরেটেড নামের এক সংস্থাকে ৩৭ লাখ আমেরিকান ডলার দান করে । নিউজার্সির এই ইসলামি প্রাইভেট বিনিয়োগ করপোরেশনটি পরবর্তীতে এই টাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের বিলিয়ে দেয় বলে ধারণা করা হয় । সৌদি আরবের জিদ্দাহ থেকে কোন এক অজানা দাতার দান করা এক কোটি ডলারের একাংশ এই ৩৭ লাখ ডলার । ওয়াশিংটন পোস্ট, পিউ রিসার্চ ফোরামের মত আরো অনেক অথেনটিক সোর্সে এইধরণের অনেক অভিযোগের কথা জানা যাবে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১৬

  1. আজকের পর্বটিতে কোরানের আয়াত
    আজকের পর্বটিতে কোরানের আয়াত বেশী ব্যবহৃত হয়েছে। কোরানের আয়াতের কথাগুলো বুঝতে হলে (ভাষা ও ব্যাকরণগত বৈশাদৃশ্য) আকাশ মালিক সাহেবের ‘আমার না বলা কিছু কথা’ গ্রন্থের ‘ঈশ্বরের ভাষা’ প্রবন্ধটি পড়া থাকলে সুবিধা হবে। আমার সৌভাগ্য যে আমার ঐ সম্পূর্ণ বইটিই পড়া হয়েছে।
    পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম ভাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

97 − = 90