মূর্তি ভাঙতে মুসলমান পারদর্শী

কিছুদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মুসলমানেরা দফায় দফায় হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দির ভেঙে ইসলামিক পুণ্য হাসিল করে। ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ইসলামিক বান্দারা মূর্তি ভেঙে ও পোস্টদাতার ফাঁসি চেয়ে দেশের বিভিন্নপ্রান্থে আন্দোলন করে।

মুসলমানদের বক্তব্য এমন ছিল যে, একজন হিন্দু ব্যক্তি কাবা শরীফের উপর শিবের ছবি সংযোজন করে পোস্ট করার কারণে নিষ্পাপ ও অবলা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে। যার ফলে তারা ক্কুব্ধ হয়ে হিন্দুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে ও মন্দির ভেঙে প্রতিবাদ করে। তদন্ত করে দেখা গেছে, সেই পোস্টটি কোন হিন্দু ব্যক্তির দ্বারা প্রসবকৃত নয়, বরং একজন মুসলমান ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর জন্য জঘন্য কর্মটি করে। তাহলে এখন কি ইসলামিক ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সেই মুসলমানের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন করবে? কখনোই না।

ফেসবুকের পোস্টকে কেন্দ্র করে বাঙলাদেশে পূর্বেও এমন ঘটনা ঘটেছিলো। ২০১২ সাল থেকে এই ধরণের ঘটনা অসংখ্যবার ঘটেছে। প্রতিবারই প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছিল যে হিন্দুরা বা বৌদ্ধরা মুসলমানদের নবী কিংবা আল্লাহ্‌ কিংবা কাবা শরীফের অবমাননা করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, মুসলমানেরাই মূর্তি ভাঙতে আগ্রহী বলেই এই ধরণের প্রোপাগান্ডাকে সমর্থন করে আক্রমণ চালায়। এ-দেশের মুসলমানদের মধ্যে হিন্দু ও বৌদ্ধবিদ্বেষ ভয়াবহরূপে। মুসলমানদের আক্রমণের কারণে হিন্দুরা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে। মুসলমানদের এই ভয়াবহ রূপ স্বাধীন বাঙলাদেশের জন্য কলঙ্কের।

সবাই জানে যে, এই ধরণের কর্মকাণ্ড কখনোই বাঙলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসীর দ্বারা সম্ভব নয়। মুসলমানেরাও জানে যে এই ধরণের কর্ম হিন্দু-বৌদ্ধদের দ্বারা সম্ভব নয়। তারপরও তারা প্রতিবার ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের দোষ দিয়ে আক্রমণ চালায়।এবং পরবর্তীতে না বোঝার ভান করে। বাঙলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের দেশ। এখানে সংখ্যালঘুরা সব সময়ই নির্যাতিত এবং আক্রান্ত। ধর্মীয় অনুভূতির নাটক সাজিয়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নির্যাতন করে এ-দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলিমেরাই মূলত প্রমাণ করে মুসলমানেরা কতোটা আক্রমণাত্মক, ধ্বংসাত্মক, হিংসাত্মক, অসহিষ্ণু।

এই বাঙলাদেশ একজন নাস্তিকের যতোটুকু, একজন আস্তিকের ততোটুকুই। একজন হিন্দুর যতোটুকু, একজন বৌদ্ধের ততোটুকুই। একজন খ্রিষ্টানের যতোটুকু, একজন মুসলমানের ততোটুকুই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 6 =